নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: আবাসিকদের হাতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল সেই নেশামুক্তি কেন্দ্রের মালিকের। শুক্রবার সকালে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির উত্তরপাড়ার শান্তিনগরে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম মদন রানা (৪৫)। এদিন তাঁর আত্মীয়রা ওই কেন্দ্রের ভিতর থেকে তাঁকে জখম অবস্থায় উদ্ধার করে উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই তিনি মারা যান। অভিযোগ, নেশামুক্তি কেন্দ্রের দুই আবাসিক পুজোর ছুটি না পাওয়ায় মালিক মদন রানাকে শিল ও নোড়া দিয়ে মাথা ও মুখ থেঁতলে দিয়েছিল। তারপর দু’জনেই ওই কেন্দ্রের সদর দরজা খুলে পালিয়ে যায়। তাদের বাড়ি দমদম ও বেলঘরিয়ায়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মদন নিজেও নেশা করতেন। পাশাপাশি, ২০২৩ সালে নবদ্বীপ থানার পুলিশ তাঁকে প্রতারণার অভিযোগে একবার গ্রেপ্তার করেছিল। সেখানকার এক যুবককে নেশামুক্তি কেন্দ্রে আটকে রেখে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জেলও খাটতে হয়েছিল মদনকে। ওই নেশামুক্তি কেন্দ্রের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। উত্তরপাড়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, কয়েকজন আবাসিককেও এদিন জখম করেছে অভিযুক্তরা। আক্রান্ত আতাঁদের বয়ানে বলেছেন, দু’জন আবাসিক মদন রানার উপর হামলা করেছিল। ঘটনার তদন্ত চলছে। যাবতীয় সূত্র খোঁজা হচ্ছে। মৃতের দিদি নন্দিতা ভার্মা ও মা কোন্নগরে থাকেন। নন্দিতাদেবী বলেন, ‘সকালে তখনও আমি ঘুম থেকে উঠিনি। উত্তরপাড়ার এক পরিচিত যুবক এসে জানায় ভাইকে আবাসিকরা মেরে মাথা থেঁতলে দিয়েছে। আমি গিয়ে দেখি, ভাই নিজের বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। মাথা ও মুখ থেঁতলে দেওয়া হয়েছে। শরীরের আর কোথাও আঘাত ছিল না। দ্রুত ভাইকে উত্তরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু ওকে বাঁচানো যায়নি। তাঁর কথায়, ভাইয়ের অনেক শত্রু ছিল। পাশাপাশি ও নিজেও নেশা করত।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় পাঁচবছর আগে মদন রানা উত্তরপাড়া পুরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে নেশামুক্তি কেন্দ্র চালু করেন। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২১ জন আবাসিক ছিলেন। সেখানে আবাসিকদের উপর অত্যাচার করা হতো বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারাও পাড়ায় এই রকম কেন্দ্র তৈরি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, টাকা ও ক্ষমতার জোরে সমস্ত আপত্তি দাবিয়ে রাখতেন মদন। জানা গিয়েছে, মদনের পারিবারিক জীবন স্বাভাবিক ছিল না। তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী শাসকদলের উত্তরপাড়া পুরসভার কাউন্সিলার। ওই কেন্দ্রের জখম আবাসিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, পুজোয় আবাসিকরা বাড়ি যেতে পারবেন বলে আগেই ঘোষণা করেছিলেন মদন। পরে সেই পরিকল্পনা বতিল করেন। এ নিয়েই আবাসিকদের একাংশের সঙ্গে বিবাদ শুরু হয় তাঁর। দুই আবাসিক সেই সময় রান্নাঘর থেকে শিল-নোড়া নিয়ে এসে মালিকের মাথা ও মুখে মারে। তাতে থেঁতলে যায় তার মুখ।