Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়ায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল ফেরাতে হাসপাতালে ঘুরছেন পদ্ম বিধায়করা

বাঁকুড়ার নীলাদ্রিশেখর দানা থেকে ওন্দার অমরনাথ শাখা, জেলার বিজেপি বিধায়করা প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতাল পরিদর্শন করছেন।

বাঁকুড়ায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল ফেরাতে হাসপাতালে ঘুরছেন পদ্ম বিধায়করা
  • ১৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ার নীলাদ্রিশেখর দানা থেকে ওন্দার অমরনাথ শাখা, জেলার বিজেপি বিধায়করা প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতাল পরিদর্শন করছেন। রবিবার সাতসকালে অমরনাথবাবু ওন্দা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। তিনি সেখানে গিয়ে হাসপাতালের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। হাসপাতাল চত্বরের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বিধায়ক উষ্মা প্রকাশ করেন। অবিলম্বে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্যব্যবস্থার হাল ফেরাতে পদ্ম বিধায়করা হাসপাতালে ঘুরছেন বলে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে। আগামী দিনে রাজ্য থেকেও বিজেপির চিকিৎসক বিধায়করা জেলায় জেলায় ঘুরে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর হালহকিকত খতিয়ে দেখবেন বলে বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছেন। 

Advertisement

অমরনাথবাবু বলেন, গত ১৫ বছরে রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর বারোটা বেজে গিয়েছে। সরকার এব্যাপারে উদাসীন ছিল। বর্তমান রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা সেইমত কাজ শুরু করেছি। এদিন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। আগামী দিনে ওন্দা বিধানসভার সান্তোর, নড়রা এলাকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে যাব। রাজ্যস্তর থেকেও আমাদের চিকিৎসক বিধায়করা জেলায় আসবেন।
বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, আমাদের সরকারের আমলে সম্মিলনী মেডিকেল সহ জেলার গ্রামীণ হাসপাতালগুলির অনেক উন্নয়ন হয়েছে। জঙ্গলমহলের রাইপুর গ্রামীণ হাসপাতালে বেড সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। খাতড়ায় এসএনসিইউ চালু সহ অন্যান্য হাসপাতালে প্যাথলজি পরীক্ষার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ফলে গত ১৫ বছরে বাঁকুড়ায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় উন্নতি হয়নি, এটা বলা উচিত নয়।  
নীলাদ্রিবাবু বলেন, আমি এর আগে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘুরে দেখেছি। সম্প্রতি কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েছিলাম। বাঁকুড়া সদরের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়ন আমাদের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে।   
বাঁকুড়া জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, সাধারণ মানুষকে সুষ্ঠু পরিষেবা প্রদানের জন্য জনপ্রতিনিদের সহযোগিতা প্রয়োজন। তাঁরা নিজ নিজ এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে নজর রাখলে ভাল হয়। সেক্ষেত্রে স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক, নার্সরাও কর্তব্য পালনে সতর্ক থাকবেন।
উল্লেখ্য, বাঁকুড়ায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার হাল খুব একটা ভাল নয়। রাজ্যের যে কয়েকটি মেডিকেল কলেজে ভাল চিকিৎসা মেলে, তারমধ্যে বাঁকুড়া সম্মিলনী অন্যতম হলেও জেলার গ্রামীণ এলাকার হাল অত্যন্ত খারাপ। মহকুমা হাসপাতাল হওয়া সত্ত্বেও খাতড়ায় ন্যূনতম পরিষেবা পাওয়া যায় না। খাতড়া মহকুমার আটটি ব্লকে একটিও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল নেই। তৃণমূল জামানায় জঙ্গলমহলের জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁরা খাতড়া মহকুমা হাসপাতাল সহ রানিবাঁধ, রাইপুর, সারেঙ্গা, তালডাংরার মতো প্রত্যন্ত এলাকার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। 
স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন সময়ে এনিয়ে আন্দোলন করলে পুলিশের সাহায্যে তাঁদের দমন করা হয়। ফলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মধ্যে থাকা ‘রোগ’ সারানো যায়নি। পরিকাঠামোর দোহাই দিয়ে কর্মীরাও অনেক সময় ফাঁকি মেরেছেন। তার ফল ভুগতে হয়েছে সাধারণ জঙ্গলমহলবাসীকে। খাতড়া মহকুমার তুলনায় বাঁকুড়া সদর ও বিষ্ণুপুরের হাল কিছুটা ভাল হলেও তা আশানুরূপ নয়। জেলাবাসীকে দুর্গাপুর অথবা কলকাতার হাসপাতালগুলির উপর নির্ভর করতে হয়। বিজেপি বিধায়করা ধারাবাহিক কাজ করলে পরিস্থিতি উন্নত হবে বলে জেলাবাসী আশা করছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ