ডাঃ দেবমাল্য সান্যাল: ডায়াবেটিস মেলিটাস-এর একাধিক নাম। কেউ এই অসুখকে বলেন মধুমেহ, কেউ আবার বলেন সুগার! কেউ কেউ এই অসুখকে সাইলেন্ট কিলার নামেও ডাকেন। কারণ এই রোগ নিঃশব্দে শরীরে বাসা বাঁধে আর ধীরে ধীরে শরীরের সমস্ত অভ্যন্তরীণ অঙ্গের ক্ষতি করতে থাকে।
Advertisement
এই কারণেই চিকিৎসকরা বলেন সাধারণভাবে ৪০ বছর বয়সের পরে অবশ্যই বাধ্যতামূলকভাবে করাতে হবে সুগার টেস্ট। আর আমাদের দেশে যাঁদের বয়স ত্রিশ বছরের বেশি তাঁদের প্রত্যেক বছরে একবার অন্তত ডায়াবেটিস আছে কি না অবশ্যই পরীক্ষা করে দেখা দরকার।
কী কী টেস্ট জরুরি
দরকার ডায়াবেটিস নির্ণায়ক রক্ত পরীক্ষা করানোর। কোনও ব্যক্তির ডায়াবেটিস হয়েছে কি না তা নির্ধারণ করার চিরাচরতি পদ্ধতি হল ফাস্টিং ব্লাড গ্লুকোজ এবং পোস্ট প্রান্ডিয়াল ব্লাড সুগার নির্ণয়। তবে কারও ডায়াবেটিস আছে কি না তা জানার আধুনিকতম উপায় হল— এইচবিএ১সি পরীক্ষা।
ডায়াবেটিস নয়
• ফাস্টিং গ্লুকোজ ১০০-এর নীচে থাকলে বুঝতে হবে রোগীর শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক।
• খাবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে প্রতি ডেসিলিটার রক্তে সুগারের মাত্রা ১৪০ মিলিগ্রামের নীচে থাকলে।
• এছাড়া ওই ব্যক্তির এইচবিএ১সি ৫.৭-এর নীচে থাকলে বুঝতে হবে ডায়াবেটিস নেই।
ডায়াবেটিসের সমস্যা আছে—
• এইচবিএ১সি-এর টেস্ট-এর ফলাফল ৬.৫ শতাংশ বা তার উপরে থাকলে।
• ফাস্টিং সুগার ১২৬ বা তার উপরে থাকলে।
• খাবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে প্রতি ডেসিলিটার রক্তে সুগারের মাত্রা ২০০ মিলিগ্রামের উপরে হলে।
প্রি ডায়াবেটিক
ডায়াবেটিস আছে এবং ডায়াবেটিস নেই-এর মাঝামাঝি একটা অবস্থা থাকে। সাধারণভাবে এই অবস্থানকে বলে প্রি ডায়াবেটিস।
এক্ষেত্রে এইচবিএ১সি থাকে ৫.৭-এর উপরে কিন্তু ৬.৫-এর নীচে। এছাড়া খালি পেটে সুগার থাকে ১০০ থেকে ১২৫-এর মধ্যে এবং খাবার খাওয়ার পরে সুগার থাকে ১৪০ থেকে ২০০-এর মধ্যে। অর্থাৎ ওই ব্যক্তি ডায়াবেটিসের আওতায় থাকেন না বটে, তবে তিনি পুরো স্বাভাবিক অবস্থাতেও থাকেন না। এই অবস্থান থেকে রোগী অবশ্যই সুস্থ অবস্থায় ফিরতে পারেন। কীভাবে পারেন তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। তবে তার আগে জানতে হবে রোগীর সঠিক সময়ে স্ক্রিনিং কেন জরুরি?
কেন স্ক্রিনিং জরুরি?
রোগের প্রাথমিক অবস্থায় স্ক্রিনিং করেই যদি ডায়াবেটিস ধরা যায় তাহলে বহু মানুষের পক্ষে তা উপকারী প্রমাণিত হবে। কারণ এক সমীক্ষা অনুসারে আমাদের দেশে আনুমানিক ১৩.৭ কোটি ব্যক্তি প্রি-ডায়াবেটিসে ভুগছেন। প্রি-ডায়াবেটিস পর্যায়ে থাকা রোগীর ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের পরবর্তী পাঁচ বছরে পূর্ণরূপে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা এড়ানো যায় না। ফলে আগে থেকে অসুখ সম্পর্কে জানতে পারলে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে, এমনকী তাতে সুস্থ হওয়াও সম্ভব।
এই অবস্থায় করণীয় কী?
সারা পৃথিবীতেই ডায়াবেটিস প্রিভেনশন প্রোগ্রাম চালানো হচ্ছে। ভারতেও হয়েছে এমন স্টাডি। তাতে দেখা গিয়েছে অসংযমী জীবনযাত্রায় লাগাম পরিয়ে, কায়িক পরিশ্রম করে, খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ এনে অর্থাত্ খাদ্যতালিকা থেকে হাই ক্যালোরি ফুড বাদ দিয়ে, ফাস্ট ফুড খাওয়ার অভ্যেস ত্যাগ করে, মিষ্টি খাদ্য খাওয়া এড়িয়ে এই কাজ করা যায়। প্রি- ডায়াবেটিস পর্যায় থেকে রোগীর সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসা কোনও অসম্ভব ব্যাপার নয়।
আছে অন্য বিপদও
অনুমান করা হচ্ছে, দেশে যত ডায়াবেটিসের রোগী আছেন তাঁদের ৫০ শতাংশের এখনও রোগ নির্ণীতই হয়নি। অথচ ডায়াবেটিস ধীরে ধীরে শরীরের অভ্যন্তরের অঙ্গগুলির ড্যামেজ শুরু করে দিয়েছে! একজন ব্যক্তির চিকিৎসা খরচ বাড়ে যা ওই ব্যক্তির পরিবারের উপর আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া ওই ব্যক্তির উৎপাদনশীলতা কমায়। আয়ুষ্কালও হ্রাস পায়। তাই ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধ ও অসুখ হওয়ার পরে নিয়ন্ত্রণের জন্য দরকার সুস্থ জীবনযাত্রা অনুসরণ করা।
কাদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে?
• যাঁদের পরিবারে ডায়াবেটিস হওয়ার ইতিহাস রয়েছে অর্থাত্ কোনও পরিবারে একজন ব্যক্তির বাবা-মায়ের সুগার থাকলে ওই ব্যক্তিরও পরবর্তীকালে ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে।
• যে সমস্ত মহিলার পিসিওএস বা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম থাকে তাঁদেরও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা এড়ানো যায় না।
• যাঁদের গর্ভাবস্থায় প্রেগনেন্সি বা জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস হয় তাঁদের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর ডায়াবেটিস সাধারণত সেরে যায়। তবে সবার ক্ষেত্রে এমনটি নাও হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে স্ক্রিনিং আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়ে। তবে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস সেরে গেলেও পরবর্তী পাঁচ বছরে, প্রতি বছরে একবার স্ক্রিনিং চালিয়ে যেতে হবে।
• সবচেয়ে বড় কথা দৈহিক উচ্চতার অনুপাতে যাঁদের শারীরিক ওজন বেশি থাকে তাঁদেরও ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। প্রশ্ন হল কীভাবে বোঝা যাবে একজন ব্যক্তির ওজন বেশি না কম? বিএমআই-এর মাধ্যমে জানা সম্ভব কোনও ব্যক্তির দৈহিক ওজন কম নাকি বেশি।
বিএমআই মাপার উপায়—
বিএমআই নির্ণয়ের সহজ কৌশল হল—
দৈহিক ওজনকে (কিলোগ্রামে) দৈহিক উচ্চতার (মিটারে) বর্গ দ্বারা ভাগ করা। অর্থাৎ বিএমআই = ওজন (কেজি)/উচ্চতা (মিটার)২।
এক্ষেত্রে ১৮.৫ থেকে ২২.৯-এর মধ্যে বিএমআই স্বাভাবিক ওজন নির্দেশ করে।
২৩-২৪.৯ রেঞ্জের বিএমআই অতিরিক্ত ওজন নির্দেশ করে।
২৫-এর বেশি বিএমআই স্থূলত্ব নির্দেশ করে।
ওজন কমালেই সুগার ফ্রি!
• ইংল্যান্ডে করা এক সমীক্ষা অনুসারে ডায়াবেটিস রোগীর বিএমআই ২৫-এর বেশি থাকলে, সেক্ষেত্রে রোগী যদি তাঁর ওজনের মাত্র ১৫ শতাংশ কমাতে পারেন তাহলেই সাময়িকভাবে ডায়াবেটিস স্বাভাবিক মাত্রার মধ্যে চলে আসতে পারে। এমনকী রোগীর ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজনও হয় না! তার মানে তিনি ডায়াবেটিস মুক্ত হয়ে গিয়েছেন তা নয়। তবে তিনি স্বাস্থ্যকর জীবনাপন করলে অবশ্যই সুফল পাবেন। এই অবস্থাকে বলে ডায়াবেটিস রেমিশন।
• সমীক্ষা থেকে পাওয়া এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডায়াবেটিস নির্ণয়ের ছ’বছরের মধ্যে ওজন কমালে অন্ততপক্ষে একটা বিরাট অংশের রোগীর দু’বছরের জন্য ওষুধ নাও লাগতে পারে। আর তা করা যেতে পারে শুধুমাত্র ডায়েট কন্ট্রোল এবং কায়িক পরিশ্রমের দ্বারা।
• প্রি-ডায়াবেটিস পর্যায়ে মাত্র ৭ শতাংশ ওজন কমালে রোগী সুস্থ হয়ে যেতে পারেন। আর এই কাজ করা যায় ডায়েট কন্ট্রোল ও এক্সারসাইজ করেই।
• জানলে অবাক হতে হয়, ডায়াবেটিস রোগী তাঁর অসুখের যে কোনও পর্যায়ে মাত্রাতিরিক্ত ওজন কমালে তাঁর ওষুধের প্রয়োজনীয়তাও কমতে থাকে। এমনকী ডায়াবেটিস রোগের অগ্রগতিও অনেকখানি রোধ করা সম্ভব হয়।
অন্যান্য অসুখ প্রতিরোধ
ডায়াবেটিস এবং রক্তে মাত্রাতিরিক্ত সুগার হার্ট, কিডনির মতো অঙ্গের উপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা সঠিক ভাবে নিয়ন্ত্রণে না রাখলে কিডনি ফেলিওর হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দেখা গিয়েছে পৃথিবীতে যত কিডনি ফেলিওরের রোগী রয়েছেন তাঁদের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রেই কিডনির সমস্যা হয় মাত্রাতিরিক্ত সুগারের কারণে।
মনে রাখতে হবে একবার কিডনি ডিজিজ শুরু হলে তার শেষ পর্যায়ে চিকিৎসা বলতে রয়েছে ডায়ালিসিস বা রেনাল ট্রান্সপ্লান্ট। ব্লাড সুগার কন্ট্রোলে না রাখার আরও একটি বড় কুফল হল, গ্লুকোজের প্রভাবে ক্রমশ লিভারের আকার অনেক বড় হয়ে ওঠে। আজকাল বহু ডায়াবেটিস রোগীর ফ্যাটি লিভারের সমস্যা হতে দেখা যাচ্ছে। সঠিক সময় চিকিত্সা না হলে ফ্যাটি লিভার থেকে লিভার সিরোসিস, ক্যান্সারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
মনে রাখতে হবে রক্তে মাত্রাতিরিক্ত সুগার আর্টারির ক্ষতি করে। ফলে আর্টারিতে প্লাক জমার আশঙ্কা বাড়ে, অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস হওয়ার প্রবণতাও বৃদ্ধি পায় যা ক্রমশ ব্রেন স্ট্রোকের আশঙ্কাও বাড়ায়। রক্তে বেশি মাত্রায় সুগার বাড়িয়ে দেয় নার্ভের ক্ষতি, নিউরোপ্যাথি হওয়ার আশঙ্কাও। বিশেষ করে দেহের প্রান্তীয় স্নায়ুর বড় ক্ষতি করে রক্তে মাত্রাতিরিক্ত শর্করার উপস্থিতি। ফলে পায়ের কোনও জায়গায় ছত্রাক সংক্রমণ, ঘা, ক্ষত তৈরি হলে রোগী তা বুঝতে পারেন না। সেখান থেকে হয় ঘা, ফুট আলসার এবং সেখান থেকে করতে হতে পারে ‘অ্যাম্পুটেশন’।
অন্যান্য সতর্কতা
শুধু সুগার কন্ট্রোল নয়। জোর দিতে হবে সামগ্রিক সুস্থতার উপর। অর্থাত্ ডায়াবেটিসের সঙ্গে ব্লাড প্রেশার এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে তাও কন্ট্রোল করা জরুরি।
জরুরি টিপস
• ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর প্রথম ১০ বছরে খুব ভালোভাবে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে পরবর্তী ১০ বছর অন্যান্য সমস্যা থেকে দূরে থাকতে পারেন বা অন্যান্য শারীরিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়।
• সুতরাং ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পরে প্রথম বছর ও পরবর্তী ১০ বছর কঠোরভাবে ডায়াবেটিস কন্ট্রোল জরুরি।
খুদেদের ডায়াবেটিস
আরও একটা বড় উদ্বেগের বিষয় হল, শিশুদের মধ্যে ক্রমশ বেড়েই চলেছে স্থূলত্বের মাত্রা। খুব কমবয়সি বাচ্চার মধ্যেও টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। আশার কথা একটাই, আর তা হল ছোটদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন করে এই সমস্যা থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব।
দেখা গিয়েছে ছোটদের স্থূলত্বের জন্য দায়ী মূলত ফাস্ট ফুড, ময়দার তৈরি খাদ্য, ভাজা, প্রিজারভেটিভ দেওয়া রেডি টু ইট ফুড, কোল্ড ড্রিংকস, মাত্রাতিরিক্ত চকোলেট খাওয়ার অভ্যেস। অতএব স্কুলে যাওয়ার বয়স থেকেই ওদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা দরকার। আর তার সঙ্গে ওদের একবেলা একটু খেলাধুলোর জন্য সবুজ মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না সম্ভব হলে তাকে সাইক্লিং করতে বলুন। তাতেও কাজ হবে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, ছোটদের যে সব কারণে ওজন বাড়ে ঠিক একই কারণে বড়দেরও ওজন বৃদ্ধি পায়। বড়দের ওজন নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিও কিন্তু একই। তাই তাঁরাও সারাদিনে অন্তত ৪০ মিনিট ঘাম ঝরানো যায় এমন কাজ করুন। হনহন করে হাঁটুন, সাইকেল চালান, জগিং করুন। ওজন কমবে, ডায়াবেটিসের সঙ্গে ব্লাড প্রেশার, কোলেস্টেরলও আসবে নিয়ন্ত্রণে।
এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন আসতে পারে, এই যে বারংবার খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে তা আসলে কী? ঠিক কোন খাদ্য খাওয়ার কথা বলা হচ্ছে যা পরিবর্তন আনতে পারে ডায়াবেটিস রোগীর জীবনে?
এককথায় উত্তর হল ফিরে আসুন সনাতন খাদ্যাভ্যাসে। বন্ধ করুন পশ্চিমী খাদ্যাভ্যাসের অনুকরণ। প্রতিদিনের খাবারের মধ্যে থাক প্রচুর পরিমাণে শাকসব্জি। খান একটি করে মরশুমি ফল। খান মাছ। মাছে যে প্রোটিন থাকে তা অত্যন্ত উপকারী।
বার্গার, রোল-এর মাধ্যমে আলাদা করে ময়দার পাঁউরুটি না খেয়ে বরং সরাসরি ফাইবারযুক্ত হাত রুটি খান। রুটিতে ফাইবার থাকার কারণে দ্রুত পেট ভরায়। শরীরে ক্যালোরিও বেশি ঢোকে না। ভাতও খেতে পারেন। তবে আতপ চালের ভাত খেলে চলবে না। খেতে হবে সেদ্ধ চালের ভাত। আতপ চালের কোনও পুষ্টিগুণ নেই। শুধু ক্যালোরি আছে। সেদ্ধ চালে তুলনামূলকভাবে ফাইবার, ভিটামিন, খনিজের মাত্রা অনেক বেশি থাকে।
বাড়তি সতর্কতা হিসেবে চিনি, মিষ্টি খাওয়ার অভ্যেস ত্যাগ করুন।
পছন্দের সব খাবারই কি তাহলে বন্ধ?
একেবারেই না। ডায়াবেটিস রোগী সবই খেতে পারেন। বিশেষ করে যাদের সুগার যথেষ্ট মাত্রায় নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তাঁরা আমের সময় সপ্তাহে অর্ধেক আম খেতে পারেন। তবে একেবারে গোটা পাঁচেক আম খেলে চলবে কেন! ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে থাকলে অনুষ্ঠান বাড়িতেও খেতে পারেন সব কিছুই অল্প অল্প করে। গলা পর্যন্ত না খেলেই হল। আর হ্যাঁ, প্রতিদিন নিয়ম মেনে অবশ্যই করতে হবে এক্সারসাইজ। তবেই পাবেন কাঙ্ক্ষিত ফলাফল। ক্রমশ ওষুধের প্রয়োজনীয়তা কমতে থাকবে। একসময় শৃঙ্খলাবদ্ধ হবে জীবন এবং সম্ভবত ওষুধের দরকারও হবে না।
পরামর্শদাতা আর এন টেগোর হাসপাতালের এন্ডোক্রিনোলজিস্ট।
কী কী টেস্ট জরুরি
দরকার ডায়াবেটিস নির্ণায়ক রক্ত পরীক্ষা করানোর। কোনও ব্যক্তির ডায়াবেটিস হয়েছে কি না তা নির্ধারণ করার চিরাচরতি পদ্ধতি হল ফাস্টিং ব্লাড গ্লুকোজ এবং পোস্ট প্রান্ডিয়াল ব্লাড সুগার নির্ণয়। তবে কারও ডায়াবেটিস আছে কি না তা জানার আধুনিকতম উপায় হল— এইচবিএ১সি পরীক্ষা।
ডায়াবেটিস নয়
• ফাস্টিং গ্লুকোজ ১০০-এর নীচে থাকলে বুঝতে হবে রোগীর শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক।
• খাবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে প্রতি ডেসিলিটার রক্তে সুগারের মাত্রা ১৪০ মিলিগ্রামের নীচে থাকলে।
• এছাড়া ওই ব্যক্তির এইচবিএ১সি ৫.৭-এর নীচে থাকলে বুঝতে হবে ডায়াবেটিস নেই।
ডায়াবেটিসের সমস্যা আছে—
• এইচবিএ১সি-এর টেস্ট-এর ফলাফল ৬.৫ শতাংশ বা তার উপরে থাকলে।
• ফাস্টিং সুগার ১২৬ বা তার উপরে থাকলে।
• খাবার খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে প্রতি ডেসিলিটার রক্তে সুগারের মাত্রা ২০০ মিলিগ্রামের উপরে হলে।
প্রি ডায়াবেটিক
ডায়াবেটিস আছে এবং ডায়াবেটিস নেই-এর মাঝামাঝি একটা অবস্থা থাকে। সাধারণভাবে এই অবস্থানকে বলে প্রি ডায়াবেটিস।
এক্ষেত্রে এইচবিএ১সি থাকে ৫.৭-এর উপরে কিন্তু ৬.৫-এর নীচে। এছাড়া খালি পেটে সুগার থাকে ১০০ থেকে ১২৫-এর মধ্যে এবং খাবার খাওয়ার পরে সুগার থাকে ১৪০ থেকে ২০০-এর মধ্যে। অর্থাৎ ওই ব্যক্তি ডায়াবেটিসের আওতায় থাকেন না বটে, তবে তিনি পুরো স্বাভাবিক অবস্থাতেও থাকেন না। এই অবস্থান থেকে রোগী অবশ্যই সুস্থ অবস্থায় ফিরতে পারেন। কীভাবে পারেন তা নিয়ে আলোচনা করা হবে। তবে তার আগে জানতে হবে রোগীর সঠিক সময়ে স্ক্রিনিং কেন জরুরি?
কেন স্ক্রিনিং জরুরি?
রোগের প্রাথমিক অবস্থায় স্ক্রিনিং করেই যদি ডায়াবেটিস ধরা যায় তাহলে বহু মানুষের পক্ষে তা উপকারী প্রমাণিত হবে। কারণ এক সমীক্ষা অনুসারে আমাদের দেশে আনুমানিক ১৩.৭ কোটি ব্যক্তি প্রি-ডায়াবেটিসে ভুগছেন। প্রি-ডায়াবেটিস পর্যায়ে থাকা রোগীর ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের পরবর্তী পাঁচ বছরে পূর্ণরূপে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা এড়ানো যায় না। ফলে আগে থেকে অসুখ সম্পর্কে জানতে পারলে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে, এমনকী তাতে সুস্থ হওয়াও সম্ভব।
এই অবস্থায় করণীয় কী?
সারা পৃথিবীতেই ডায়াবেটিস প্রিভেনশন প্রোগ্রাম চালানো হচ্ছে। ভারতেও হয়েছে এমন স্টাডি। তাতে দেখা গিয়েছে অসংযমী জীবনযাত্রায় লাগাম পরিয়ে, কায়িক পরিশ্রম করে, খাদ্যাভ্যাসে নিয়ন্ত্রণ এনে অর্থাত্ খাদ্যতালিকা থেকে হাই ক্যালোরি ফুড বাদ দিয়ে, ফাস্ট ফুড খাওয়ার অভ্যেস ত্যাগ করে, মিষ্টি খাদ্য খাওয়া এড়িয়ে এই কাজ করা যায়। প্রি- ডায়াবেটিস পর্যায় থেকে রোগীর সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসা কোনও অসম্ভব ব্যাপার নয়।
আছে অন্য বিপদও
অনুমান করা হচ্ছে, দেশে যত ডায়াবেটিসের রোগী আছেন তাঁদের ৫০ শতাংশের এখনও রোগ নির্ণীতই হয়নি। অথচ ডায়াবেটিস ধীরে ধীরে শরীরের অভ্যন্তরের অঙ্গগুলির ড্যামেজ শুরু করে দিয়েছে! একজন ব্যক্তির চিকিৎসা খরচ বাড়ে যা ওই ব্যক্তির পরিবারের উপর আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া ওই ব্যক্তির উৎপাদনশীলতা কমায়। আয়ুষ্কালও হ্রাস পায়। তাই ডায়াবেটিস রোগ প্রতিরোধ ও অসুখ হওয়ার পরে নিয়ন্ত্রণের জন্য দরকার সুস্থ জীবনযাত্রা অনুসরণ করা।
কাদের ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে?
• যাঁদের পরিবারে ডায়াবেটিস হওয়ার ইতিহাস রয়েছে অর্থাত্ কোনও পরিবারে একজন ব্যক্তির বাবা-মায়ের সুগার থাকলে ওই ব্যক্তিরও পরবর্তীকালে ডায়াবেটিস দেখা দিতে পারে।
• যে সমস্ত মহিলার পিসিওএস বা পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম থাকে তাঁদেরও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা এড়ানো যায় না।
• যাঁদের গর্ভাবস্থায় প্রেগনেন্সি বা জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস হয় তাঁদের সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর ডায়াবেটিস সাধারণত সেরে যায়। তবে সবার ক্ষেত্রে এমনটি নাও হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে স্ক্রিনিং আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়ে। তবে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস সেরে গেলেও পরবর্তী পাঁচ বছরে, প্রতি বছরে একবার স্ক্রিনিং চালিয়ে যেতে হবে।
• সবচেয়ে বড় কথা দৈহিক উচ্চতার অনুপাতে যাঁদের শারীরিক ওজন বেশি থাকে তাঁদেরও ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। প্রশ্ন হল কীভাবে বোঝা যাবে একজন ব্যক্তির ওজন বেশি না কম? বিএমআই-এর মাধ্যমে জানা সম্ভব কোনও ব্যক্তির দৈহিক ওজন কম নাকি বেশি।
বিএমআই মাপার উপায়—
বিএমআই নির্ণয়ের সহজ কৌশল হল—
দৈহিক ওজনকে (কিলোগ্রামে) দৈহিক উচ্চতার (মিটারে) বর্গ দ্বারা ভাগ করা। অর্থাৎ বিএমআই = ওজন (কেজি)/উচ্চতা (মিটার)২।
এক্ষেত্রে ১৮.৫ থেকে ২২.৯-এর মধ্যে বিএমআই স্বাভাবিক ওজন নির্দেশ করে।
২৩-২৪.৯ রেঞ্জের বিএমআই অতিরিক্ত ওজন নির্দেশ করে।
২৫-এর বেশি বিএমআই স্থূলত্ব নির্দেশ করে।
ওজন কমালেই সুগার ফ্রি!
• ইংল্যান্ডে করা এক সমীক্ষা অনুসারে ডায়াবেটিস রোগীর বিএমআই ২৫-এর বেশি থাকলে, সেক্ষেত্রে রোগী যদি তাঁর ওজনের মাত্র ১৫ শতাংশ কমাতে পারেন তাহলেই সাময়িকভাবে ডায়াবেটিস স্বাভাবিক মাত্রার মধ্যে চলে আসতে পারে। এমনকী রোগীর ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজনও হয় না! তার মানে তিনি ডায়াবেটিস মুক্ত হয়ে গিয়েছেন তা নয়। তবে তিনি স্বাস্থ্যকর জীবনাপন করলে অবশ্যই সুফল পাবেন। এই অবস্থাকে বলে ডায়াবেটিস রেমিশন।
• সমীক্ষা থেকে পাওয়া এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডায়াবেটিস নির্ণয়ের ছ’বছরের মধ্যে ওজন কমালে অন্ততপক্ষে একটা বিরাট অংশের রোগীর দু’বছরের জন্য ওষুধ নাও লাগতে পারে। আর তা করা যেতে পারে শুধুমাত্র ডায়েট কন্ট্রোল এবং কায়িক পরিশ্রমের দ্বারা।
• প্রি-ডায়াবেটিস পর্যায়ে মাত্র ৭ শতাংশ ওজন কমালে রোগী সুস্থ হয়ে যেতে পারেন। আর এই কাজ করা যায় ডায়েট কন্ট্রোল ও এক্সারসাইজ করেই।
• জানলে অবাক হতে হয়, ডায়াবেটিস রোগী তাঁর অসুখের যে কোনও পর্যায়ে মাত্রাতিরিক্ত ওজন কমালে তাঁর ওষুধের প্রয়োজনীয়তাও কমতে থাকে। এমনকী ডায়াবেটিস রোগের অগ্রগতিও অনেকখানি রোধ করা সম্ভব হয়।
অন্যান্য অসুখ প্রতিরোধ
ডায়াবেটিস এবং রক্তে মাত্রাতিরিক্ত সুগার হার্ট, কিডনির মতো অঙ্গের উপর অত্যন্ত নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা সঠিক ভাবে নিয়ন্ত্রণে না রাখলে কিডনি ফেলিওর হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দেখা গিয়েছে পৃথিবীতে যত কিডনি ফেলিওরের রোগী রয়েছেন তাঁদের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রেই কিডনির সমস্যা হয় মাত্রাতিরিক্ত সুগারের কারণে।
মনে রাখতে হবে একবার কিডনি ডিজিজ শুরু হলে তার শেষ পর্যায়ে চিকিৎসা বলতে রয়েছে ডায়ালিসিস বা রেনাল ট্রান্সপ্লান্ট। ব্লাড সুগার কন্ট্রোলে না রাখার আরও একটি বড় কুফল হল, গ্লুকোজের প্রভাবে ক্রমশ লিভারের আকার অনেক বড় হয়ে ওঠে। আজকাল বহু ডায়াবেটিস রোগীর ফ্যাটি লিভারের সমস্যা হতে দেখা যাচ্ছে। সঠিক সময় চিকিত্সা না হলে ফ্যাটি লিভার থেকে লিভার সিরোসিস, ক্যান্সারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
মনে রাখতে হবে রক্তে মাত্রাতিরিক্ত সুগার আর্টারির ক্ষতি করে। ফলে আর্টারিতে প্লাক জমার আশঙ্কা বাড়ে, অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস হওয়ার প্রবণতাও বৃদ্ধি পায় যা ক্রমশ ব্রেন স্ট্রোকের আশঙ্কাও বাড়ায়। রক্তে বেশি মাত্রায় সুগার বাড়িয়ে দেয় নার্ভের ক্ষতি, নিউরোপ্যাথি হওয়ার আশঙ্কাও। বিশেষ করে দেহের প্রান্তীয় স্নায়ুর বড় ক্ষতি করে রক্তে মাত্রাতিরিক্ত শর্করার উপস্থিতি। ফলে পায়ের কোনও জায়গায় ছত্রাক সংক্রমণ, ঘা, ক্ষত তৈরি হলে রোগী তা বুঝতে পারেন না। সেখান থেকে হয় ঘা, ফুট আলসার এবং সেখান থেকে করতে হতে পারে ‘অ্যাম্পুটেশন’।
অন্যান্য সতর্কতা
শুধু সুগার কন্ট্রোল নয়। জোর দিতে হবে সামগ্রিক সুস্থতার উপর। অর্থাত্ ডায়াবেটিসের সঙ্গে ব্লাড প্রেশার এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকলে তাও কন্ট্রোল করা জরুরি।
জরুরি টিপস
• ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পর প্রথম ১০ বছরে খুব ভালোভাবে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে পরবর্তী ১০ বছর অন্যান্য সমস্যা থেকে দূরে থাকতে পারেন বা অন্যান্য শারীরিক জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়।
• সুতরাং ডায়াবেটিস ধরা পড়ার পরে প্রথম বছর ও পরবর্তী ১০ বছর কঠোরভাবে ডায়াবেটিস কন্ট্রোল জরুরি।
খুদেদের ডায়াবেটিস
আরও একটা বড় উদ্বেগের বিষয় হল, শিশুদের মধ্যে ক্রমশ বেড়েই চলেছে স্থূলত্বের মাত্রা। খুব কমবয়সি বাচ্চার মধ্যেও টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। আশার কথা একটাই, আর তা হল ছোটদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন করে এই সমস্যা থেকে মুক্ত হওয়া সম্ভব।
দেখা গিয়েছে ছোটদের স্থূলত্বের জন্য দায়ী মূলত ফাস্ট ফুড, ময়দার তৈরি খাদ্য, ভাজা, প্রিজারভেটিভ দেওয়া রেডি টু ইট ফুড, কোল্ড ড্রিংকস, মাত্রাতিরিক্ত চকোলেট খাওয়ার অভ্যেস। অতএব স্কুলে যাওয়ার বয়স থেকেই ওদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা দরকার। আর তার সঙ্গে ওদের একবেলা একটু খেলাধুলোর জন্য সবুজ মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে। তা না সম্ভব হলে তাকে সাইক্লিং করতে বলুন। তাতেও কাজ হবে।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, ছোটদের যে সব কারণে ওজন বাড়ে ঠিক একই কারণে বড়দেরও ওজন বৃদ্ধি পায়। বড়দের ওজন নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতিও কিন্তু একই। তাই তাঁরাও সারাদিনে অন্তত ৪০ মিনিট ঘাম ঝরানো যায় এমন কাজ করুন। হনহন করে হাঁটুন, সাইকেল চালান, জগিং করুন। ওজন কমবে, ডায়াবেটিসের সঙ্গে ব্লাড প্রেশার, কোলেস্টেরলও আসবে নিয়ন্ত্রণে।
এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন আসতে পারে, এই যে বারংবার খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের কথা বলা হচ্ছে তা আসলে কী? ঠিক কোন খাদ্য খাওয়ার কথা বলা হচ্ছে যা পরিবর্তন আনতে পারে ডায়াবেটিস রোগীর জীবনে?
এককথায় উত্তর হল ফিরে আসুন সনাতন খাদ্যাভ্যাসে। বন্ধ করুন পশ্চিমী খাদ্যাভ্যাসের অনুকরণ। প্রতিদিনের খাবারের মধ্যে থাক প্রচুর পরিমাণে শাকসব্জি। খান একটি করে মরশুমি ফল। খান মাছ। মাছে যে প্রোটিন থাকে তা অত্যন্ত উপকারী।
বার্গার, রোল-এর মাধ্যমে আলাদা করে ময়দার পাঁউরুটি না খেয়ে বরং সরাসরি ফাইবারযুক্ত হাত রুটি খান। রুটিতে ফাইবার থাকার কারণে দ্রুত পেট ভরায়। শরীরে ক্যালোরিও বেশি ঢোকে না। ভাতও খেতে পারেন। তবে আতপ চালের ভাত খেলে চলবে না। খেতে হবে সেদ্ধ চালের ভাত। আতপ চালের কোনও পুষ্টিগুণ নেই। শুধু ক্যালোরি আছে। সেদ্ধ চালে তুলনামূলকভাবে ফাইবার, ভিটামিন, খনিজের মাত্রা অনেক বেশি থাকে।
বাড়তি সতর্কতা হিসেবে চিনি, মিষ্টি খাওয়ার অভ্যেস ত্যাগ করুন।
পছন্দের সব খাবারই কি তাহলে বন্ধ?
একেবারেই না। ডায়াবেটিস রোগী সবই খেতে পারেন। বিশেষ করে যাদের সুগার যথেষ্ট মাত্রায় নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তাঁরা আমের সময় সপ্তাহে অর্ধেক আম খেতে পারেন। তবে একেবারে গোটা পাঁচেক আম খেলে চলবে কেন! ডায়াবেটিস কন্ট্রোলে থাকলে অনুষ্ঠান বাড়িতেও খেতে পারেন সব কিছুই অল্প অল্প করে। গলা পর্যন্ত না খেলেই হল। আর হ্যাঁ, প্রতিদিন নিয়ম মেনে অবশ্যই করতে হবে এক্সারসাইজ। তবেই পাবেন কাঙ্ক্ষিত ফলাফল। ক্রমশ ওষুধের প্রয়োজনীয়তা কমতে থাকবে। একসময় শৃঙ্খলাবদ্ধ হবে জীবন এবং সম্ভবত ওষুধের দরকারও হবে না।
পরামর্শদাতা আর এন টেগোর হাসপাতালের এন্ডোক্রিনোলজিস্ট।
লিখেছেন: সুপ্রিয় নায়েক



