দুবাই: বল গড়ানোর আগেই পাক শিবিরে মোক্ষম আঘাত! রবিবার টসের সময় চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে হাতই মেলাননি সূর্যকুমার যাদব। উপেক্ষাতেই জবাব দেন ভারত অধিনায়ক। বার্তা স্পষ্ট, সন্ত্রাসে মদতকারীদের সঙ্গে কোনওরকম সৌজন্যই চলে না। ম্যাচ শেষেও নিজেদের অবস্থান থেকে সরেনি টিম ইন্ডিয়া। মাঠ ছাড়ার সময় কেউই পাকিস্তান খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাননি। আর পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে সূর্যর মুখে উঠে এল জঙ্গি হানার প্রসঙ্গ। জন্মদিনে ছক্কা মেরে ম্যাচ জিতিয়ে এসে বললেন, ‘একটা কথা জানানোর এটাই আদর্শ মঞ্চ। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হানায় নিহতদের পরিবারদের পাশে দাঁড়াচ্ছি আমরা। এই জয় উৎসর্গ করছি সাহসিকতার পরিচয় রাখা সেনাবাহিনীকে। আশা করব, তাঁরা এভাবেই আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করবেন। আর মাঠে আমরা চেষ্টা করব তাঁদের মুখে হাসি ফোটানোর।’
আসলে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা কেবল নাশকতা ছিল না। ছিল ভারতের ঐক্য, সার্বভৌমত্বে আঘাত। ধর্ম জিজ্ঞাসা করে ২৬ জন পর্যটককে খুন করে পাকমদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদীরা। সেই ক্ষত এখনও আসমুদ্রহিমাচলের হৃদয়ে টাটকা। এমন আবহে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিরুদ্ধে এশিয়া কাপে মাঠে নামাকে অনেকেই ভালোভাবে নেননি। রাগে ফুঁসছিলেন তাঁরা। ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব অবশ্য ক্ষোভ প্রকাশের মঞ্চ হিসেবে ক্রিকেট মাঠকেই বেছে নিলেন। ড্রেসিং রুমেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন সূর্য। কোচ গৌতম গম্ভীর এবং সতীর্থদের সাফ জানান, টসের সময় পাক অধিনায়ক সলমন আগার সঙ্গে করমর্দন করবেন না। নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে সূর্য ‘হ্যান্ডশেক’ করেননি পাক অধিনায়কের সঙ্গে। উপস্থাপক রবি শাস্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সলমন এগিয়ে এলেও এড়িয়ে যান তিনি।
সূর্যর এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল। এর জন্য তাঁকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন নেটিজেনরা। একজন লেখেন, ‘পাকিস্তানের মদতে নিরীহ মানুষদের জঙ্গিরা মারবে, আর আমরা সৌজন্য দেখাব? এটা হতে পারে না।’ গ্যালারিতেও ছিল যুদ্ধং দেহি আবহ। কয়েকজন ভারতীয় সমর্থক পাকিস্তান বিরোধী স্লোগান তোলেন। কয়েকজন আবার ভারতীয় সেনাকে কুর্নিশ জানিয়ে হোর্ডিং এনেছিলেন। টিম ইন্ডিয়ার দাপট সমর্থকদের আবেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। দলকে জিতিয়ে ফেরার সময়ও পাক ক্রিকেটারদের সঙ্গে করমর্দন করেননি সূর্য। শিবম দুবেকে সঙ্গে নিয়ে সটান হাঁটা দেন ড্রেসিং-রুমের দিকে। বাকিরাও বিপক্ষের সঙ্গে হাত মেলাননি। এরপর মাইক হাতেই নিজেদের মনোভাব স্পষ্ট জানিয়ে দেন সূর্য।
এদিকে, দুবাইয়ে ম্যাচের আগে পাকিস্তানের জাতীয় সঙ্গীত নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে। শুরুতে নাকি ভুল করে অন্য গান চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে অবশ্য তা শুধরে নেওয়া হয়। বাইশ গজে যদিও সূর্যদের গনগনে পারফরম্যান্সে সংশোধনীর কোনও সুযোগ পায়নি সলমন আগা ব্রিগেড!