Bartaman Logo
৩০ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পঞ্চায়েত প্রধানরা চাপে পড়ে ‘স্বেচ্ছায়’ লিখছেন ইস্তফাপত্র! ভগবানপুর, কাঁথি, রামনগরে ঢালাও পদত্যাগ

হুমকির মুখে পড়ে ‘স্বেচ্ছায়’ ইস্তফা দিচ্ছেন পঞ্চায়েত প্রধান, উপপ্রধানরা।

পঞ্চায়েত প্রধানরা চাপে পড়ে ‘স্বেচ্ছায়’ লিখছেন ইস্তফাপত্র! ভগবানপুর, কাঁথি, রামনগরে ঢালাও পদত্যাগ
  • ২৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: হুমকির মুখে পড়ে ‘স্বেচ্ছায়’ ইস্তফা দিচ্ছেন পঞ্চায়েত প্রধান, উপপ্রধানরা। কিন্তু, ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় কি এভাবে ইস্তফা দেওয়া যায়? কিংবা ইস্তফা দিলে কি সেটা গ্রহণযোগ্য? এমনই প্রশ্ন উঠছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় একাধিক পঞ্চায়েতে। তা সত্ত্বেও চাপ প্রয়োগে ইস্তফার হিড়িক থামছেই না! 
বৃহস্পতিবার ভগবানপুর-১ ব্লকের শিমুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘটনা। সেখানে বিজেপির লোকজন হানা দেয়। তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানকে ইস্তফা দিতে চাপ দেওয়া হয় বলে অভযোগ। অগত্যা মহিলা প্রধান শ্যামলী বেতশর্মা ইস্তফাপত্রে লেখেন—‘‘আমি আজ স্বেচ্ছায় প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দিলাম।’ তাঁকে ঘিরে ৪০-৫০জন বিজেপি নেতা-কর্মী। ক্যামেরার সামনে কী বলতে হবে, সেটাও বলে দিচ্ছেন এক বিজেপি কর্মী। শ্যামলীদেবীর চোখেমুখে আতঙ্কের ছাপ। শেষে বিডিও অফিসে নিয়ে গিয়ে তাঁর ইস্তফাপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। নেতৃত্বে ছিলেন বিজেপির ভগবানপুর-৪ মণ্ডল কমিটির সভাপতি বরুণাভ মাইতি। উপপ্রধান দীপ্তেন্দু মাইতি বলেন, ‘আর্থিক অনিয়মনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে কয়েকজন অফিসে এসে হুজ্জুতি করে প্রধানকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করিয়েছে।
গত ১৮ মে ভগবানপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অরূপসুন্দর পণ্ডাকেও একইভাবে চাপ দিয়ে ইস্তফা দিতে বাধ্য করে বিজেপি। ভগবানপুর-১ ব্লকের গুড়গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রিণ্টুকুমার রানা বলেন, ‘৪ মে-র পর ইস্তফা দিতে প্রচণ্ড চাপ আসছে। এই চাপ সহ্য করে কাজ করা কঠিন। আমিও আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ইস্তফা দেব।’ 
অরূপসুন্দর কিংবা শ্যামলী উদাহরণমাত্র। গত ২২ মে রামনগর-১ব্লকের পদিমা-১পঞ্চায়েত প্রধান অশোক চন্দ এবং পঞ্চায়েতের আরও সাতজন সদস্য ইস্তফা দিয়েছেন। পদিমা-১ এলাকার মধ্যেই পড়ে নিউ দীঘা। অশোকবাবু নিজে হোটেল মালিক এবং নিউ দীঘা হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিও। রবিবাবর তিনি বলেন, ‘এত চাপ নিয়ে কাজ করে যাওয়া সম্ভব নয়।’ কাঁথি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের হৈপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নিতাই দাস ইস্তফা দিয়েছেন। শিমুলিয়া পঞ্চায়েতের ঘটনা নিয়ে বরুণাভ মাইতি বলেন, ‘ভগবানপুর-১ ব্লকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত পঞ্চায়েত হল শিমুলিয়া। অ্যাম্বুলেন্স থেকে ময়লা বিক্রির গাড়ির হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না। ১০০দিনের কাজে দুর্নীতি হয়েছে। প্রধান হিসেব দিতে না পেরে ইস্তফা দিয়েছেন।’

Advertisement

  

 

সম্পর্কিত সংবাদ