Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অ্যাকাউন্ট ‘অ্যারেস্ট’ করে অভিনব জালিয়াতি! ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ কেন দায়িত্ব নেবে না, প্রশ্ন হাইকোর্টের

অ্যাকাউন্ট ‘অ্যারেস্ট’ করে অভিনব জালিয়াতি! ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ কেন দায়িত্ব নেবে না, প্রশ্ন হাইকোর্টের
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অ্যাকাউন্টে টাকা থাকুক বা না থাকুক, কেউই নিরাপদ নন। অ্যাকাউন্ট থাকলেই সাইবার জালিয়াতির শিকার হতে পারেন যে কেউ। বিশেষত স্যালারি অ্যাকাউন্ট। ক্ষণিকের অসাবধানতায় ‘অ্যারেস্ট’ হতে পারে আপনার অ্যকাউন্ট।  ব্যাঙ্ক নয়, যার বড়সড় মাশুল চোকাতে হবে আপনাকেই। ঠিক যেমনটা ঘটেছে হানিফ আলি মোল্লা নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের ক্ষেত্রে। অভিনব কৌশলে সাইবার জালিয়াতির এই ঘটনায় বিস্মিত কলকাতা হাইকোর্টকেও শেষ পর্যন্ত সাবধান বাণী শোনাতে হয়েছে। 
Advertisement
মামলার বয়ান সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের মাদ্রাসা শিক্ষক হানিফ আলি মোল্লার স্যালারি অ্যাকাউন্ট ছিল একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বারাসত কলোনি মোড় শাখায়। অভিযোগ, গত বছরের ২১ অক্টোবর সন্ধ্যা সোয়া ৮টা নাগাদ তিনি এসএমএসে দেখতে পান, তাঁর স্যালারি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে একটি লোন অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এবং ওই লোন অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ টাকা। এর কিছুক্ষণের মধ্যে ওই লোন অ্যাকাউন্ট থেকে ধাপে ধাপে পুরো টাকাই উধাও হয়ে যায়। ঘটনার দিনই সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক ও বারাসত সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন হানিফ। অভিযোগ, কোনও সুরাহা হয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। 
সম্প্রতি বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে মামলাকারীর আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেলের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হলেও তিনি কিছুই জানেন না। এখন ব্যাঙ্কের তরফে বলা হয়েছে, তাঁকেই সুদ সহ মোট সাড়ে ১০ লক্ষ টাকা মেটাতে হবে। সেই হিসেবে প্রতি মাসের ২৩ তারিখ ইএমআই বাবদ সাড়ে ১৪ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। এমনকী, মাসের প্রথমে বেতন জমা পড়ার পরও মামলাকারীকে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না। ইএমআই’র টাকা কাটার পরই তিনি তা ব্যবহার করতে পারছেন। 
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যাঙ্কের তরফে পাল্টা দাবি করা হয়, মামলাকারীর ভুলেই এমনটা হয়েছে। জালিয়াতদের তিনি ওটিপি দিয়েছিলেন। যদিও বারাসত সাইবার থানা স্পষ্ট জানায়, এক্ষেত্রে মামলাকারী কিছুই জানেন না। বিহারের একটি আই ফোন থেকে এই ঘটনা ঘটেছে। এই বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি সিনহা বলেন, ‘এক্ষেত্রে গ্রাহকদের প্রতি ব্যাঙ্কের কোনও দায়িত্ব নেই? তারা কেন নিজস্ব তদন্ত করবে না? কোথায় ওই টাকা জমা হয়েছে, তা কেন যাচাই করবে না ব্যাঙ্ক? পুলিস কেস হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, মামলাকারী কোনওভাবেই জড়িত নয়। তাহলে কেন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি বন্ধ করবে না?’ এরপরই নির্দেশে বিচারপতি জানিয়ে দেন, অবিলম্বে মামলাকারীর ওই স্যালারি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে নতুন স্যালারি অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। সেই সঙ্গে ব্যাঙ্ককেই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। মামলাকারীকে ভবিষ্যতে সাবধান থাকার পরামর্শ দিয়েছে আদালত।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ