


সঞ্জয় সরকার, কলকাতা; ২২ বছর! সময়টা নেহাৎ কম নয়। ২০০৩-২০০৪ মরশুমের পর শীর্ষ লিগ জেতা হয়নি ইস্ট বেঙ্গলের। কখনও সালগাওকর, তো কখনও ওএনজিসি ছাই ঢেলে দিয়েছে বাড়া ভাতে। আই লিগেও বার তিনেক খেতাবের কাছাকাছি পৌঁছে ঘটেছে পদস্খলন। আর আইএসএল? প্রথম পাঁচ মরশুমে লিগ টেবিলের ৯ নম্বরের উপরেই উঠতে পারেনি মশাল বাহিনী। যাবতীয় হতাশা, ব্যর্থতা কাটিয়ে অবশেষে দেশের এক নম্বর লিগ জয়ের দোরগোড়ায় লাল-হলুদ ব্রিগেড। বৃহস্পতিবার ইন্টার কাশীকে হারাতে পারলেই আইএসএল ট্রফি স্পর্শ করার সুবর্ণ সুযোগ ইস্ট বেঙ্গলের সামনে। গোল্ডেন চান্স বারবার আসে না। আর সেটা কাজে লাগাতে মরিয়া মিগুয়েলরা। তবে শেষ হাসি হাসার জন্য ইন্টার কাশীকে হারানোর পাশাপাশি নির্ভর করতে হবে মোহন বাগান বনাম দিল্লি এফসি ম্যাচের উপরও। লাল-হলুদ স্প্যানিশ কোচ অবশ্য সেসব নিয়ে মাথা ঘামাত নারাজ। তাঁর সাফ মন্তব্য, ‘আমাদের একটাই লক্ষ্য, বৃহস্পতিবার ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে জিতে মাঠ ছাড়া। আর কিছুই ভাবছি না।’ প্রথমার্ধেই কাশীর দুর্গে ফাটল ধরাতে আত্মবিশ্বাসী মিগুয়েলরা।
রবিবার ডার্বিতে দাপট দেখিয়েও জয় অধরাই ছিল ইস্ট বেঙ্গলের। বললেন, ‘দেড় বছর আগে এমনই এক ডার্বিতে দায়িত্ব নিয়েছিলাম। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে ছিলাম। এবার দল শুরু থেকে ছন্দে। দু’টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে হেরেছি টাই-ব্রেকারে। গত ম্যাচেও সিংহভাগ দাপট রেখে সামান্য ভুলে জয় হাতছাড়া হয়েছে। তবে ওই ম্যাচ অনেক কিছু শিখিয়েছে। বৃহস্পতিবার আর আপশোস করতে চাই না।’ পয়েন্ট টেবিলে দশম স্থানে রয়েছে ইন্টার কাশী। তবে প্রতিপক্ষকে মোটেই হালকাভাবে নিতে নারাজ অস্কার। তাঁর সংযোজন, ‘কাশী যথেষ্ট ভালো দল। মোহন বাগানকে রুখে দিয়েছিল ওরা। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
বৃহস্পতিবার সোয়বার্গের জায়গায় দলে আসতে পারেন ইউসেফ এজেজ্জারি। উল্লেখ্য, ১০টি লক্ষ্যভেদে সর্বাধিক গোলদাতার দৌড়ে সবার আগে স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। তাঁর কথায়, ‘টপ স্কোরার হতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগবে। তবে আমার এখন একটাই লক্ষ্য, ক্লাবকে ট্রফি এনে দেওয়া।’ মাঝমাঠে জিকসন, রশিদ, মিগুয়েলের ত্রিভুজই অস্কারের ভরসা। কিশোর ভারতীর মাঠ যুবভারতীর তুলনায় কিছুটা ছোটো। তাই ডেড বল মুভমেন্টে বাড়তি জোর দিচ্ছেন অস্কার। উইং হাফে বিষ্ণু, বিপিনের সঙ্গে তৈরি রাখা হচ্ছে নন্দকে। তবে গত ম্যাচে লাল কার্ড দেখায় বৃহস্পতিবার নেই এডমুন্ড।