নয়াদিল্লি: ৯ মে গভীর রাত। ‘অপারেশন সিন্দুর’ শুরুর পর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ তখন চরম পর্যায়ে। ইসলামাবাদের সেনার হামলার জবাবে প্রত্যাঘাত করছে নয়াদিল্লি। পাক সেনার ঘাঁটি লক্ষ্য করে আছড়ে পড়ছে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র। রাত আড়াইটে নাগাদ হঠাত্ই বেজে উঠল পাক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বিশেষ ফোন। ঘুম থেকে উঠে ফোন ধরলেন শাহবাজ শরিফ। সিকিওর লাইনের ওপারে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির। উদ্বিগ্ন গলায় জানালেন, ভারতীয় সেনার ব্যালিস্টিক মিসাইল আছড়ে পড়েছে ইসলামাবাদের নাকের ডগায়, নুর খান এয়ারবেসে। রাজধানী থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে। এছাড়া অন্য জায়গাতেও হামলা চলেছে। যুদ্ধবিরতির সাত দিন পর, শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানীতে প্রকাশ্য সভায় দাঁড়িয়ে একথা স্বীকার করে নিলেন সেদেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ স্বয়ং। সাফ জানালেন, ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তছনছ হয়ে গিয়েছে পাক বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান ঘাঁটি নুর খান এয়ারবেস। এতদিন ধরে পাকিস্তানি সেনা বারবার দাবি করে এসেছে, ভারতের প্রত্যাঘাতে তেমন কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। যদিও উপগ্রহ চিত্রে তার উল্টোটাই প্রমাণিত। চাপের মুখে এবার পাক প্রধানমন্ত্রীই সেকথা মেনে নিতে বাধ্য হলেন।
পাক বায়ুসেনার রসদ পরিবহণে ব্যবহৃত সাব-২০০০, সি-১৩০ হারকিউলিস, মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরার কাজে ব্যবহৃত আইএল-৭৮ রিফুয়েলারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও আধুনিক প্রযুক্তির বিমান রাখা থাকে নুর খান ঘাঁটিতে। একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রও রয়েছে সেখানে। ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময়ও এই এয়ারবেসকে টার্গেট করা হয়েছিল। এবারও একই পন্থায় ইসলামাবাদের কাঁপুনি ধরিয়ে দেয় ভারতীয় সেনা। এদিন ইসলামাবাদের পাকিস্তান মনুমেন্টে এক অনুষ্ঠানে শাহবাজের গলায় উঠে এসেছে সেকথা। তিনি বলেন, ‘৯-১০ মে মাঝরাত আড়াইটে নাগাদ জেনারেল আসিম মুনির আমাকে সিকিওর লাইনে ফোন করেন। উনি আমাকে জানান, ভারতের ব্যালিস্টিক মিসাইল নুর খান এয়ারবেস সহ অন্যত্র আঘাত করেছে।’ ওইদিন মুরিদ, রফিকি বায়ুসেনা ঘাঁটিতেও প্রত্যাঘাত করেছিল ভারত। সেখানেও বিমানের হ্যাঙ্গার, রানওয়ে সহ বিভিন্ন পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নুর খান ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে শাহবাজ মুখ না খুললেও একাধিক উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, বিমানঘাঁটির একাংশ কার্যত ধূলিসাত্। এই প্রত্যাঘাতের পর, ১০ মে দুপুরেই ভারতীয় সেনার ডিজিএমওকে ফোন করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন পাকিস্তানি সেনার ডিজিএমও।
শরিফের স্বীকারোক্তিতে উল্লসিত ভারতের সব রাজনৈতিক দল। বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, ‘এতেই প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে যে, কতটা নিখুঁতভাবে ভারত প্রত্যাঘাত করেছে!’ উদ্ধবপন্থী শিবসেনা নেত্রী প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদীর কটাক্ষ, ‘ভারত যখন পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকে ধ্বংস করছে, তখন শরিফের কাছে কোনও খবরই নেই!’