নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ১৯৭৬ এবং ২০০১, দু’বারই ২৫ বছরের জন্য স্থগিত করে দেওয়া হয়েছিল ডিলিমিটেশন। এবার ২০২৬ সালে ডিলিমিটেশন হওয়ার কথা। কিন্তু বহু রাজ্য বিশেষ করে দক্ষিণের রাজ্যগুলি এক সুরে দাবি করেছে, আরও ২৫ বছরের জন্য স্থগিত রাখা হোক আসন পুনর্বিন্যাস। অর্থাৎ ১৯৭১ সালের জনগণনার যে ভিত্তিতে এখন আসন পুনর্বিন্যাস চলছে, সেই নিয়মই বলবৎ থাকুক।
নতুন সেন্সাসের ভিত্তিতে অথবা আনুমানিক জনসংখ্যার ভিত্তিতে যদি ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া হয়, তাহলে একঝাঁক রাজ্যের লোকসভার আসন কমে যাবে বলে ধারণা বহু রাজ্যের। এই তালিকায় থাকবে সবকটি দক্ষিণের রাজ্য। থাকবে পাঞ্জাব ও ওড়িশাও। আর তাই সরাসরি দাক্ষিণাত্যের রাজ্য সরকারগুলি এবং পাঞ্জাব ও ওড়িশার বিরোধী দল শনিবার চেন্নাইয়ে বৈঠক করে ঘোষণা করল যে, নতুন সেন্সাসের ভিত্তিতে যদি এই প্রক্রিয়া করার উদ্যোগ মোদি সরকার গ্রহণ করে, তাহলে কোনওভাবেই তা মেনে নেওয়া হবে না।
শনিবার চেন্নাইয়ে বৈঠক হয় জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি অন ডিলিমিটেশনের। এই কমিটি গঠন করেছেন ডিএমকে সুপ্রিমো তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। তাঁর আহ্বানেই হয়েছে শনিবারের ডিলিমিটেশন বিরোধী বৈঠক। তামিলনাড়ুর স্ট্যালিন, কেরলের পিনারাই বিজয়ন, তেলেঙ্গানার রেবন্ত রেড্ডি— এই তিন মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি হাজির ছিলেন। কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার বার্তা নিয়ে হাজির ছিলেন উপ মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। এছাড়া ছিলেন ওড়িশার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক এবং পাঞ্জাবের অকালি দলের নেতৃত্ব। তেলেঙ্গানার বিরোধী দল ভারত রাষ্ট্র সমিতি এবং অন্ধ্রপ্রদেশের বিরোধী দল ওয়াই এস আর কংগ্রেসও এই বৈঠকে যোগ দেয়। আমন্ত্রণ পেলেও তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও প্রতিনিধি বৈঠকে ছিলেন না। বৈঠকের পর কমিটির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়, আমরা ডিলিমিটেশনের বিরোধী নই। কিন্তু সেটা ন্যায্য হতে হবে। অন্যথায় ডিলিমিটেশনকে সাংবিধানিকভাইে বাধা দেওয়া হবে। সুতরাং এই প্রক্রিয়া ২৫ বছরের জন্য স্থগিত করা হোক এবং ১৯৭১ সালের সেন্সাসের ভিত্তিতেই করতে হবে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিরোধী নেতা জগন্মোহন রেড্ডিও এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদিকে চিঠি দিয়ে বলেছেন, কোনও রাজ্যেরই আসন যেন কমে না যায়, সেটা দেখুন।
দক্ষিণের তিন রাজ্য এদিন দাবি করে, জিডিপির অন্তত ৩৬ শতাংশ আসে কেরল, কর্ণাটক ও তামিলনাড়ু থেকে। অথচ দেশের জনসংখ্যার মাত্র ১৯ শতাংশ এই তিন রাজ্যের। তাই নয়া জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করে সাজা দেওয়া উচিত নয়। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশও দিল্লিতে বলেছেন, যে রাজ্যগুলি নিজেদের সচেতনতার পরিচয় দিয়ে জনসংখ্যা কমাতে সাহায্য করল, তাদের আসন সংখ্যা কমে যাবে? আর যাদের জনসংখ্যা বেড়ে যাবে বহু, তারা পাবে পুরস্কার। তাদের লোকসভার আসন বেড়ে যাবে? এটা কেমন নিয়ম?
সব মিলিয়ে মোদি সরকার প্রবল চাপে। কারণ এত বড় সংসদ ভবন করা হয়েছে ডিলিমিটেশনের কথা ভেবেই। প্রায় ৮০০ এমপি বসতে পারে এরকম ব্যবস্থা করা হয়েছে। অথচ আদতে দেখা যাচ্ছে, সেই ডিলিমিটেশনই করা যাচ্ছে না। প্রবল বাধাদান চলছে। রাজ্যের সহায়তা ছাড়া ডিলিমিটেশন করা সম্ভব নয়। তাই মোদির শাসনকালে আসন পুনবির্ন্যাস হওয়া নিয়েই প্রশ্নচিহ্ন দেখা দিয়েছে।