Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

ব্রিটেনে নাবালিকাদের ধর্ষণ করছে পাক বংশোদ্ভূতদের ‘গ্রুমিং গ্যাং’! পার্লামেন্টে ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ এমপির

ব্রিটেনে নাবালিকাদের ধর্ষণ করছে পাক বংশোদ্ভূতদের গ্রুমিং গ্যাং। এমপি রুপার্ট লোর বক্তব্যে প্রকাশিত তথ্য চাঞ্চল্যকর। বিস্তারিত পড়ুন।

ব্রিটেনে নাবালিকাদের ধর্ষণ করছে পাক বংশোদ্ভূতদের ‘গ্রুমিং গ্যাং’! পার্লামেন্টে ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ এমপির
  • ৩ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

লন্ডন: দল বেঁধে নাবালিকাদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। একজন বালিকাকে ৬০০ থেকে ৭০০ জন পর্যন্ত ধর্ষণ করত! তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা মূলত পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। গত কয়েক বছর ধরে ব্রিটেনের বিভিন্ন প্রদেশে এই ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর লালসার শিকার হয়েছে হাজার হাজার নাবালিকা। সম্প্রতি পার্লামেন্টে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেন নির্দল ব্রিটিশ এমপি রুপার্ট লো। নির্যাতিতাদের বয়ান পড়ে শোনানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যর্থতার কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘সংসদকে এই বীরাঙ্গনাদের বয়ান শোনার আরজি জানাচ্ছি। এবার অন্তত এই জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হোক।’

Advertisement

নির্যাতিতাদের বয়ানে নারকীয় অত্যাচারের ছবি ধরা পড়েছে। একজনের কথায়, ‘ধর্ষণের পর আমার গোপনাঙ্গে মদের বোতল ভেঙে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন আমার বয়স ১২ বা ১৩ বছর।’ আরেকজনের দাবি, ‘তিন বছর ধরে আমাকে ৬০০ থেকে ৭০০ জন ধর্ষণ করেছিল।’ তৃতীয় নির্যাতিতার বক্তব্য, ‘পানীয়ের মধ্যে মাদক মিশিয়ে আমাকে ধর্ষণ করা হয়। ব্যথার জেরে বসতে পর্যন্ত পারছিলাম না। হাসপাতালে গিয়ে লজ্জায় সত্যি কথাটা পর্যন্ত বলতে পারিনি। ওরা শুধু ওষুধ দিয়ে আমাকে ছেড়ে দেয়। তখন আমার বয়স ১৫ বছর।’ 
অনেক ক্ষেত্রে নাবালিকাদের সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করত অভিযুক্তরা। জাতপাত ও বর্ণ নিয়ে গালিগালাজ পর্যন্ত করা হত। এক নির্যাতিতা বলেন, ‘একটি ঘরের মধ্যে কয়েকটি কুকুরকে এনে ছেড়ে দেওয়া হয়। ভিতরে কয়েকজন পুরুষ ছিল। আমি ভয় পাওয়া সত্ত্বেও ওরা সাহায্য করেনি। উলটে কুকুরটা আমায় ধর্ষণ করে কি না, তা নিয়ে বাজি লড়ছিল। হ্যাঁ, শেষমেশ সেটাই হয়েছিল। পুরো ঘটনার ভিডিয়ো তুলে রাখা হয়।’ আরেকজনের অভিযোগ, ‘বর্ণের ভিত্তিতে অত্যাচার চালানো হত। আমার সঙ্গে যারা ছিল তারা প্রত্যেকেই শ্বেতাঙ্গ।’
২০০১ সাল নাগাদ প্রথমবার ইয়র্কশায়ারের রদারহামে গ্রুমিং গ্যাংয়ের অত্যাচারের ঘটনা সামনে আসে। জানা যায়, শ্বেতাঙ্গ নাবালিকাদের ধর্ষণ করা হচ্ছে। তবে অভিযুক্তদের সাজা দিতে দিতে ন’বছর কেটে যায়। বালিকাদের উপর অত্যাচার চালানোর অভিযোগে পাঁচ পাক বংশোদ্ভূত পুরুষকে বন্দি করা হয়। পরে জানা যায়, অক্সফোর্ড, ব্রিস্টল, টেলফোর্ড সহ কমপক্ষে ৫০টি শহরে এই চক্র সক্রিয় রয়েছে। গত বছর এবিষয়ে স্বাধীনভাবে তদন্ত শুরু করেন রুপার্ট। তাতেই দেশজুড়ে চলতে থাকা এই মারাত্মক অপরাধের কথা প্রকাশ্যে আসে। জানা যায়, কমপক্ষে ৮৫টি এলাকায় দল বেঁধে নাবালিকার ধর্ষণ করেছে ‘গ্রুমিং গ্যাং’! অনেক ক্ষেত্রে পুলিশকর্মীরা পর্যন্ত এই অপরাধে যুক্ত হয়েছেন। বিবৃতি দিয়ে রুপার্ট জানান, ‘অভিযুক্তরা মূলত পাক বংশোদ্ভূত। প্রশাসনিক গাফিলতির বিষয়টিও প্রকাশ্যে এসেছে।’

সম্পর্কিত সংবাদ