ইসলামাবাদ ও নয়াদিল্লি: ৪৮ ঘণ্টার সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়েছে ঠিক কথা। কিন্তু পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। এরই মধ্যে সীমান্তের সামরিক ঘাঁটি ছেড়ে ‘পলাতক’ পাকিস্তানি সেনাকর্মীদের পোশাক নিয়ে আফগানিস্তানের রাস্তায় প্রদর্শন করতে দেখা গেল তালিবান যোদ্ধাদের। পাক সেনার হাতছাড়া ট্যাঙ্ক নিয়েও ঘুরল তারা। তালিবান যোদ্ধাদের ‘জয় উদযাপনে’র এইসব ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়েছে। তালিবান নেতৃত্বের দাবি, ইসলামাবাদের অনুরোধেই সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে তারা। ঠিক উলটো দাবি করছে পাক সরকার। আর এই সাময়িক যুদ্ধবিরতি যে বাস্তবে ঠুনকো, তা বুঝেই ফের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বারস্থ হল সন্ত্রস্ত পাক সরকার। শুধু তাই নয়, আফগান সীমান্তের ক্ষতে নাজেহাল ইসলামাবাদ অজুহাত খুঁজতে এবার ভারতকে দায়ী করতে শুরু করেছে। তাদের অভিযোগ, ভারতের হয়ে ‘ছদ্ম লড়াই’ চালাচ্ছে আফগানিস্তান। এই ভিত্তিহীন অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারত বলেছে, নিজেদের ব্যর্থতার দায় প্রতিবেশীদের ঘাড়ে চাপানো পাকিস্তানের পুরনো অভ্যেস।
পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য,আফগানিস্তানের সঙ্গে চলতি যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে। কারণ, তালিবান সরকারের সিদ্ধান্তগুলির নেপথ্যে ভারতের কলকাঠি রয়েছে। বর্তমানে দিল্লির হয়ে ছদ্ম যুদ্ধে লড়ছে কাবুল। মুত্তাকি (আফগান বিদেশমন্ত্রী) সপ্তাহব্যাপী ভারত সফর করে ফিরে এসেছেন। সেখান থেকে তিনি কী পরিকল্পনা সঙ্গে নিয়ে ফিরেছেন, সেদিকে নজর রাখতে হবে। এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদীদের মদত ও জঙ্গি গোষ্ঠীগুলিকে আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে পুরনো রেকর্ড রয়েছে পাকিস্তানের। আফগানিস্তান নিজেদের এলাকার সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে চাইছে। এতেই পাকিস্তানের গায়ে জ্বালা ধরেছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তির প্রতি ভারতের ধারাবাহিক সমর্থনের বিষয়টি উল্লেখ করে জয়সওয়াল আরও বলেছেন, আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা ও স্বাধীনতার প্রতি ভারত দায়বদ্ধ।
এরইমধ্যে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফকে ফের মার্কিন প্রেসিডেন্টের পদলেহন করতেও দেখা গিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, পাক-আফগান যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প মধ্যস্থতা করতে চাইলে আমরা স্বাগত জানাব। অতীতে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা যুদ্ধে ইন্ধন জোগাতেন। এই প্রথম কোনও প্রেসিডেন্ট (ট্রাম্প) যুদ্ধ থামাচ্ছেন। ঘটনাচক্রে, ট্রাম্প নিজেই গত সপ্তাহে পাক-আফগান যুদ্ধে হস্তক্ষেপের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।