Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হিঙ্গলগঞ্জে বহিরাগত বনাম ভূমিপুত্র, জেতা আসন ধরে রাখতে জোর প্রচার তৃণমূলের

হিঙ্গলগঞ্জের এবার লড়াই বহিরাগত বনাম ভূমিপুত্রের। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সামনে দুই যুযুধান দল। ২০১১ সালে রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হলেও হিঙ্গলগঞ্জ বামেদের দখলেই ছিল।

হিঙ্গলগঞ্জে বহিরাগত বনাম ভূমিপুত্র, জেতা আসন ধরে রাখতে জোর প্রচার তৃণমূলের
  • ২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বসিরহাট: হিঙ্গলগঞ্জের এবার লড়াই বহিরাগত বনাম ভূমিপুত্রের। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সামনে দুই যুযুধান দল। ২০১১ সালে রাজ্যে সরকার পরিবর্তন হলেও হিঙ্গলগঞ্জ বামেদের দখলেই ছিল। সেবার সিপিআইয়ের প্রতীকে জিতেছিলেন আনন্দময় মণ্ডল। পরবর্তীকালে ২০১৬ এবং ২০২১ সালে তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হন দেবেশ মণ্ডল। এবার এখানে তৃণমূল প্রার্থী করেছে আনন্দ সরকারকে। তিনি তৃণমূলের ব্লক সভাপতি।

Advertisement

এদিকে, টিকিট না পেয়ে বেসুরো হয়ে উঠেছেন বিদায়ী বিধায়ক দেবেশ মণ্ডল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি একাধিকবার ক্ষোভের কথা ব্যক্ত করেছেন। তা নিয়ে দলের অন্দরে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। অন্যদিকে, তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বিজেপি এই কেন্দ্রে দাঁড় করিয়েছে সন্দেশখালির প্রতিবাদী মুখ রেখা পাত্রকে। গত লোকসভা ভোটে বিজেপি বসিরহাট কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থী করলেও তিনি বিপুল ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন। তাঁকে আবার দলের একাংশ ‘বহিরাগত’ বলে তোপ দেগেছে। ক্ষুব্ধ কর্মীদের বক্তব্য, সারা বছর যাঁরা দল করলেন, তাঁদের গুরুত্বই দেওয়া হল না। স্থানীয় কাউকে প্রার্থী করলে এই আসনে জয় নিশ্চিত ছিল। এনিয়ে হিঙ্গলগঞ্জে বিজেপির আদি গোষ্ঠী প্রার্থী বদলের দাবি জানিয়ে দলের রাজ্য অফিসে বিক্ষোভ দেখিয়েছে।
হিঙ্গলগঞ্জে বাম ও কংগ্রেস আলাদা আলাদাভাবে প্রার্থী দিলেও তাদের গুরুত্ব দিতে নারাজ ভোটারদের একাংশ। যদিও সিপিআইয়ের কিছু পকেট ভোট রয়েছে এখানে। তৃণমূল প্রার্থী আনন্দ সরকারের অ্যাডভান্টেজ হল, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ। জয়ের ব্যাপারে তিনি একশো শতাংশ নিশ্চিত। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর ভরসা রয়েছে হিঙ্গলগঞ্জের মানুষের। আর আমি এখানকার ভূমিপুত্র হওয়ায় মানুষের জন্য কাজ করার ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা রয়েছে আমার। যিনি আমার বিপক্ষে বিজেপির টিকিটে লড়ছেন, তিনি মিথ্যা গুজব ছড়ানোর ক্ষেত্রে পারদর্শী। গত লোকসভা ভোটেই তা প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে। মানুষ এলাকার উন্নয়ন দেখেই ভোট দেবেন এবং তৃণমূলকেই ফের জয়যুক্ত করবেন। 
অন্যদিকে, বিজেপি প্রার্থী রেখা পাত্র বলেন, হিঙ্গলগঞ্জে সরকারি প্রকল্পে একাধিক দুর্নীতি হয়েছে। মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমাদের বহু কর্মী এখনও ঘরছাড়া। তাঁদের জমি-জায়গা থেকে শুরু করে সরকারি প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নিয়েছে তৃণমূলের নেতারা। তাই আগামী দিনে হিঙ্গলগঞ্জের মানুষ বিজেপির উপরেই আস্থা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ