নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মোদি সরকার পহেলগাঁও হামলার প্রতিশোধ নিতে যা করবে, তা সমর্থন করবে কংগ্রেস। আগেই জানিয়ে দিয়েছে রাহুল গান্ধীর দল। তবে সরকার স্রেফ নিজের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে যাবে, বিরোধীদের সঙ্গে পরামর্শ করবে না, কোনও কিছু জানাবে না— এসব চলবে না। পহেলগাঁও হামলার পর এক সপ্তাহ পার হতে চলল, এখনও বিরোধীদের ডেকে কোনও বৈঠক করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিরোধী দলগুলির নেতাদের কারও সঙ্গে কথাও বলেননি। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। এআইসিসি সূত্রে খবর, আপাতত আরও কিছুদিন কংগ্রেস চুপ থাকবে। কিন্তু সরকার তাদের সম্পূর্ণ অবহেলা করলে ধীরে ধীরে সমালোচনা শুরু হবে। সরকারের তরফে নিরাপত্তার গাফিলতির ইস্যুটিকে তুলে ধরা হবে। একইসঙ্গে বাড়ানো হবে ‘সংবিধান বাঁচাও’ কর্মসূচি। ধর্মনিরপেক্ষতার ইস্যু তুলে ধরে আক্রমণ শানানো হবে বিজেপি এবং মোদির বিরুদ্ধে। যদিও তার আগে পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের দলের অবস্থান মেনে চলার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর।
এই প্রেক্ষিতেই সোমবার প্রধানমন্ত্রীর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। রাজস্থানে এক দলীয় সভায় তিনি বলেন, বিরোধীদের কেন গুরুত্বহীন হিসেবে দেখা হচ্ছে? জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে প্রত্যাঘাতের স্ট্র্যাটেজি আড়াল করলেও কেন পরামর্শ পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে না? কেন সব রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতানেত্রীকে ডেকে কোনও বৈঠক করছেন না প্রধানমন্ত্রী? এমনকী, এই প্রেক্ষিতে মোদি বিরুদ্ধে রাজনীতির অভিযোগও তুলেছেন খাড়্গে। বলেছেন, ‘গত ২৪ এপ্রিল সরকারের ডাকা সংসদীয় সর্বদলের বৈঠকে কেন হাজির ছিলেন না প্রধানমন্ত্রী মোদি? কেন সংসদে সেই বৈঠকে না এসে বিহারে গেলেন? পহেলগাঁও হামলার পরিস্থিতিতে সেইদিন বিহারের কর্মসূচিই তাঁর কাছে বড় হল? চলতি বছরে বিহারে ভোট। তাই বিহার নির্বাচনই তাঁর কাছে বড় হল? পহেলগাঁও নয়?’
সর্বদলীয় বৈঠকে মোদির অনুপস্থিতির সমালোচনা করেছিলেন তৃণমূলের লোকসভার নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর দাবি ছিল, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে মোদির উচিত সব দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে বৈঠক করার। যদিও মোদিকে আড়াল করতে রাজনাথ সিং যুক্তি দেন, ‘এ ধরনের বৈঠক সাধারণ আমিই সভাপতিত্ব করি।’