নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁরা ভোটাধিকার ফিরে পেতে ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। তাঁদের স্বার্থে এবার আদালতের দ্বারস্থ হতে চলেছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। ট্রাইবুনালে আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি এবং যাঁরা এখনও আবেদন করেননি, তাঁদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। বৈধ ভোটারদের ক্ষেত্রে কোনো প্রশাসনিক সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসন দেবে বলে দাবি ঋত-শিবিরের। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান বিরোধী দলের বৈঠকে ফের চর্চায় উঠে এসেছে ‘ফিশ পলিটিক্স’। ২০১৪ সালের ৯ জুন নবান্নে বিমান বসুসহ বাম নেতাদের নিয়ে একটি বৈঠক করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন বিমানবাবুদের ফিশ ফ্রাই খাইয়েছিলেন মমতা। আর শুক্রবার নবান্নে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়সহ অন্যান্যদের শুভেন্দু খাওয়ালেন, ব্ল্যাক কফি, ফিশ রোল, চিকেন স্প্রিং রোল, মিষ্টি।
এদিন বিকালে নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ঋতব্রত ছাড়াও অরূপ রায়, ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, আখরুজ্জামান, ইমানি বিশ্বাস, গোলাম রব্বানি সহ ১৩ জন। সূত্রের খবর, বৈঠকে নিজেদের বিধানসভা এলাকার নানা বিষয় তুলে ধরেন বিধায়করা। তাঁদের এলাকার উন্নয়ন সংক্রান্ত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে এসআইআর ট্রাইবুনাল ও মসজিদে মাইক সংক্রান্ত বিষয়। ঋতব্রত বলেন, ‘আমরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হব। ট্রাইবুনালে আবেদনের সময়সীমা ৬ মাস বৃদ্ধি করার দাবি জানাব। আমাদের বিধায়করা রাস্তায় থেকে মানুষকে সহযোগিতা করবেন। ক্যাম্প করা হবে।’ বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক আখরুজ্জামান বলেন, ‘২৭ লক্ষ মানুষের নাম তালিকার বাইরে রয়েছে। ট্রাইবুনালের কারণে কেউ যেন বঞ্চিত না হন। জেলায় জেলায় ট্রাইবুনাল তৈরি করা হোক। আমরা হাইকোর্টে যেমন যাব, তেমনই নির্বাচন কমিশনেও চিঠি লিখব।’ বিরোধী দলের দাবি, বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের জানিয়েছেন, সরকারও চাইছে না কোনো বৈধ ভোটার ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হোক। সরকারের পক্ষ থেকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে যতটা সহযোগিতা প্রয়োজন, ততটা করা হবে।
অন্যদিকে, মসজিদ থেকে মাইক খুলে নেওয়ার বিষয়টি বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীকে জানান তৃণমূল বিধায়করা। ইতিমধ্যে মসজিদ থেকে ৩৮০০টি এবং মন্দির থেকে ১২০০টি মাইক খোলা হয়েছে বলে বৈঠকে তথ্য উঠে আসে। ঋতব্রত বলেন, ‘২০২০ সালে হাইকোর্টে একটি মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশের প্রেক্ষিতে তৎকালীন রাজ্য সরকার কোনো আবেদন করেনি।’ তবে ঋতব্রত শিবিরে থাকা একাধিক বিধায়ক বলেছেন, মসজিদ থেকে অনৈতিকভাবে মাইক খোলা হলে তাঁরা রাস্তায় নামবেন।