আহমেদ শায়েক: অস্কার ব্রুজোঁ বনাম ইস্ট বেঙ্গল। সোশ্যাল সাইটে যুদ্ধ চরমে। বাংলাদেশে বসেও লাল-হলুদ সমর্থকদের মনের অবস্থা টের পাচ্ছি। নামটা অস্কার ব্রুজোঁ বলে আমিও বেশ কৌতূহলী। বসুন্ধরা কিংসের মিডিয়া ম্যানেজার হিসাবে দীর্ঘদিন কাজ করার সুবাদে অস্কারকে চিনি হাতের তালুর মতো। তাই ওঁর আচরণে বিন্দুমাত্র অবাক নই। ইয়ে তো হোনা হি থা। কথায় বলে, স্বভাব যায় না মলে। বাংলাদেশ হোক বা কলকাতা— ব্রুজোঁও একইরকম। অস্কার মানেই ঘরের ভিতর ঘর। স্বার্থ মিটলে পরম বন্ধুকেও শত্রু বানাতে সময় নেন না তিনি।
বসুন্ধরা কিংসে জাঁকিয়ে বসেছিলেন অস্কার। মিগুয়েল, রবসনদের নিয়ে সুখের সংসার। কিন্তু ক্রমাগত সাফল্যে ধরাকে সরা জ্ঞান করলেন। বাংলাদেশে রবসনের পরম বন্ধু ছিল মিগুয়েল। প্রথমদিকে মিগুয়েলকে বাংলাদেশে থিতু হতে সাহায্য করেছিল রবসন। কিন্তু তারপর? দুই বন্ধুর বিভাজন। কথাবার্তাও বন্ধ। ইচ্ছা করলেই দূরত্ব মেটাতে পারতেন অস্কার। তা না করে আগুনে ঘি দিলেন। রবসন তখন ব্যাড বয়। একদিন মেজাজ হারিয়ে অধিনায়কের আর্ম ব্যান্ডও ছুড়ে মারে রবসন। আসলে অস্কারের ম্যান ম্যানেজমেন্ট জিরো। তারকাদের নিয়ে চলতে পারেন না। শুনেছিলাম ইস্ট বেঙ্গলে দিয়ামানতাকোস, ক্লেটন সিলভার মতো ফুটবলারের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছিলেন তিনি। তাতে মোটেও অবাক হইনি। আরও আছে। আমাদের টিম ম্যানেজারকে বিশেষ পছন্দ করতেন না তিনি। এমনকি, ম্যানেজার বদলের জন্য ক্লাব প্রেসিডেন্টের কান ভারী করতেন রোজই। পছন্দের লবি তৈরি করা অস্কারের রোগ। পালটা প্রশ্ন হলেই বিদ্রোহ মনে করেন। জুনিয়র ফুটবলার খেলানোতেও আগ্রহী নন। তাই পদ্মাপারে সাফল্য পেলেও তলায় তলায় বারুদ জমছিল। আরও শুনতে চান? সোশ্যাল সাইটে বড্ড বেশি সময় দেন অস্কার। সেখানে কেউ সমালোচনা করলেই ব্লক। আমি নিশ্চিত, এই লেখা প্রকাশের পর অস্কার রাগ উগরে দেবেন। কিন্তু পিছিয়ে আসতে রাজি নই। ওঁর আসল চেহারা সবার জানা দরকার।
(লেখক বাংলাদেশের ক্লাব বসুন্ধরা কিংসের প্রাক্তন মিডিয়া ম্যানেজার)