মহানগরে বন্ধ হওয়া হোটেল-গেস্ট হাউস খুলতে ৩০০টি আবেদনের মধ্যে ‘পাশ’ করল মাত্র ১২! বাকিদের মুচলেকা নিয়ে ব্যবসায় অনুমতির সিদ্ধান্ত পুরসভার
  • ২ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আদালতের গুঁতো খেয়ে দুর্গাপুজোর মুখে শহরের বিভিন্ন হোটেল এবং গেস্ট হাউসে ধরপাকড় বন্ধ রাখে কলকাতা পুরসভা। যেসব হোটেল-গেস্ট হাউসে ক্লোজার নোটিস দেওয়া হয়েছিল, সেগুলি ফের চালু করতে পুজোর আগেই তোড়জোড় শুরু হয়েছিল। বন্ধ করে দেওয়া হোটেলগুলি ফের চালু করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আবেদন করতে বলা হয়। সেসব আবেদন খতিয়ে দেখে পুনরায় ব্যবসা চালুর অনুমোদন দেওয়ার কথা হাই পাওয়ার কমিটির। সূত্রের খবর, জমা পড়া প্রায় ৩০০টি আবেদনের মধ্যে স্ক্রুটিনিতে পাশ করছে মাত্র ১২টি হোটেল-গেস্ট হাউস। এই অবস্থায় বাদবাকি হোটেল-গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষের থেকে মুচলেকা (আন্ডারটেকিং) নিয়ে ব্যবসা চালুর অনুমোদন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ। তবে এক্ষেত্রেও মূলত দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, বিদ্যুতের লোড সার্টিফিকেট। দ্বিতীয়ত, বেআইনি নির্মাণের অংশকে ‘রেগুলারাইজ’ করা।

Advertisement

মির্জা গালিব স্ট্রিটে অগ্নিকাণ্ডের পর যৌথ টিম গড়েছিলেন পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে। সেখানে পুরসভার বিল্ডিং, লাইসেন্স বিভাগ ছাড়াও পুলিশ, দমকল, কেএমডিএ, সিইএসসির মতো বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাদের স্ক্যানারে ছিল লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার হোটেল এবং গেস্ট হাউস। পুরসভা সূত্রে খবর, প্রায় ১,১০০টি জায়গা পরিদর্শন করে তারা ৯১৯টিরও বেশি হোটেল এবং গেস্ট হাউস বন্ধ করে দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে ক্লোজার নোটিস পাওয়া ৩০০টির বেশি হোটেল ও গেস্ট হাউস ফের ব্যবসা চালুর জন্য আবেদন করে। এক পুরকর্তা বলেন, ‘স্ক্রুটিনি করতে গিয়ে দেখা যায়, সঠিক কাগজপত্র রয়েছে মাত্র ১২জন আবেদনকারীর। বাকিদের ক্ষেত্রে অনেক গলদ আছে। হাইপাওয়ার কমিটি প্রস্তাব দিয়েছে, সংশ্লিষ্ট হোটেল ও গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষের থেকে কয়েকটি নথি সহ মুচলেকা নিয়ে ব্যবসা চালানোর অনুমোদন দেওয়া হোক। সেই মতোই প্রক্রিয়া চলছে।’ 
হাই পাওয়ার কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, পুলিশের রিপোর্ট অনুযায়ী বেশিরভাগ অগ্নিকাণ্ডের পিছনে দায়ী বিদ্যুতের অতিরিক্ত লোড। ওভারলোড হলেই শর্ট সার্কিট হয়। তার থেকে ঘটে যায় বড়ো অগ্নিকাণ্ড। তাই আবেদনকারী হোটেল-গেস্ট হাউসগুলিকে বিদ্যুতের লোড সার্টিফিকেট জমা করতে বলা হয়েছে। অনেক জায়গায় দেখা গিয়েছে, মিটার সরকারিভাবে যে পরিমাণ লোড নিতে পারবে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি লোড নিয়ে চলছে। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকছে। তাই বিদ্যুতের লোড সার্টিফিকেট জমা করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে যেখানে বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত হয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট হোটেল বা গেস্ট হাউসের মালিককে বিল্ডিং আইনের নিয়ম অনুযায়ী রেগুলারাইজেশন করতে হবে। সেই নথি জমা করতে হবে। সেই সঙ্গে অন্যান্য ত্রুটি শুধরে নেওয়ার মুচলেকা দিলেই ব্যবসা চালানোর অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।’