নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত ২ আগস্ট থেকে রাজ্য সরকার আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান কর্মসূচি শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে সাফল্যের সঙ্গেই এগোচ্ছে এই কর্মসূচি। তবে উত্তরবঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে তা সাময়িকভাবে বাধাপ্রাপ্তও হয়েছে। এই অবস্থায় কর্মসূচির দিনসংখ্যা বাড়াতে চলেছে নবান্ন। কর্মসূচি আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত চলার কথা ছিল কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির কথা ভেবে এর মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।
রবিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কথা ঘোষণা করেছেন। এদিন উত্তরবঙ্গে রওনা হওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্গত এলাকাগুলিতে আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান শিবিরের সময়সীমা বাড়ানো হচ্ছে। দুর্যোগকবলিত এলাকায় বিপর্যয়ের কারণে অনেকের নথিপত্র নষ্ট হয়েছে। সেসব করিয়ে দিতে হবে। আমাদের পাড়া আমাদের সমাধানেই সেই ব্যবস্থা করা হবে। উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিপর্যয়ের কারণে মানুষকে আরও সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের তথ্য সামনে এসেছে। সেখানে রাজ্যের মানুষই ঠিক করছেন, তাঁর এলাকায় কী কী উন্নয়ন প্রয়োজন। রাজ্যের ৮০ হাজার বুথের দিকে সরকারের নজর। বুথ প্রতি ১০ লক্ষ টাকা উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে। মোট ৮ হাজার কোটি টাকা রাজ্য সরকার খরচ করছে। এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ওই বুথের বাসিন্দারা মতামত দিচ্ছেন, তাঁর এলাকায় কী কী উন্নয়ন প্রয়োজন। মমতার জনমুখী এই কর্মসূচি সাড়া ফেলে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমাদের লক্ষ্য ছিল মোট ৩১,৭০০ বুথভিত্তিক শিবির করা। এর মধ্যে এখনও পর্যন্ত ২৮,৩০০টি শিবির বা প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে। প্রায় আড়াই কোটি মানুষ এই শিবিরে অংশগ্রহণ করেছেন। ৩ লক্ষ ৫৮ হাজার প্রকল্পের আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে ২ লক্ষ ৮৪ হাজার প্রকল্প পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। ১ লক্ষ ৮৬ হাজার প্রকল্পের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া আরও ১০০টি প্রকল্প ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। আমরা মোট ৯৪ লক্ষ ৭০ হাজার আবেদন পেয়েছি। যার মধ্যে ৭৭ লক্ষ ৪ হাজার বা ৮১ শতাংশ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় সর্বাধিক শিবির হয়েছে ২ হাজার ৯৯০টি। তারপরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। সেখানে শিবির হয়েছে ২ হাজার ৩৪৯টি। আর তৃতীয় স্থানে রয়েছে মূর্শিদাবাদ (শিবির ২ হাজার ৩০৯)। এছাড়াও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সর্বাধিক ২৮.৯ লক্ষ মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন শিবিরগুলিতে।
অন্যদিকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বাংলার প্রতি আর্থিক বঞ্চনা নিয়ে ফের সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন ১০০ দিনের কাজের টাকা, বাংলার বাড়ি, সর্বশিক্ষা মিশন, পানীয় জলের প্রকল্প, বন্যার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পুনর্গঠনের টাকা কেন্দ্র দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে রাজ্য। এছাড়া রাজ্যের তরফে খাদ্যসাথি প্রকল্পে ৯ কোটি মানুষকে চাল পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। সেখানেও কেন্দ্রের সরকার উদাসীন। এই অবস্থায় উত্তরবঙ্গে এত বড়ো বিপর্যয়ের পরেও কেন্দ্র চুপ করে বসে আছে বলে অভিযোগ। বরং বিজেপি নেতারা রিপোর্ট পাঠাচ্ছে দিল্লিতে। এনিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর তোপ, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা নিয়ে বিজেপির রিপোর্ট পুরোটাই রাজনীতি। ওরা পলিটিক্যাল ভাইরাস। ফিল্ডে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁরাই সঠিক রিপোর্ট দিতে পারবেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন্দ্রের মুখাপেক্ষী নয়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পুনর্নির্মাণের কাজ চলছে।