নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা? পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে ইতিমধ্যেই ভারতের অর্থনীতি টালমাটাল। শেয়ার বাজারে ধস। টাকার প্রাত্যহিক রেকর্ড পতন। জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার আভাস। এয়ার ফুয়েল টার্বাইন থেকে প্রিমিয়াম পেট্রলের দাম আকাশছোঁয়া। এসবের মধ্যেই বেকারত্ব আবার নতুন সঙ্কট নিয়ে এসেছে। একের পর এক তথ্য প্রযুক্তি সংস্থার বিপুল কর্মী ছাঁটাই শুরু হয়েছে। বহুজাতিক সংস্থা ওরাকল বিশ্বজুড়ে মোট ৩০ হাজার কর্মীছাঁটাই করেছে। তার মধ্যে ১২ হাজার ভারতের। ভারতে ওরাকলের মোট কর্মী সংখ্যা ৩০ হাজার। তার মধ্যে ১২ হাজার কর্মীকে সকাল সাড়ে ৬ টায় ইমেল করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, আর চাকরি নেই। ইস্তফা দিতে হবে। ২০২৫ সালে টিসিএস ঠিক এভাবেই ১২ হাজার কর্মী ছাঁটাই রেছিল। তার আগেই আমাজন ছেঁটেছিল ১০ হাজারের বেশি কর্মী। ২০২৬-২৭ আর্থিক বছর শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই ওরাকলের মতো বিখ্যাত সংস্থার পক্ষ থেকে কাজের দুনিয়ায় এই আঘাত প্রবল আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। প্রসঙ্গত নীতি আয়োগ কয়েকমাস আগেই তাদের একটি রিপোর্টে বলেছিল ২০২৩ সাল থেকে ২০৩১ সালের সময়সীমায় ভারতে ২০ লক্ষ কাজ হারাবে তথ্য প্রযুক্তি সেক্টর। ‘রোডম্যাপ ফর জব ক্রিয়েশন ইন দ্য এআই ইকনমি’ শীর্ষক ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল, আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স একদিকে যেমন নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করবে, তেমনই বহু চাকরি চলে যাবে। সেই পর্ব কি শুরু হয়ে গেল? সেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। টিসিএস, আমাজন, ওরাকল একাই নয়। দেশি ও বিদেশি তাবৎ তথ্য প্রযুক্তি সংস্থাই আভাস দিয়েছে ভারতে কর্মীছাঁটাই করতেই হবে। তারা রিফর্ম নাম দিয়েছে এই প্রক্রিয়াকে। জানা যাচ্ছে, ২০২৬ সালে আরও ৬৫ হাজার কর্মীছাঁটাইয়ের সম্ভাবনা তথ্য প্রযুক্তি সেক্টরে। আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স এবং অটোমেশনের জেরে কর্মীসংকোচন হবে বিপুল আকারে। প্রসঙ্গত নীতি আয়োগ গত অক্টোবর মাসে তাদের রিপোর্টে সরকারকে প্রস্তুত থাকতে বলেছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাধের ডিজিটাল ইন্ডিয়ায় বিগত ১০ বছরে সবথেকে বেশি যে সেক্টর কর্মসংস্থান দিয়েছে, সেই তথ্য প্রযুক্তি এখন সবথেকে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। মোদির আরও একটি প্রিয় প্রচারের ক্ষেত্র হল স্টার্ট আপ। অথচ সেই স্টার্ট আপে ভারতের কর্মীছাঁটাইয়ের সংখ্যা বিগত ৫ মাসে পাঁচ হাজার! সুতরাং যুদ্ধ এবং বেকারত্ব—অর্থনীতি রীতিমতো বিপদের দোরগোড়ায়।



