সিউড়ীতে আশ্রম প্রতিষ্ঠা হবার পর, প্রথম দিকে নিয়ম হয়েছিল যে, মন্দিরের মূল সিংহাসনে বা পূজা-বেদীতে পঞ্চদেবতা ভিন্ন অন্য কোনও দেবদেবীর মূর্তি বসানো হবে না। পঞ্চদেবতার মধ্যে ছিলেন—সংঘগুরু ঠাকুর সত্যানন্দদেব, পরমগুরু স্বামী অভেদানন্দজী, শ্রীশ্রীঠাকুর রামকৃষ্ণদেব, শ্রীশ্রীমা সারদাদেবী ও মা ভবতারিণী। গোপাল এবং আরও অনেক দেবদেবীর বিগ্রহ ও শিলামূর্তি মন্দিরের দেওয়ালের একটি তাকে বা কুলুঙ্গিতে থাকতেন। সেখানেই তাঁদের স্নান পূজা হ’ত। একদিন গোপালজী তাঁর সাজের বায়না জানালেন শ্রীঅর্চনা মা’র কাছে। সাজ-পোষাক সুরু হতেই মায়ের মনে হয়েছে গোপালকে ওই কুলুঙ্গি থেকে এনে সিংহাসনে বসানোর কথা। কিন্তু নিয়ম দাঁড়ায় বাধার রূপ ধরে। মাঝামাঝি একটা সমাধান ক’রে কাঁচের সিংহাসনের নীচে পাথরের বেদীর যে অংশ সামনে পর্য্যন্ত রয়েছে, সেইখানে দুটো ছোট রূপোর সিংহাসনে গোপাল ও দধিবামনকে বসিয়ে, বেদীর দুপাশে স্থাপন করা হ’ল। ঐ ভাবে দুচার দিন যেতে না যেতে মায়ের মনে আবার একটা খুঁতখুঁত ভাব। ভাবনা হচ্ছে এত ধারে রাখা কি ঠিক হ’ল? যদি বেড়ালে উল্টে দেয়? ঠাকুরকে বলতেই ঠাকুর বসলেন ধ্যানে। প্রথমেই গোপাল স্বয়ং এসে উপস্থিত। ঠাকুরের কাছে আবদার ক’রে বলছেন, “আমি সিংহাসনে বসবো।” ঠাকুর মনে মনে ভাবছেন—‘গোপাল তো ছোট ছেলে, ও তো আবদার করবেই, তবু দেখি মা ভবতারিণী কি নির্দেশ দেন।’ নির্দেশ পেলেন মায়ের ‘গোপাল মূল সিংহাসনেই বসবে।’ ভেসে গেল নিয়ম। জয় হ’ল গোপাল সোনার। তার আলোক-উজ্জ্বল মুখে ফুটে উঠলো সোনার হাসি। আর সব নিয়মের মালিক ঠাকুর সানন্দে আদেশ দিলেন—গোপালজী, দধিবামন-নারায়ণ আর মা-লক্ষ্মী এঁরা তিনজনই বসবেন মূল সিংহাসনে।


