Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অশোকনগরে ছাত্রী, হরিণঘাটায় শিক্ষিকা সরস্বতী আরাধনায় মহিলা পুরোহিত

অশোকনগরে ছাত্রী, হরিণঘাটায় শিক্ষিকা সরস্বতী আরাধনায় মহিলা পুরোহিত
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত, সংবাদদাতা, কল্যাণী: ‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর…’ নজরুল ইসলাম বহুদিন সেই কবে শুনিয়ে গিয়েছিলেন। বাংলার অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, ‌নারী আর পুরুষের সমানাধিকারের ধারণা শিশু অবস্থাতেই মনে গেঁথে দিতে পারলে, সমাজের ভিত শক্ত হয়। স্বচ্ছ হয়। অনেকটা সেই ধারণা থেকেই তিনবছর ধরে ছাত্রীদের হাতে সরস্বতী পুজোর পুরোহিতের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হচ্ছে। অশোকনগর বিদ্যাসাগর বাণীভবন উচ্চ বিদ্যালয় এ কারণে প্রতিবছরই থাকে সংবাদ শিরোনামে। এ বছরও সে ধারা অব্যাহত। এই বিদ্যালয় শুধু নয়। হরিণঘাটার বড়জাগুলির রাজলক্ষ্মী কন্যা বিদ্যাপীঠেও পুরোহিতের ভূমিকা পালন করেছেন এক শিক্ষিকা।
Advertisement
বাণীভবন উচ্চ বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির কলা বিভাগের ছাত্রী পূর্ণিমা বাড়ুই পুজো করল শনিবার। শুদ্ধ উচ্চারণে মন্ত্রপাঠ করল। প্রায় ৯০০ জন অঞ্জলি দিলেন। পূর্ণিমা রাজ্যস্তরের ভলিবল খেলোয়াড়। তাঁকে অন্যরকম ভূমিকায় দেখে এদিন চমকে গিয়েছিলেন অনেকে। পূর্ণিমা মন্ত্রোচ্চারণ শুদ্ধ করতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক আর্যদেব ভট্টাচার্যর কাছে একমাস ধরে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। প্রথমদিকে তার গলা শুকিয়ে আসত ভয়ে। ধীরে মন্ত্র আত্মস্থ করে ফেলে। পাঁচ পাতার একটি নোটস দিয়েছিলেন শিক্ষক। বাড়িতে তা পড়ত পূর্ণিমা। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, ব্রাহ্মণ না হয়েও কেন পূর্ণিমাকে পুরোহিত করা হয়েছে? বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক ডঃ মনোজ ঘোষ বলছেন, ‘পুজোতে ভক্তিই হল আসল। সমস্ত বেড়াজাল দূরে সরিয়ে রাখতেই আমাদের এই ভাবনা। মহিলারাও যে সমাজের পরিচালক সেই বার্তা দিতেই তিনবছর ধরে ছাত্রীদের দিয়ে পুজো করাচ্ছি।’ প্রধান জানান, ‘খাবার হোক আধপেটা কিন্তু শিক্ষা চাই ভরপেট-এই বার্তা পুজোর মাধ্যমে দিতে চেয়েছি।’ 
পূর্ণিমা থাকে অশোকনগরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে। এদিন ভোরে উঠে স্নান সেরে সাদা-সবুজ শাড়ি পরে স্কুলে আসে। টোটোতে আসতে আসতেও মন্ত্র পড়েছে। স্কুলে তাকে দেখার জন্য ভিড় জমেছিল। পূর্ণিমা বলে, ‘আমার সঙ্গে আর্যদেব স্যার ছিলেন সবসময়। পুজো করার অনুভূতি বলে বোঝাতে পারব না। পুজো শেষ করে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়েছিলাম। তারপর কলকাতায় ভলিবল টুর্নামেন্ট যোগ দিই।’ আর্যদেববাবু বলেন, ‘খুব নিষ্ঠা সহকারে পুজো করেছে। মন্ত্র উচ্চারণই মূল বিষয়। সেই কাজটা সঠিকভাবেই করেছে।’
এর পাশাপাশি হরিণঘাটার রাজলক্ষ্মী কন্যা বিদ্যাপীঠে সরস্বতী পুজোর ভাবনা ছিল, ‘ছাত্রীদের স্বনির্ভর করা’। ছাত্রীদের তৈরি বিভিন্ন জিনিসের প্রদর্শনী ছিল। ছিল খাবারের স্টল। পুজোর পুরোহিত হন এক শিক্ষিকা। পুজোর যাবতীয় কাজ করেছেন শিক্ষিকারাই। পরিচালন কমিটির সভাপতি ডঃ কৃষ্ণা ভৌমিক জানান, ‘১৯৫৫ সালে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়েছিল।’
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ