Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

একযোগে ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেবে বিরোধী শিবির

আজ বুধবার লোকসভায় ওয়াকফ সংক্রান্ত দুটি বিল পাশ করাতে মরিয়া মোদি সরকার। ‘দ্য ওয়াকফ সংশোধনী বিল ২০২৫’ এবং ‘দ্য মুসলমান ওয়াকফ (রিপিল) বিল ২০২৪।’

একযোগে ওয়াকফ বিলের বিরুদ্ধে ভোট দেবে বিরোধী শিবির
  • ২ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: আজ বুধবার লোকসভায় ওয়াকফ সংক্রান্ত দুটি বিল পাশ করাতে মরিয়া মোদি সরকার। ‘দ্য ওয়াকফ সংশোধনী বিল ২০২৫’ এবং ‘দ্য মুসলমান ওয়াকফ (রিপিল) বিল ২০২৪।’ লোকসভার ‘জিরো আওয়ার’ বাদ দিয়ে বেলা ১২টা থেকেই বিলটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে যাবে বলেই মঙ্গলবার জানিয়েছেন সংসদ বিষয়ক তথা সংখ্যালঘু বিষয়কমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু। তবে সম্মিলিত বিরোধীরা একজোট হয়ে আলোচনা শেষে ভোটাভুটি (ডিভিশন) চাইবে এবং বিরুদ্ধে ভোট দেবে। আলোচনা পর্বে প্রবল সমালোচনা করলেও বিল রুখতে কোনও জঙ্গি ভূমিকা নেবে না বলেই ঠিক হয়েছে। 

Advertisement

বিলটির বিরোধিতা করলেও তা যে আটকানো যাবে না, ভালোই জানে বিরোধীরা। কারণ সংখ্যা নেই। মেরেকেটে বিরোধীরা ২৩০/৩২। সরকারপক্ষ ২৯০ এর কাছাকাছি। তাই আলোচনা শেষে ভোটাভুটি চেয়ে  বিরোধীরা সরকারকে চাপ দেবে। সব বিরোধী দলই অবশ্যই সভায় সদস্যদের হাজির থাকার ‘হুইপ’ জারি করেছে। ভোটাভুটির স্ট্র্যাটেজি ঠিক করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের ‘সমন্বয়-৩’ কক্ষে মল্লিকার্জুন খাড়্গের সভাপতিত্বে ৩০ জন বিরোধী সাংসদ বৈঠকও করেন। তৃণমূলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নাদিমুল হক। সেখানেই ঠিক হয়েছে, সম্মিলিত বিরোধীরা বিরুদ্ধে ভোট দেবে। ফলে ওয়াকফ বিল ইস্যুতে আজ যে লোকসভা সরগরম হবে, বলাই বাহুল্য। আজ সকালে রাহুল গান্ধী দলীয় সাংসদদের পৃথক বৈঠক ডেকেছেন।
ওয়াকফ বিলের ওপর মোট আট ঘণ্টা আলোচনার জন্য ধার্য হয়েছে। যদিও সরকার তড়িঘড়ি বিলটি পাশ করাতে চেয়েছিল চার ঘণ্টা আলোচনায়। কিন্তু বিরোধীরা চাপ দেয় ১২ ঘণ্টার। বিরোধীদের ‘কৌশল’ হল, ১২ ঘণ্টা আলোচনা হলে বুধবারের মধ্যে তা শেষ হবে না। গড়াবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। বাজেট অধিবেশন শেষ ৪ এপ্রিল। ফলে বিলটি লোকসভায় পাশ হলেও রাজ্যসভায় হবে না। যদিও বিরোধীদের কৌশল ভেস্তে দিয়ে স্পিকার ওম বিড়লা বিষয় উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে জানিয়ে দিলেন, আট ঘণ্টা আলোচনা হবে। বিরোধীদের দাবি না মানায় তাঁরা স্পিকারের বৈঠক থেকে ‘ওয়াক আউট’ করেন। লোকসভায় পাশের পর বৃহস্পতিবার রাজ্যসভাতেও ৮ ঘণ্টার আলোচনায় ওয়াকফ বিল দুটি পাশ করানো হবে বলে জানান রিজিজু। 
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলি যে বিরোধিতা করবে, সেটা প্রত্যাশিতই। তাই বিজেপির উদ্বেগ বিরোধীরা নয়। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে ওয়াকফ বিল নিয়ে শেষ মুহূর্তে জোট শরিকদের অবস্থান কী হবে এবং  ভোটাভুটির সময় তারা কী করবে, এটাই সবথেকে বড় উদ্বেগে ফেলেছে সরকারপক্ষকে। আতঙ্ক এতটা‌‌ই যে, মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নীতীশকুমারের দলের দুই সাংসদকে নিয়ে পৃথক বৈঠক করে আশ্বাস চাইলেন। সংযুক্ত জনতা দলের এমপি সঞ্জয় ঝা বলেছেন, আমাদের কয়েকটি আপত্তির কথা জানিয়েছি। আশাকরি সেটা মানা হবে। কে সি ত্যাগী বলেছেন, বুধবারই দেখা যাবে আমাদের সিদ্ধান্ত। অর্থাৎ একেবারে শেষ মুহূর্তেও নিজেদের তাস দেখাতে চাইছে নীতীশকুমারের দল।
তেলুগু দেশম পার্টির মুখপাত্র প্রেম কুমার বলেছেন, চন্দ্রবাবু নাইডু বলেই দিয়েছেন, ওয়াকফ নিয়ে মুসলিমদের কোনও ক্ষতি হতে দেবেন না। সেইমতোই আমাদের অবস্থান। চিরাগ পাসোয়ানের দলের অরুণ ভারতী অবশ্য বলেছেন, মুসলিমদের উন্নয়নের জন্য এই বিল আনা হয়েছে বলে সরকার জানিয়েছে। তাই আমাদের সমর্থন থাকছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ