নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১ নভেম্বর শুরু হয়েছে ২০২৫-২৬ মরশুম। এখনই সাড়ে ২৩ লক্ষাধিক কৃষক সরকারের কাছে ধান বেচার জন্য নাম লিখিয়েছেন। এই সংখ্যা আগামী দিনে আরও বাড়বে বলে মনে করছে খাদ্যদপ্তর। ২০২৪-২৫ মরশুমে সরকারের কাছে ধান বেচেছিলেন ১৬ লক্ষ ৪৫ হাজার জন কৃষক। ধান বিক্রয়ের প্রশ্নে প্রতিবছরই কৃষকের সংখ্যা বাড়ছে। ২০২৩-২৪ মরশুমে ১২ লক্ষ ৯৯ হাজার কৃষক সরকারের কাছে ধান বেচেছিলেন। সরকারের কাছে ধান বেচতে উৎসাহী কৃষকের সংখ্যা বৃদ্ধিতে খুশি খাদ্যদপ্তর। অনেক সংখ্যক ছোটো ও প্রান্তিক চাষি যাতে সরকারের কাছে ধান বেচে বেশি টাকা পেতে পারেন, তার জন্য খাদ্যদপ্তর সক্রিয়। এমএসপির পরিমাণ খোলাবাজারে ধানের দামের চেয়ে বেশি। বিশেষ করে নতুন ধান ওঠার পর খোলাবাজারে তার দাম সাধারণভাবে অনেকটাই কমে যায়। এইসময়ে সরকারের কাছে ধান বেচলে কৃষকের আয় কিছুটা বেশিই হয়। এবার প্রতি কুইন্টালের এমএসপি ২৩৬৯ টাকা।
খাদ্যদপ্তর সূত্রের খবর, প্রথম দিনে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ১৮৪২ জন কৃষক সরকারের কাছে ধান বেচেছেন। মোট ২৯০১ কুইন্টাল ধান সরকারি উদ্যোগে কেনা হয়েছে। নভেম্বরে নতুন ধান রাজ্যে বিশেষ ওঠে না। ফলে এমাসে ধান কেনার গতি কম থাকে। তাই গোটা মরশুমে মোট ৬৭ লক্ষ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে নভেম্বরের জন্য নির্দিষ্ট মাত্র ৬ লক্ষ টন। নভেম্বরের লক্ষ্যমাত্রা সাধারণভাবে কোনও বছরই পূরণ হয় না। নতুন ধান বেশি পরিমাণে ওঠা থেকে ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে ক্রয়ের পরিমাণ সর্বাধিক হয়। এবার এই দু-মাসে ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে যথাক্রমে ২৫ ও ২২ লক্ষ টন। ফেব্রুয়ারিতে লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে করা হয়েছে ৬ লক্ষ টন। খরিফ মরশুমে এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে মোট ৬২ লক্ষ টন এবং পরবর্তী দু-মাসে ৫ লক্ষ টনের মতো বোরো মরশুমের ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সরকার। গত মরশুমে রাজ্য সরকার সর্বকালীন রেকর্ড ভেঙে ৫৬ লক্ষ টনের থেকে বেশি ধান কিনেছিল। এবার সেটাই ভাঙার চেষ্টা হচ্ছে।
নভেম্বর মাসে চাষিরা কম পরিমাণে ধান বেচলেও ৬১৬টি স্থায়ী ক্রয়কেন্দ্র (সিপিসি) চালু করেছে খাদ্যদপ্তর। মোবাইল সিপিসি চলছে ১৭৫টি। অনলাইনে সময়ের স্লট নিয়ে কৃষকরা এখানে ধান বেচতে পারবেন। অস্থায়ী শিবিরেও ধান কেনা হবে। প্রকৃত চাষিদের ধান কিনতে সরকারি ক্রয়কেন্দ্রগুলিতে একগুচ্ছ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।