ইসলামাবাদ, ১২ মার্চ ২০২৫: জাফর এক্সপ্রেস বালোচ বিদ্রোহীদের কবলে যেতেই ফের একবার সারা বিশ্বে নাক কাটা গিয়েছে পাকিস্তানের। তড়িঘড়ি সেনা নামিয়ে বিদ্রোহীদের ঠান্ডা করার ‘অ্যাকশন’ নেওয়া হলেও একরাত পরেও সেই প্রচেষ্টা পুরোপুরি সফল হয়নি। এখনও বিদ্রোহীদের কাছে পণবন্দি একাধিক ট্রেনযাত্রী। তবে বুধবার সকালের নয়া আপডেট অনুযায়ী, পুরোদস্তুর অপারেশনে নামার পর পাকসেনার গুলিতে নিহত হয়েছে ২৭ জন বালোচ বিদ্রোহী। পাশাপাশি দাবি করা হয়েছে, ইতিমধ্যেই ১৫৫ জন পণবন্দিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পাকসেনার এই দাবি সত্যি ধরা হলেও, এখনও প্রায় ২৭ জন যাত্রী পণবন্দি রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গতকাল একেবারে ফিল্মি কায়দায় জাফর এক্সপ্রেস হাইজ্যাক করেছিল বালোচ বিদ্রোহীরা। শ’পাঁচেক যাত্রী নিয়ে পাকিস্তানের কোয়েট্টা থেকে পেশোয়ার রওনা দিয়েছিল জাফর এক্সপ্রেস। বালোচ বিদ্রোহীরা রেল লাইন উড়িয়ে দিয়ে ট্রেন থামিয়ে সেটি দখল করে নেয়। তবে সূত্রের খবর, ওই ট্রেনেও পাকিস্তানি সেনা, পুলিস, অ্যান্টি টেরোরিজম ফোর্স ও পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের প্রায় ২০০ সদস্য ছিল। মূলত তাঁদের টার্গেট করেই এই হামলা চালিয়েছিল বিদ্রোহীরা। বালোচ সদস্যদের সামনে ট্রেনের ভিতরে থাকা পাক সেনারা বেশিক্ষণ লড়াই করতে পারেনি। এরপরই ট্রেনশুদ্ধ তাঁদেরকে পণবন্দি করে বিদ্রোহীরা। পরে বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) –এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ট্রেন থেকে সাধারণ যাত্রীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, তারা নিরাপত্তা বাহিনী ও আইএসআইয়ের মোট ১৮২ জনকে পণবন্দি করে রেখেছ।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় প্রদেশ বালুচিস্তান। কিন্তু জনসংখ্যা সবচেয়ে কম। অভিযোগ, প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ সম্পদে ভরপুর এই প্রদেশের বাসিন্দাদের উপর দীর্ঘদিন ধরেই দমনপীড়ন চালিয়ে আসছে পাকিস্তান সরকার। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে স্বাধীন বালুচিস্তানের দাবি। স্থানীয়দের আপত্তি উড়িয়ে সম্প্রতি চীনের সাহায্যে সেখানে বিভিন্ন প্রকল্প শুরু করেছে পাক সরকার। তৈরি হয়েছে গদর বন্দর। সব মিলিয়ে আরও কোণঠাসা বালোচ জনগোষ্ঠী। এর আগেও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে টার্গেট করেছিল বালোচ লিবারেশন আর্মি। দু’মাস বন্ধ থাকার পর গত বছরের অক্টোবর থেকে বালুচিস্তানে ফের ট্রেন চলাচল শুরু হয়। আর তারপরেই এই হামলা, যা বিশ্ববাসীর সামনে ফের একবার পাকিস্তানের ঢিলেঢালা নিরাপত্তাকেই কাঠগড়ায় তুলেছে।