Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

পাকিস্তান-চীন পরমাণু পরীক্ষা চালাচ্ছে, আমেরিকারও প্রয়োজন: ডোনাল্ড ট্রাম্প

আট-আটটি যুদ্ধ থামানোর দাবি। নিজেকে ‘আধুনিক কালের বুদ্ধ’ প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তবু জোটেনি চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার।

পাকিস্তান-চীন পরমাণু পরীক্ষা চালাচ্ছে,  আমেরিকারও প্রয়োজন: ডোনাল্ড ট্রাম্প
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৫ ১৬:১১
Prefer us on Google

ওয়াশিটন ও নয়াদিল্লি: আট-আটটি যুদ্ধ থামানোর দাবি। নিজেকে ‘আধুনিক কালের বুদ্ধ’ প্রমাণে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তবু জোটেনি চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরস্কার। তাই কি ‘খোলস’ ছেড়ে বেরিয়ে এলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প? মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশে সত্যিই কি ৩৩ বছরের বিরতি ভেঙে ফের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষার পথে আমেরিকা? কিন্তু কবে? রাখঢাক না রেখে এবার ট্রাম্পের ঘোষণা, আপনারা শীঘ্রই জেনে যাবেন। আর ওয়াশিংটনের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের যুক্তি সাজাতে গিয়ে একযোগে রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া ও পাকিস্তানকে কাঠগড়ায় তুললেন তিনি। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বিস্ফোরক দাবি, আমেরিকার হাতে এই মুহূর্তে যত পরমাণু অস্ত্র আছে তার মাধ্যমে বিশ্বকে ১৫০ বার উড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। কিন্তু অন্যান্য দেশ ‘গোপনে’ পরমাণু পরীক্ষা চালাচ্ছে। তাই আমেরিকাও সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোন কোন দেশ চুপিসারে পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে।  এর তালিকায়ও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, ‘রাশিয়া পরীক্ষা করছে, চীন পরীক্ষা করছে। উত্তর কোরিয়া ও পাকিস্তানও নিশ্চিতভাবেই পরীক্ষা করছে। কিন্তু ওরা মুখে বলবে না। আপনারা জানেন, আমদের সমাজ মুক্ত। আমরা ওদের থেকে আলাদা। ওদের এবিষয়ে খবর প্রকাশ করার মতো সাংবাদিক নেই। কিন্তু আমাদের আছে। তাই আমরা খোলাখুলি কথা বলি।’ 

Advertisement

মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি সত্যি হলে, ভারতের দুই প্রতিবেশী দেশ চীন ও পাকিস্তান নতুন করে পরমাণু পরীক্ষা চালাচ্ছে। ফলে, একইসঙ্গে দুই সীমান্তে নয়া বিপদ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে পারে নয়াদিল্লির। যদিও বিশেষজ্ঞদের একটা অংশ আবার ভারতের সামনে নয়া সুযোগের দরজা খুলে যেতে পারে বলেও মনে করছেন। কিন্তু, কী সেই সুযোগ? ভারতের ঘোষিত নীতি হল, আগে আক্রান্ত না হলে পরমাণু অস্ত্রের ব্যবহার করা হবে না। শুধু তাই নয়, ১৯৯৮ সালে পোখরানে দ্বিতীয়বার পরমাণু বিস্ফোরণের পর থেকে ভারত স্বেচ্ছায় এধরনের কর্মসূচি বন্ধ রেখেছে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেভাবে সম্ভাব্য পরীক্ষার যুক্তি হিসেবে একযোগে রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়া ও পাকিস্তানের নাম নিয়েছেন, তাতে ভারতের সুবিধাই হবে। দুই প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান ও চীনের মোকাবিলায় ভারতও যদি নতুন করে পরীক্ষার পথে হাঁটে, তাহলে তা অযৌক্তিক হবে না। বিশেষ করে হাইড্রোজেন বোমার শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে তা বড় সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। ডিআরডিওর কে সান্থানামের মতো বিজ্ঞানীদের একটা অংশ দাবি করেন, ১৯৯৮ সালে শেষবারের পরীক্ষায় প্রত্যাশামাফিক ফল মেলেনি। সরকারিভাবে ৫৮ কিলোটনের দাবি করা হলেও বিজ্ঞানীদের ওই অংশের বক্তব্য ছিল, বাস্তবে ১০ থেকে ১৫ কিলোটনের বেশি শক্তি মেলেনি সেবার। যদিও পরমাণু শক্তি দপ্তরের তৎকালীন চেয়ারম্যান রাজাগোপাল চিদম্বরম সেই দাবি মানতে চাননি।

সম্পর্কিত সংবাদ