


নিজস্ব প্রতিনিধি,কলকাতা: ঝাঁ চকচকে অফিস খুলে দম্পতি কোটি টাকার বিমানের টিকিট বিক্রি করেছিল এক ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল সংস্থাকে। সংস্থার তরফে ওই টিকিট যাত্রীদের হাতে যেতেই ‘কেঁচো খুঁড়তে কেউটে’ বেরিয়ে আসে। সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা অনলাইনে পরীক্ষা করতে গিয়ে জানতে পারলেন, টিকিটে থাকা পিএনআর নম্বরটি জাল। এরপরই ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল সংস্থার তরফে প্রতারণার অভিযোগ করা হয় কসবা থানায়। তার ভিত্তিতে কসবার ওই অফিসের কর্ণধার শমীক রায় চৌধুরিকে রবিবার রাতে চুঁচুড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে লালবাজার। শমীকের অফিসের আরও তিনজনকে পুলিস খুঁজছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত শমীক কসবা থানা এলাকায় একটি অফিস খোলে। বিজ্ঞাপন দিয়ে জানায়, দুটি বেসরকারি বিমান সংস্থার দেশ-বিদেশের উড়ানের টিকিট বিক্রি করার অনুমতি রয়েছে তাদের। বেশি সংখ্যায় টিকিট কিনলে বিশেষ ছাড় রয়েছে তাদের তরফে। যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর ছিল। তা দেখে ওই এলাকার একটি ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস সংস্থা ২০২৪-২৫ সালে ১০০’র বেশি টিকিট কেনার জন্য টাকা পাঠায় শমীকের অফিসে। দেশে-বিদেশে ভ্রমণের জন্য যাঁরা বুকিং করেছেন ওই ট্রাভেল সংস্থায়, সঙ্গে তাঁদের নথিও পাঠানো হয়। প্রথমে গোটা পাঁচেক টিকিট পাঠানো হয় ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল সংস্থায়। সংস্থার তরফে বারবার যোগাযোগের পর বাকি টিকিট পাঠানো হয়। ট্যুর সংস্থা যাত্রীদের কাছে বিমানের টিকিটের পিএনআর নম্বর পাঠিয়ে দেয়। পরে মেসেজ মারফত টিকিট যায় যাত্রীদের কাছে। ওই পিএনআর নম্বর ধরে যাত্রীরা স্টেটাস চেক করতে গিয়ে জানতে পারেন, তালিকায় তাঁদের কারও নামই নেই। সেখানে অন্যদের নাম রয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা বিষয়টি ওই ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল সংস্থাকে জানান। তাঁরা বুঝতে পারেন, সমস্ত পিএনআর নম্বরই জাল। এর জেরে ওই ট্যুর ও ট্রাভেল সংস্থার ক্ষতি হয়েছে পাঁচ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। এরপরই কসবা থানায় লিখিত অভিযোগ হয় ওই ট্রাভেল সংস্থার তরফে। পরে তদন্তভার নেয় লালবাজার।
গোয়েন্দারা তদন্তে নেমে দেখেন, বিমানের টিকিট বিক্রি টাকা অফিসের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ার কথা থাকলেও, তা চলে গিয়েছে শমীক ও তার স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে। সেখানে জমা পড়েছে ৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। এভাবেই প্রতারণা করা হয়েছে। এই তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে শমীককে গ্রেপ্তার করা গেলেও, বাকিরা বেপাত্তা। তদন্তে উঠে এসেছে, শমীকই জাল টিকিট তৈরি করে তাতে মনগড়া পিএনআর বসিয়েছিল। এর আগেও সে একই কায়দায় প্রতারণা করেছে বলে জানা যায়। অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য বলেন তাঁর মক্কেল জালিয়াতি করেছে, এমন কোনও প্রমাণ এখনও উঠে আসেনি। টিকিট কাটতে না পারায় পয়সা ফেরত দিচ্ছিল। যদিও সরকারি আইনজীবী আদালতে বলেন, নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতেই শমীককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।