Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় বাঁকুড়া জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ধান চাষ বাড়ল

পর্যাপ্ত বৃষ্টিতে বাঁকুড়ায় এবার আমন ধান চাষের এলাকা এক লাফে অনেকটা‌ই বৃদ্ধি পেয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার জেলায় প্রায় ৪০হাজার হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে।

পর্যাপ্ত বৃষ্টি হওয়ায় বাঁকুড়া জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ধান চাষ বাড়ল
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৬:০৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: পর্যাপ্ত বৃষ্টিতে বাঁকুড়ায় এবার আমন ধান চাষের এলাকা এক লাফে অনেকটা‌ই বৃদ্ধি পেয়েছে। গতবারের চেয়ে এবার জেলায় প্রায় ৪০হাজার হেক্টর বেশি জমিতে ধান চাষ হয়েছে। এবছর জেলার ৩ লক্ষ ৩৬ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু, ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার ৪৫৩ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার ১০৭শতাংশ। গতবার জেলার ৩ লক্ষ ৪৬ হাজার জমিতে আমনের চাষ হয়েছিল। গতবার খরাজনিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ফলে আশানুরূপ বৃষ্টি হবে না ধরে নিয়ে কিছুটা কম ‘টার্গেট’ রাখা হয়েছিল বলে কৃষিদপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। কিন্তু নাগাড়ে বৃষ্টি তা পূরণ করে দিয়েছে। 

Advertisement

বাঁকুড়ার উপ কৃষি অধিকর্তা দেবকুমার সরকার বলেন, পরপর নিম্নচাপের জেরে গতবারের মতো বৃষ্টির ঘাটতি এবার ছিল না। তারফলে জেলায় আমনের বীজতলা তৈরির কাজ সময়ে শেষ করা গিয়েছিল। চাষিরা চারা রোপণও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুরু করে দেন। ফলে আমরা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বেশি জমিতে ধান রোপণ করতে পেরেছি। জেলায় পর্যাপ্ত রাসায়নিক সার মজুত রয়েছে। তবে উঁচু জমিতে ধান গাছের দিকে চাষিদের বাড়তি নজর দিতে হবে। জমিতে জল না থাকলে রোগপোকার আক্রমণ হতে পারে। যথাসময়ে কীটনাশক দিতে হবে। প্রয়োজনে কৃষিদপ্তরের পরামর্শ নিতে হবে। 
বাঁকুড়া-২ ব্লকের চাষি গোবিন্দ মান, সুদীপ ঘোষ বলেন, আমাদের এলাকায় এখনও সেচখাল খনন করা হয়নি। ফলে ধান চাষের জন্য আকাশের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হয়। গতবার বৃষ্টির অভাবে আমরা সময়ে বীজতলা তৈরি করতে পারিনি। ফলে চাষ শুরু হতে অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। বৃষ্টির অভাবে উঁচু জমিতে ধান রোপণ না হওয়ায় সামগ্রিকভাবে এলাকা কমে যায়। এবার ওই সমস্যা আর হয়নি। পর্যাপ্ত জল পেয়ে চাষিরা ডাঙা এমনকী পুকুরের পাড়েও ধান লাগিয়েছেন। ফলে চাষের এলাকা এবার বৃদ্ধি পেয়েছে।  
কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, জুন মাস থেকে বৃষ্টি হওয়ায় চাষিরা সময়ে বীজতলা তৈরি করতে পেরেছিলেন। ফলে তাঁরা আগাম ধান রোপণ করেছেন। সিংহভাগ জমিতে নিড়ানির কাজও হয়ে গিয়েছে। ফলে রাসায়নিক সারের আর তেমন প্রয়োজন পড়বে না। তবে ধান গাছের গোড়ায় জল দাঁড়িয়ে থাকা চাই। উঁচু জমির ক্ষেত্রে এবার সমস্যা হতে পারে। গত এক সপ্তাহ বাঁকুড়ায় সেভাবে বৃষ্টি হয়নি। চড়া রোদে জমি শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে। গাছ সবুজ রাখতে চাষিদের জলসেচ দিতে হতে পারে। তা না হলে গাছে রোগপোকার আক্রমণ ঘটবে। জমিতে জলকাদা না থাকলে কীটনাশক দিয়েও অনেক সময় কাজ হয় না। এই বিষয়টি চাষিদের মাথায় রাখতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ