সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: উদয়নারায়ণপুরের বকপোতা সেতু। দামোদর নদীর উপরে তৈরি হওয়া এই সেতুর আশেপাশের শোভা দেখতে রোজ প্রচুর মানুষ ভিড় করে এই জায়গায়। এবার এই সেতুর কাছে পর্যটন কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিল উদয়নারায়ণপুর পঞ্চায়েত সমিতি। ইতিমধ্যে ওই এলাকা পাঁচিল দিয়ে ঘিরে উচ্চ বাতিস্তম্ভ বসানোর কাজ শুরু হয়েছে। উদয়নারায়ণপুর পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে খবর, পর্যটন কেন্দ্র তৈরির জন্য ডিপিআর তৈরি করে রাজ্য পর্যটন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।
হাওড়া জেলার শেষ প্রান্তে অবস্থিত বকপোতা সেতু হাওড়া ও হুগলির যোগাযোগের অন্যতম করিডর। বিশেষ করে হুগলি জেলা থেকে উদয়নারায়ণপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা মানুষদের কাছে অন্যতম পথ দামোদর নদীর উপর নির্মিত এই সেতু। ১৯৭৩ সালে এই সেতুটি তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে সেতুটি ভগ্নপ্রায় হয়ে যাওয়ায় পুরনোটির পাশেই নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সেই মতো ২০১৫ সালে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে সাধারণের ব্যবহারের জন্য সেটি খুলে দেওয়া হয়। এই সেতুর দুই দিকে নদীর দুই পাড়ে বিস্তীর্ণ জমি। বছরের নানা সময় ফুল ও সব্জিচাষের মেলবন্ধনে জায়গাটি বেশ মনরোম ওয়ে ওঠে। শীতের সময় প্রচুর মানুষ এখানে পিকনিক করতে আসে। এছাড়াও রোজ এই এলাকায় প্রচুর মানুষ ঘুরতে আসে। তবে এলাকাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আকর্ষণীয় হলেও সেভাবে বসার জায়গা, পার্ক বা শৌচালয় না থাকায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পর্যটকদেরও সমস্যায় পড়তে হয়। এইসব বিষয় মাথায় রেখেই ওখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে উদয়নারায়ণপুর পঞ্চায়েত সমিতি।
ওই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কল্যান গায়েন জানান, মূলত এলাকার বিধায়ক সমীর পাঁজার উদ্যোগেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আট লক্ষ টাকা ব্যয়ে পাঁচিল দেওয়া ও বাতিস্তম্ভ বসানোর কাজ চলছে। পাশাপাশি পর্যটক ও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে নদীর পাড়ে বসার জায়গা, পার্ক, রেস্তরাঁ, ক্যাফেটেরিয়া, কটেজ ও শৌচালয় তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। ডিপিআর তৈরি করে পর্যটন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে। আর বিধায়ক সমীর পাঁজা বলেন, নিরিবিলি পরিবেশে একটু শান্তিতে সময় কাটানোর লক্ষ্যে ওই এলাকায় একটি পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।