মেহতাব হোসেন: দীর্ঘ খেলোয়াড়ি জীবনে বহু অভিজ্ঞতার সাক্ষী হয়েছি। ট্রেভর জেমস মরগ্যান থেকে আর্মান্দো কোলাসো, বিভিন্ন কোচকে সামনে থেকে দেখেছি। প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা ফুটবল দর্শন। এমনকি, স্ট্র্যাটেজি এবং ম্যান ম্যানেজমেন্ট স্টাইলও ভিন্ন। সাম্প্রতিক ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে, ভাগ্যিস অস্কার ব্রুজোঁর অধীনে খেলতে হয়নি! সোশ্যাল সাইটের নিউজ ফিড স্ক্রল করলেই ব্রুজোঁর একঘেয়ে বক্তব্য ভেসে আসছে। এক্স হ্যান্ডলেও অভিযোগের পাহাড়। মনে হচ্ছে, অস্কারের মানসিক স্থিরতা নেই। ওঁর জন্য ভারতীয় ফুটবলের দরজা চিরতরে বন্ধ হওয়া উচিত। মিস্টার ব্রুজোঁ, আপনার মানসিক সুস্থতা কামনা করি।
স্প্যানিশ কোচের অধীনে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয় ইস্ট বেঙ্গল। শুনেছিলাম, ইস্ট বেঙ্গল তাঁকে চুক্তি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। অহেতুক গড়িমসি করে সময় কাটিয়েছেন অস্কার। মোটা বোনাস পকেটে পুরে পরবর্তীতে ইন্দোনেশিয়ার ক্লাবে পাড়ি দেন তিনি। পেশাদার কোচ। নিজের গন্তব্য বেছে নেওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে তাঁর। কিন্তু ইস্ট বেঙ্গলকে এতদিন ঝুলিয়ে রাখার কারণ কী? এমন মানসিকতার মানুষ যেকোনো দলের জন্য ক্ষতিকারক। তবু অস্কারের প্রতি সমর্থকদের সহানুভূতি ছিল। কিন্তু ওঁর আচরণ ব্যুমেরাং হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আইএসএলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার প্রায় চার মাস পর অহেতুক বিতর্ক উসকে দেওয়ার মানে কী! মনে হয়, নিজেকে লাল-হলুদের মসিহা ভাবছিলেন অস্কার। জোর ধাক্কা খেয়েছে তাঁর সেই অহমিকা। নতুন চুক্তি নিয়ে গড়িমসি করা স্প্যানিশ কোচের পরিবর্তে ইস্ট বেঙ্গল কর্তারা বেছে নেন আন্তোনিও হাবাসকে। তিনি সাফল্য পাওয়াতেই ব্রুজোঁর এমন গাত্রদাহ। পেশাদার কোচের কাছে এ ধরনের আচরণ বেমানান। যাইহোক, পুরানো ক্লাব কর্তাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ যখন তিনি এনেছেন, তখন সত্যতা প্রমাণের দায়িত্বও তাঁর। অন্যথায় ইস্ট বেঙ্গল ম্যানেজমেন্টের উচিত আইনের দ্বারস্থ হওয়া। প্রয়োজনে ফিফার কাছে যাক কর্তারা।
ইস্ট বেঙ্গলের ড্রেসিং-রুমে রাজনীতি নেই। আশা করব, ভবিষ্যতেও থাকবে না। এটা আসলে দলের ফোকাস নষ্ট করার চক্রান্ত। ইস্ট বেঙ্গলের সদস্য-সমর্থকরা অস্কারের অভিসন্ধি বুঝে গিয়েছেন।