সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কলকাতা: শুক্রবার সকালে কাঠফাটা রোদে মহড়ায় ব্যস্ত ইস্ট বেঙ্গল। যুবভারতীর অনুশীলন মাঠে ওয়ার্ম-আপ শেষ, শুরু হয়েছে সিচুয়েশন ড্রিল। কিন্তু অস্কার ব্রুজোঁর নজর অন্যদিকে। মাঠ সংলগ্ন পাঁচতারা হোটেলে কিছু একটা দেখার চেষ্টায় তিনি। চুপিসারে কেউ তাঁর দলের স্ট্র্যাটেজির উপর নজর রাখছেন কি? এই হোটেলই যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহন বাগানের ঘাঁটি। কিছুক্ষণের মধ্যে আশঙ্কা সত্যিই হল। কিন্তু ব্রুজোঁও ধুরন্ধর। পালতোলা নৌকাকে প্রথম একাদশের আঁচ পেতে দিলেন না তিনি। কী করলেন? সিচুয়েশন প্র্যাকটিসে মূল দলের সঙ্গে জুড়লেন রিজার্ভ বেঞ্চের একাধিক ফুটবলারকে। স্প্যানিশ কোচ যেন বোঝাতে চাইলেন, ‘যত খুশি দ্যাখো, কিন্তু কিছুই ধরতে পারবে না।’— সতিই এদিন ইস্ট বেঙ্গলের অনুশীলন রীতিমতো গুপ্তচরবৃত্তির আখড়া হয়ে উঠেছিল।
ডুরান্ডের ডার্বিতে মোহন বাগানকে হেলায় হারিয়েছিল ইস্ট বেঙ্গল। শনিবারও সেই ধারা বজায় রাখতে চান ব্রুজোঁ-ব্রিগেড। তার উপর, মঞ্চটা ঐতিহ্যশালী আইএফএ শিল্ডের ফাইনাল। শনিবার হারলে ডুরান্ড ডার্বি জয় কেউ মনে রাখবে না। তাই এদিন অনুশীলনে বেশ সতর্ক ব্রুজোঁ। সিচুয়েশন প্র্যাকটিসে রক্ষণে রাকিপ, কেভিন সিবলে, জয় গুপ্তার সঙ্গে মার্তণ্ড রায়নাকে রেখেছিলেন তিনি। মাঝমাঠে দুই ডিফেন্সিভ ব্লকার সাউল ও শৌভিকের উপরে মিগুয়েল। ডানদিকে এডমুন্ড, বাঁ প্রান্তে বিপিন। সিঙ্গল স্ট্রাইকারে হামিদ। এই টিমে আনোয়ার আলি, নাওরেম মহেশকে না দেখে অনেকে অবাক। আসলে মোহন বাগানের গুপ্তচরদের ধাঁধায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এই দুই তারকাকে ডার্বির প্রথম একাদশে দেখা যাবে। নতুন রিক্রুট হিরোশি ইবোসুকিকে পরিবর্ত হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। শনিবার মোহন বাগানকে বধ করতে সেটপিস মুভই প্রধান অস্ত্র লাল-হলুদ কোচের। এদিন সিচুয়েশন প্র্যাকটিসের পর দীর্ঘক্ষণ কর্নার এবং ফ্রি-কিকের মহড়া সারলেন লাল-হলুদ ফুটবলাররা। এই পর্বে নজর কাড়লেন জাপানি স্ট্রাইকার। দুরন্ত হেডে দু’বার জাল কাপাঁলেন তিনি। যা চোখ এড়ায়নি অস্কারের। তাই ডার্বিতে এই জাপানি স্ট্রাইকার ইস্ট বেঙ্গলের তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন। পাশাপাশি অনুশীলন শেষে বিপিন সিং ও আনোয়ারের সঙ্গেও আলাদা করে কথা বললেন কোচ। শনিবার জেসন কামিংসদের শান্ত রাখার প্রধান দায়িত্ব আনোয়ারের কাঁধেই থাকবে। আর বিপিন তো সবুজ-মেরুন জার্সি দেখলেই জ্বলে ওঠেন। মুম্বই সিটিতে থাকাকালীন মোহন বাগানের জালে একাধিকবার বল ঠেলেছেন তিনি। ডার্বিতেও তার পুনরাবৃত্তি চায় লাল-হলুদ ব্রিগেড।