পাটনা: বেতন হিসাবে পাওয়ার কথা ৪৬ হাজার টাকার কিছু বেশি। শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে কখনো ৫ লক্ষ, কখনো সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। নেপথ্যে শিক্ষাদপ্তরেরই কিছু কর্মী ও আধিকারিক। বেতন সংক্রান্ত নথিপত্রে গরমিল, ভুয়ো শিক্ষকদের নামে বেতন তোলা, অবৈধভাবে এইচআরএমএস (হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) পোর্টালে লগ-ইন করে কোটি কোটি টাকা লুট হয়েছে। নওয়াদা, পাটনা ও ভাগলপুরের স্কুলগুলিতে চালানো শিক্ষাদপ্তরের অভ্যন্তরীণ অডিট রিপোর্ট সামনে আসতেই রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনের অন্দরে। তড়িঘড়ি ৩৮টি জেলাতেই অডিটের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শাস্তির কোপে অন্তত চার আধিকারিক।
কীভাবে হয়েছে দুর্নীতি? অডিট রিপোর্টে উঠে এসেছে, নওয়াদার বেলাডিহ গ্রামের একটি স্কুলের এক হেড ক্লার্ক ও করণিক ওই প্রতারণার মূল কাজ করেছে। সঙ্গে ছিলেন এক শিক্ষক। অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসের বেতন বাবদ ৪৬ হাজার ৭৭২ টাকার বদলে ৪ লক্ষ ৯১ হাজার ৭৭২ টাকা ঢুকেছে। একইভাবে পরের মাসে ওই শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। অনুমোদন ছাড়াই বেতনের সঙ্গে বিপুল পরিমাণ ভাতা যোগ করে এই টাকা পাঠানো হয়েছিল। পাশাপাশি সমগ্র শিক্ষা মিশনের পক্ষ থেকে ওই শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ২ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা। যা কখনো অনুমোদনই করা হয়নি। সব মিলিয়ে ওই শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে অবৈধভাবে ঢুকেছে প্রায় সাড়ে ১০ লক্ষ টাকা।
একইভাবে পাটনায় দুনীর্তির পরিমাণ ৭৬ লক্ষ ৭১ হাজার ৯৮৩ টাকা। সেই ঘটনায় গুলজারবাগের এফএনএস অ্যাকাডেমির বিজয় কুমার বিদ্যার্থী নামের এক ক্লার্ককে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ভাগলপুরে আবার তনুশ্রী নামের এক ভুয়ো শিক্ষকের অ্যাকাউন্টে মাসের পর মাস ঢুকেছে বেতন। মোট দুর্নীতির পরিমাণ প্রায় ১ কোটি টাকা। ঘটনায় জেলা প্রোগ্রাম অফিসার শশী চন্দন চৌধুরীকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এই দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসতেই বিহারজুড়ে অডিটের নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী মিথিলেশ চৌধুরী। নভেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে এই অডিট শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এই ঘটনা অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেমের নিরাপত্তা নিয়ে রীতিমতো প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। অবিলম্বে পোর্টালের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।



