Bartaman Logo
২২ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে তেলের সন্ধান করবে কেন্দ্র, জারি বিজ্ঞপ্তি

রাশিয়া এবং ইরান থেকে তেল আমদানি করলে সস্তা পড়বে। কিন্তু সেখানে রয়েছে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা। বাকি রইল আমেরিকা, ভেনিজুয়েলা ও ইরান ছাড়া পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ।

পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে তেলের সন্ধান করবে কেন্দ্র, জারি বিজ্ঞপ্তি
  • ২৭ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রাশিয়া এবং ইরান থেকে তেল আমদানি করলে সস্তা পড়বে। কিন্তু সেখানে রয়েছে আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা। বাকি রইল আমেরিকা, ভেনিজুয়েলা ও ইরান ছাড়া পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশ। সব ক্ষেত্রেই ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে অশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। তাই বেশি দামে তেল কিনে বেশি দামেই দেশে বিক্রি করতে হবে। কিন্তু তারও একটি সীমা আছে। ভারত সরকারের অনুমান, এভাবে চললে ভবিষ্যৎ জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করা যাবে না। আবার দেশেও আকাশছোঁয়া পেট্রপণ্যের দাম নিয়ে ক্ষোভ চরম আকার নেবে। এবার তাই আমদানি নির্ভরতা সামান্য হলেও কমানো যায় কি না, সেই প্রচেষ্টায় ঝাঁপাচ্ছে ভারত সরকার। দেশজুড়ে আবার সন্ধান চালানো হবে কোথায় কোথায় তেলভাণ্ডার ও গ্যাসের সঞ্চয় থাকতে পারে। ‘যেখানে পাইবে ছাই উড়াইয়া দেখো তাই’—আপ্তবাক্য স্মরণ করে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে স্থানগুলিতে তেল ভাণ্ডারের আভাস পাওয়া গিয়েছিল, কিন্তু কোনো কারণে সাফল্য আসেনি, সেইসব স্থানে আবার  সন্ধান চালানো হবে। এবার অত্যাধুনিক প্রযুক্তি হাতে আসায় এইসব সন্ধান কার্য সম্ভব বলে বলে মনে করা হচ্ছে। এই নিয়ে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক সোমবারই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। করা হয়েছে দ্রুত টেন্ডার আহ্বান। প্রধানত প্রথম পর্যায়ে পূর্ব ভারত ও দক্ষিণ পূর্ব ভারতের উপকুলবর্তী অঞ্চল, পূর্ব আন্দামানের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ডিরেক্টর জেনারেল অব হাইড্রোকার্বনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বিগত ১০ বছর ধরে যে ভৌগোলিক ডেটা রিপোর্ট আছে সেগুলি আবার বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে, কোথায় আছে  প্রাকৃতিক জ্বালানির সঞ্চয় ও ভান্ডারের আভাস। ঠিক কোন কারণে ওইসব সন্ধান ও গবেষণা বন্ধ হয়েছে, সেটাও খতিয়ে দেখা হবে। পূর্ণিয়া, মহানদী অববাহিকা, কাবেরী, আন্দামান ইত্যাদি স্থানকেই চিহ্নিত করা হয়েছে প্রথমে। এই তালিকায় ভবিষ্যতে আসতে চলেছে বাংলার রানাঘাট ও অশোকনগরও। ভারতের নিজস্ব তেল ও গ্যাসের ভাণ্ডার আবিষ্কার হলে অন্তত কিছুটা আত্মনির্ভরতা পাওয়া যাবে বলে মনে করছে সরকার। 

Advertisement

আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে গোটা কাজ শুরু হয়ে যাবে। ভারতে যত পেট্রলিয়াম পণ্য প্রয়োজন, তার অন্তত ৮৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। এলপিজির ক্ষেত্রে যত আমদানি করা হয় তার ৯০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে। সুতরাং সেই প্রণালী অনির্দিষ্টকালের জন্য এভাবে বন্ধ থাকলে এবং ভবিষ্যতেও এই রুটের অনিশ্চয়তা চলতে থাকলে ভারতের এলপিজি সংকট চরমে উঠবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ