নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: বাড়ি তৈরির প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা পেয়েছিলেন। কিন্তু সে টাকা ফেরত দিতে পঞ্চায়েত অফিসে গিয়েছিলেন কাকদ্বীপ ব্লকের দুই উপভোক্তা। বক্তব্য, তাঁরা অসহায়। বাড়ি তৈরির বাড়তি টাকা দিতে পারবেন না। কাজের তদারকি করতেও কিছু সমস্যা আছে। এই অবস্থায় মুশকিল আসান হয়ে দাঁড়ায় দুই গ্রাম পঞ্চায়েত, ওই উপভোক্তাদের বাড়ি তৈরির দায়িত্ব নিতে এগিয়ে আসে। দুই উপভোক্তার মধ্যে একজনের নির্মাণ শুরু হয়ে গিয়েছে। অন্যজনের কাজ সূচনার দোরগোড়ায়।
অন্যদিকে বাড়ি দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়ার আগেই জেলার চার হাজার উপভোক্তা বাড়ি তৈরির কাজ শেষ করে ফেলেছেন। এর মধ্যে গোসাবা, ক্যানিং এক, ভাঙড় দু’নম্বর ব্লকে সবথেকে বেশি নির্মাণ হয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রায় ৭৫ হাজার উপভোক্তার দ্বিতীয় কিস্তির টাকা জেলায় পাঠিয়ে দিয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তর।
কাকদ্বীপের পশ্চিম পুকুরবেড়িয়ার বাসিন্দা ফাল্গুনী গিরি। তাঁর পরিবারে কোনও পুরুষ সদস্য নেই। বহুদিন আগে স্বামীর মৃত্যু হয়েছে। এক সন্তান কর্মসূত্রে কেরলে থাকেন। এই অবস্থায় বাড়ি তৈরির কাজ সম্পন্ন করতে তাঁর সমস্যা আছে বলে পঞ্চায়েতকে জানান। কোথা থেকে সামগ্রী কিনবেন, মিস্ত্রিই বা পাবেন কোথায় ইত্যাদি নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। পাশাপাশি আর্থিক সমস্যা তো ছিলই। তাই টাকা পেয়েও সেটা ফেরত দিতে চেয়েছিলেন ফাল্গুনীদেবী। অন্যদিকে অভাবের সংসারে মেয়ের বিয়ের কথা ভেবে বাংলার বাড়ির টাকা ফিরিয়ে দিতে গিয়েছিলেন কাকদ্বীপের কালিনগরের বাসিন্দা শিপ্রা দাস। তাঁর বাড়িতে বৃদ্ধ শ্বশুর ছাড়া কোনও পুরুষ নেই। স্বামী কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে থাকেন। তাই বাড়ি নির্মাণের তদারকি করা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। এরপর ফাল্গুনীদেবী ও শিপ্রাদেবীর বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার দায়িত্ব নেয় প্রতাপাদিত্যনগর এবং শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণ গ্রাম পঞ্চায়েত। সেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। পঞ্চায়েতের উদ্যোগে চিন্তামুক্ত দুই মহিলা।