


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বুধবার ‘ধ্বনি ভোটে’ খারিজ হয়ে গেল লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব। যদিও বিরোধীরা ভোটাভুটিতে অংশই নিল না। ‘ওয়াক আউট’ করল। তাদের দাবি ছিল, ‘অসংসদীয়’ শব্দ বলার জন্য আগে অমিত শাহকে ক্ষমা চাইতে হবে। তারপর ভোটাভুটি। কিন্তু স্পিকারের আসনে বসা বিজেপির জগদম্বিকা পাল অনুমোদন করলেন না। ঘোষণা করলেন ভোটাভুটির।
স্রেফ বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে আক্রমণই নয়। তৃণমূলের সৌগত রায় কিছু বলতে গেলে তাঁকেও উপহাস করেন অমিত শাহ। বিরোধীদের তেমনটাই অভিযোগ। সৌগতবাবুকে বলেন, ‘দাদা আপ বইঠ যাইয়ে। নেহি তো মমতাদিদি আপকা টিকিট কাট দেগি।’ শুনেই প্রতিবাদে সরব হন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অমিত শাহকে পালটা শুনিয়ে দেন, পরের ভোটে আপনার টিকিট কোথায় থাকবে দেখব। আর ওই মন্ত্রীর আসনে বসতে হবে না। ঊনত্রিশের ভোটে বিরোধী আসনে বসবেন।
স্পিকার পক্ষপাতদুষ্ট, এই অভিযোগে ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আচমকাই বেফাঁস শব্দ বলে বসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর যেই না দু’ অক্ষরের ওই শব্দটি বলা, সরব হন মহুয়া মৈত্র। প্রতিবাদে ছুটে আসেন অমিত শাহর আসনের সামনে। রাহুল, প্রিয়াঙ্কার কাছে দৌড়ে গিয়ে বোঝান কী বলেছেন অমিত শাহ। ওয়েলে নেমে সোচ্চারে গলা মেলাল বিরোধীরা। চাপে পড়ে অমিত শাহ বলতে বাধ্য হলেন, ‘আমার কোনো শব্দ আপত্তিকর হলে সংসদের রেকর্ড থেকে বাদ দিয়ে দিন।’
আলোচনার বিষয় ছিল স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা। কিন্তু অমিত শাহ সমানে রাহুল গান্ধী কতটা অযোগ্য বিরোধী দলীনেতা, তা প্রমাণের মরিয়া চেষ্টা চালালেন। একইসঙ্গে বললেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা যেতেই পারে। ক্ষমতা থাকলে আনুন।
তাই বলে মহান স্পিকার ওম বিড়লার বিরুদ্ধে? মোটেই সমর্থন যোগ্য নয়।
কংগ্রেসকে আক্রমণের অস্ত্র হিসেবে ইন্দিরা গান্ধীর জারি করা ‘জরুরি অবস্থা’র কাটা রেকর্ড বাজালেন। রাহুলের উদ্দেশে বললেন, উনি তো সংসদ চললেই অধিকাংশ সময় বিদেশে থাকেন।
এদিন আলোচনার মধ্যেই সরকারকে এক হাত নেন রাহুল। বিরোধীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগে সরব হন। বলেন, সংসদ পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করে। কোনো একটি দলের নয়। রাষ্ট্রপতির অভিভাষণের ওপর আলোচনায় ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এই প্রথমবার লোকসভায় বিরোধী দলের নেতাকে বলতে দেওয়া হয়নি। আমেরিকার চাপে প্রধানমন্ত্রী যে কম্প্রোমাইজড, সেটাই তো বলতে চেয়েছি। অথচ বলতে দেওয়া হয়নি। তৃণমূলের বক্তা সায়নী ঘোষও বিরোধীদের কণ্ঠরোধের অভিযোগ করেন। তোলেন, ওম বিড়লা কীভাবে শতাধিক বিরোধী সাংসদদের সাসপেন্ড করে বিল পাশ করিয়েছেন সেই প্রসঙ্গ।