Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শ্লথ গতিতে ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’, ভোটের মুখে দ্রুত কাজ শেষ করার তোড়জোড় পুরসভার

‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির ভিত্তিতে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলছে শহরজুড়ে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাজ হচ্ছে

শ্লথ গতিতে ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’, ভোটের মুখে দ্রুত কাজ শেষ করার তোড়জোড় পুরসভার
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির ভিত্তিতে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলছে শহরজুড়ে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার কাজ হচ্ছে। কাজ শেষ হলেই ঠিকাদাররা যাতে তাঁদের প্রাপ্য টাকা দ্রুত পেয়ে যান, তাও নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয়েছে কলকাতা পুরসভা। বিল জমা করা মাত্র ঠিকাদারদের টাকা মিটিয়ে দিতে বিশেষ সেল তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এত সবের পরও এই কর্মসূচিতে নথিভূক্ত প্রকল্পগুলির কাজের গতি শ্লথ। সাড়ে আট হাজারের বেশি কাজ চালু হলেও মাত্র ১৯০০টি কাজ শেষ করা গিয়েছে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে সমস্ত কাজ শেষ করতে তৎপর হয়েছে পুরসভা। তবুও চিন্তামুক্ত হতে পারছেন না পুর-আধিকারিকরা। 

Advertisement

প্রথম দিকে এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত কাজগুলি শুরু হওয়া নিয়ে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছিল। বছরের পর বছর ধরে কাজের টাকা না পেয়ে ঠিকাদাররা ‘আমাদের পাড়া, আমাদের সমাধান’ কর্মসূচির কাজের টেন্ডারে অংশ নিচ্ছিলেন না। পুরসভার অর্থবিভাগ সূত্রে খবর, প্রথম দিকে বহু ঠিকাদার টেন্ডারে অংশ নিতেই আগ্রহী ছিলেন না। ওই অবস্থায় তাঁদের সঙ্গে বৈঠক হয় পুর কর্তৃপক্ষের। তাঁদের বোঝানো হয়, এই কাজগুলির জন্য আলাদাভাবে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। কাজ শেষে বিল জমা করলেই টাকা দিয়ে দেওয়া হবে। তারপর রাজ্যের তরফে মোটা টাকা বরাদ্দ চলেও আসে। পুর-কমিশনার নির্দেশ দেন, এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দিতে হবে। কাজ শেষ হলে যাতে দ্রুত ঠিকাদারদের প্রাপ্য মিটিয়ে দেওয়া যায়, তার জন্য আলাদা সেল গঠন করেন তিনি। 
তারপরে দ্রুততার সঙ্গে বিভিন্ন কাজের টেন্ডার  করে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও দেখা যাচ্ছে, কাজের গতি আশানুরূপ নয়। পুরসভা সূত্রে খবর, এই কর্মসূচিতে অনুমোদন পেয়েছে ৯,৮৫০টির বেশি কাজ। তার মধ্যে ৯২০০-র বেশি কাজের টেন্ডার ডাকা হয়েছে। প্রায় ৮৮০০টি কাজের ওয়ার্ক অর্ডার হয়েছে। বর্তমানে পাঁচ হাজারের বেশি কাজ চলছে। কিন্তু সম্পূর্ণ হয়েছে মাত্র ১৯০০টি কাজ। মাত্র ৯১২টি ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের পাওনা মেটানো হয়েছে। কাজের এই শ্লথতা নিয়ে চিন্তা বেড়েছে আধিকারিকদের। কারণ, নির্বাচনের আগে এই কাজগুলি শেষ করতে হবে। কিন্তু তা কতটা সম্ভব, সংশয়ী পুর-কর্তাদের একাংশ। আধিকারিকদের কথায়, ‘এত ছোটো ছোটো ফাইল তৈরির ক্ষেত্রে আমাদের প্রাথমিকভাবে কিছু সমস্যা হচ্ছিল। সেটা মেটানোর পর ঠিকাদারদের নিয়ে কিছু জটিলতা হয়। সেসব মিটিয়ে কাজ চলছে। কিন্তু এত কম সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে একটা চাপ তো আছেই। ঠিকাদারদেরও চাপ দেওয়া হচ্ছে।’ তবে তাঁর আশ্বাস, নির্বাচনের জন্য এসব কাজ আটকাবে না। কিন্তু নির্বাচন চলাকালীন রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি হলে বা এই কাজের জেরে নাগরিক দুর্ভোগ হলে সেটাও কাম্য নয়। তাই যতটা দ্রুত সম্ভব কাজগুলি শেষ করার চেষ্টা চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ