Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গরিবের জন্য? মোদির ঢাক পেটানোই সার, কল্যাণী এইমসেও চড়া বিলের যন্ত্রণা

রায়গঞ্জ নাকি কল্যাণী—দীর্ঘ বিতর্ক শেষে কল্যাণীতেই গড়ে উঠেছে এইমস (অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস)। গত অক্টোবরে সেখানে চালু হয় হৃদরোগ বিভাগ।

গরিবের জন্য? মোদির ঢাক পেটানোই সার, কল্যাণী এইমসেও চড়া বিলের যন্ত্রণা
  • ২১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, কল্যাণী: রায়গঞ্জ নাকি কল্যাণী—দীর্ঘ বিতর্ক শেষে কল্যাণীতেই গড়ে উঠেছে এইমস (অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস)। গত অক্টোবরে সেখানে চালু হয় হৃদরোগ বিভাগ। ঢাক পিটিয়ে ক্যাথল্যাব ও হার্ট-লাং মেশিনের ভার্চুয়াল উদ্বোধন করেছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই পদক্ষেপ বাংলার গরিবদের জন্য বিরাট উপহার বলে প্রচারে তিনি কোনও খামতি রাখেননি। সাধারণ মানুষ ভেবেছিল, এবার তাহলে সামান্য খরচে মিলবে উন্নত চিকিৎসা। কিন্তু কোথায় কী! কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্রের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা এই উৎকর্ষকেন্দ্রে চিকিৎসা করাতে গিয়ে খরচ হচ্ছে মোটা টাকা। শুধুমাত্র চিকিৎসকের ফি বাবদ কোনও খরচ হচ্ছে না। তবে রোগ নির্ণয়ের জন্য কোনও পরীক্ষা হোক বা ওষুধপত্র—মেটাতে হচ্ছে চড়া বিল। যেমন, হৃদরোগে স্রেফ অ্যাঞ্জিওগ্রামের খরচ প্রায় ১০ হাজার টাকা। ফলে সামান্য খরচে সেরা গুণমানের চিকিৎসার আশায় ছুটে এসে হতাশ হতে হচ্ছে রোগী ও তাঁদের পরিবারকে। সূত্রের খবর, পরিস্থিতি এমন যে প্রতি মাসে হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে আসা প্রায় ৬০০ রোগীকে ‘রেফার’ করে দেওয়া হচ্ছে চার কিমি দূরে রাজ্য সরকারি গান্ধী মেমোরিয়াল হাসপাতালে। বহু রোগী আবার এইমসে খরচের বহর দেখে স্বেচ্ছায় যেতে চাইছেন অন্যত্র। প্রশ্ন উঠছে, রাজ্য সরকারি হাসপাতালে রোগ পরীক্ষা সহ ওষুধপত্রের জন্য তো কোনও খরচ হয় না। তাহলে কেন্দ্রীয় হাসপাতালে এত চড়া বিল কেন?  

Advertisement

চিকিৎসক ও পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাবে এমনিতেই সমস্যায় জর্জরিত কল্যাণী এইমস। সেখানে আউটডোর বা বহির্বিভাগে মাত্র ১০ টাকায় নাম রেজিস্ট্রেশন করে ডাক্তার দেখানো যায়। কিন্তু ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতেই ব্যাপক হয়রানির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। বর্তমানে এইমসের নিজস্ব অ্যাপ থেকে রেজিস্ট্রেশন এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট করা যায়। এছাড়া নির্দিষ্ট দু’টি মোবাইল নম্বরে সকাল ন’টা থেকে এগারোটার মধ্যে ফোন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট চাইতে হয়। রোগীদের একাংশের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, উভয় ক্ষেত্রেই সহজে ‘বুকিং’ পাওয়া যায় না। তার উপর রয়েছে আগে আসার ভিত্তিতে টোকেনের ব্যাপার। ভুক্তভোগীরা জানাচ্ছেন, সাত-দশ দিন চেষ্টা করে তবেই নাম লেখানো সম্ভব।
একদিকে আউটডোরে এত সাধ্যসাধনা, অন্যদিকে হৃদরোগ বিভাগে একের পর এক রোগীকে ‘রেফার’ করে দেওয়া— অত্যাধুনিক পরিকাঠামো থাকা কেন্দ্রীয় হাসপাতালে এমন সমস্যা কেন? নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এইমসের এক কর্তা জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড এই কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করে না। এখানে চিকিৎসকের ফি ছাড়া বেশিরভাগ পরিষেবা অর্থের বিনিময়ে মেলে। কোনও রোগীর অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন থাকলে সেক্ষেত্রেও টাকা গুনতে হয়। এমনকী বেড ভাড়া থেকে বেশিরভাগ ওষুধের খরচ বহন করতে হয় রোগীর পরিবারকেই। অথচ এইমসকে সরকারি হাসপাতাল ভেবে এমন বহু মানুষ আসেন, যাঁদের সামান্য টাকাপয়সা খরচের মতো আর্থিক অবস্থা নেই। তাই রোগীদের স্বার্থে গান্ধী মেমোরিয়াল বা অন্যান্য হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় অনেককে। কল্যাণী এইমসে পরিকাঠামোগত কোনও সমস্যা নেই বলেই দাবি তাঁর।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ