‘সরকার বদলে’র বিক্ষোভে জড়ালে সরকারি চাকরি নয়, যোগী সরকারের ফতোয়া নিয়ে তোপ বিরোধীদের
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

লখনউ: জেন জি প্রতিবাদের ঢেউয়ে কি আতঙ্কিত যোগী আদিত্যনাথ সরকার? উত্তরপ্রদেশ সরকারের সাম্প্রতিক একটি নির্দেশিকা ঘিরে এই প্রশ্নই তুলছে বিরোধীরা। কারণ ওই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, হিংসা ছড়িয়ে ‘শাসনক্ষমতা পরিবর্তনে’র (রেজিম চেঞ্চ) আন্দোলনে জড়িত থাকলে বন্ধ হবে সরকারি চাকরি পাওয়ার দরজা। আর সেই লক্ষ্যেই সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের ক্যারেক্টার ভেরিফিকেশনের নিয়ম আরও শক্তপোক্ত করেছে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার। তবে একইসঙ্গে নির্দেশিকায় যোগী প্রশাসন স্পষ্ট করে বলেছে, কে কোন রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী, শুধুমাত্র তার ভিত্তিতে কোনো প্রার্থী অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না। যদিও তাতে রাজনৈতিক বিতর্ক থামছে না। এই ইস্যুতে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। 

Advertisement

সমাজবাদী পার্টির কটাক্ষ, পরাধীন ভারতের ব্রিটিশ শাসকদের মতো মনোভাব দেখাচ্ছে যোগী সরকার। অখিলেশ যাদবের দলের মুখপাত্র উদয়বীর বলেন, স্বাধীন ভারতে প্রতিবাদ প্রদর্শন সাংবিধানিক অধিকার। আইনি পথে নির্বাচনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাসনক্ষমতায় পরিবর্তন হয়। কিন্তু বর্তমান সরকার ভীতি প্রদর্শনের মানসিকতা নিয়ে চলছে। এই নির্দেশিকায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের ছায়া দেখছি আমরা। কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভির তোপ, যোগী আদিত্যনাথ সরকার বিচারকের ভূমিকা নিচ্ছে। এধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার কি সরকারের? আদালত বলে কি কিছুই নেই? সরকার যে জেন জি আন্দোলনে ভয় পেয়েছে, এই নির্দেশিকা থেকেই তা স্পষ্ট।
উত্তরপ্রদেশে পুলিশে নিয়োগ সহ বিভিন্ন চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে সম্প্রতি রাস্তায় নামতে দেখা গিয়েছে তরুণ-তরুণীদের। সেই আবহেই রাজ্য সরকারের নয়া নির্দেশিকা। এক্ষেত্রে এলাহাবাদ হাইকোর্টের একটি নির্দেশকে হাতিয়ার করে উত্তরপ্রদেশের নিয়োগ ও কর্মিবর্গ দপ্তরের প্রধান সচিব এম দেবরাজ এই নির্দেশিকা ইস্যু করেছেন। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর, নিগম, পরিষদ এবং স্থানীয় সংস্থাগুলিতে সরাসরি নিয়োগের জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে নয়া নীতি। সেখানে বলা হয়েছে, যেসব সংগঠনের ঘোষিত উদ্দেশ্য হিংসার  প্রচলিত ব্যবস্থা পরিবর্তন করা, সেই সব সংগঠনের সদস্যরা সরকারের অধীনে নিয়োগের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, কোনো চাকরিপ্রার্থীর বয়স ২১ বছর পূর্ণ হওয়ার পর যদি দেখা যায়, ভেরিফিকেশনের তারিখের পূর্ববর্তী তিন বছরের মধ্যে তিনি ওই ধরনের কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করেছেন বা সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছেন, তবে সেটি প্রমাণ হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে এই সময়কালের মধ্যে তাঁর ইতিবাচক বদল হয়েছে বলে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিললে বিষয়টি পুনর্বিবেচিত করা যেতে পারে। পাশাপাশি সংশোধিত বিধি অনুযায়ী, এফআইআর দায়ের হওয়া বা কোনো মামলায় বিচারাধীন থাকা কোনো প্রার্থীকে সরকারি চাকরির জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য করে তুলবে না। যোগী সরকার এটাও স্পষ্ট করেছে, ক্যারেক্টার ভেরিভিকেশন রিপোর্ট বকেয়া থাকার কারণে নিয়োগপত্র জারিতে বিলম্ব হবে না। প্রার্থীর কাছ থেকে ‘সেল্ফ ডিক্লারেশন’ ও নির্ধারিত নথিপত্র সংগ্রহের পর অস্থায়ী নিয়োগপত্র জারি করতে পারে কর্তৃপক্ষ।