নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: করের ধাপ কমিয়ে সাধারণ মানুষকে দীপাবলির উপহার দিচ্ছেন বলে বার্তা দিতে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু বিরোধীরা তাঁকে এই কৃতিত্ব দিতে নারাজ। এর কৃতিত্ব যে বিজেপি বা প্রধানমন্ত্রীর নয়, বরং বিরোধীদের চাপের মুখেই যে সরকারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে সেটাই বোঝাতে কোমর বাঁধছে বিরোধীরা।
আগামী ৩ এবং ৪ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক। ৫৬তম এই কাউন্সিলের বৈঠকে ৪০ শতাংশের একটি জিএসটি স্ল্যাব তৈরিতে আইন সংশোধনের সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়া হবে। একইসঙ্গে জিএসটি হারের ধাপ কমানোরও সিদ্ধান্ত হবে বলেই জানা গিয়েছে। বর্তমানে জিএসটির পাঁচটি স্ল্যাব আছে। শূন্য, ৫, ১২, ১৮ এবং ২৮ শতাংশ। এবার সেটিকে কমিয়ে চারটি করতে চায় মোদি সরকার। শূন্য, ৫, ১৮ এবং ৪০ শতাংশ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত ১৫ আগস্ট লালকেল্লা থেকে ৪০ শতাংশের কথা ঘোষণা করেছেন। সাংবিধানিক কমিটি জিএসটি কাউন্সিলের অনুমোদনের আগেই নরেন্দ্র মোদি কী করে এই ঘোষণা করলেন, তা নিয়ে বিরোধীরা সরব। এই ইস্যুতে কাউন্সিলের আসন্ন বৈঠকে সরকারকে চেপে ধরা হবে বলেই ঠিক করেছে বিজেপি বিরোধী রাজ্যগুলি। কারণ, জিএসটির ধাপ কমলে অনেক ক্ষেত্রেই রাজ্যগুলিকে ব্যাপক রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। ওয়াকিবহাল মহলের মতো, বছরে গড়ে প্রায় ৮৫ হাজার কোটি রাজস্ব ক্ষতি হবে। জিএসটি আইন বলে ‘কমপেনসেশন সেস’ হিসেবে রাজ্যগুলির যা পাওনা, তাও সব রাজ্য ঠিক মতো পায়নি। তারই মধ্যে জিএসটির ধাপ কমালে আরও ক্ষতির মুখে পড়বে।
তাই আসন্ন বৈঠকের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে বিরোধীরা। জিএসটি হারের ধাপ কমানোর ক্ষেত্রে কোনও রাজ্যেরই আপত্তি নেই। কিন্তু তার জন্য রাজ্যের রাজস্ব ক্ষতি হলে কেন্দ্রকে তা পুষিয়ে দিতে হবে। এই দাবিতে সোচ্চার হবে বিজেপি বিরোধী রাজ্যগুলি। পশ্চিমবঙ্গের অর্থদপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য রবিবার বলেন, ‘জিএসটি আদায়ের কৃতিত্ব কেন্দ্রের নয়, রাজ্যের। তাছাড়া রাজ্য জিএসটি আদায় করে কোনও ব্যবসা করে না। জনকল্যাণেই তা ব্যবহার হয়। তাই নিজে বাহবার পিঠ চাপড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী জিএসটির হার তথা ধাপ কমিয়ে কৃতিত্ব নেবেন, তা হতে পারে না। জিএসটির হার কমলে সাধারণ মানুষের সুরাহার কৃতিত্ব বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির। কাউন্সিলের কোনও অনুমোদন ছাড়াই নরেন্দ্র মোদি ৪০ শতাংশ জিএসটি হারের কথা ঘোষণাই বা করেন কী করে?