Bartaman Logo
৪ জুন, ২০২৬

বিহারে ভোটার তালিকায় সংশোধন ঘিরে বিরোধী-কমিশন সংঘাত তুঙ্গে, দু’কোটি নাম বাদ পড়ার শঙ্কা!

কয়েক মাসের অপেক্ষা। তার পরেই বিহারে বিধানসভা ভোট। জোরকদমে চলছে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ অভিযান। ‘স্পেশ্যাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর)-এর এই প্রক্রিয়া ঘিরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরের রাজনৈতিক সংঘাত তুঙ্গে।

বিহারে ভোটার তালিকায় সংশোধন  ঘিরে বিরোধী-কমিশন সংঘাত তুঙ্গে, দু’কোটি নাম বাদ পড়ার শঙ্কা!
  • ৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

পাটনা ও নয়াদিল্লি: কয়েক মাসের অপেক্ষা। তার পরেই বিহারে বিধানসভা ভোট। জোরকদমে চলছে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ অভিযান। ‘স্পেশ্যাল ইন্টেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর)-এর এই প্রক্রিয়া ঘিরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ শিবিরের রাজনৈতিক সংঘাত তুঙ্গে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটের ঠিক আগে এসআইএরের নাম করে আসলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ছক কষা হয়েছে। এর ফলে বিহারে অন্তত দু’কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়বে। কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশের কটাক্ষ, ‘নোটবন্দি’ অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবে ‘ভোটবন্দি’। এর পরই বুধবার বেশি রাতে পাল্টা সরব হয় নির্বাচন কমিশন। এসআইআর নিয়ে আলোচনার জন্য ডাকা বৈঠকে সিংহভাগ দলের প্রধানরা কেন অনুপস্থিত রইলেন, সেই প্রশ্ন তুলেছে। এসআইআর ইস্যুটিকে রাজনৈতিক দলগুলি উপযুক্ত গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ কমিশনের।

Advertisement

কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, নিজেকে ১০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি বলে দাবি করে এক আইনজীবী গত ৩০ জুন একটি ইমেল পাঠান। তাতে বিহারের চলতি এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার অনুরোধ জানিয়ে সাক্ষাতের সময় চাওয়া হয়। বলা হয়, ২ জুলাই বিকেল চারটের পর যে কোনও সময় আলোচনার জন্য তাঁরা প্রস্তুত। আবেদনকারী দলগুলি হল কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, আরজেডি, সমাজবাদী পার্টি, ডিএমকে, এনসিপি (এসপি), জেএমএম, সিপিআই, সিপিএম, সিপিআই (এমএল)। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে ইমেল পাওয়ার পরই ওই ১০টি দলের প্রধান ও দল স্বীকৃত আরও একজন করে প্রতিনিধিকে ২ জুলাই বিকেল ৫টায় বৈঠকে ডাকা হয়। কিন্তু দেখা যায়, মাত্র দু’টি দল সিপিআই এবং সিপিআই (এমএল)-র প্রধানরা বৈঠকে এসেছেন। অন্য দলগুলি প্রতিনিধি হিসেবে যাঁদের পাঠিয়েছিলেন, এধরনের বৈঠকে অংশগ্রহণের জন্য উপযুক্ত স্বীকৃতি তাঁদের নেই। ঘটনাচক্রে, বৈঠকে অংশ নিতে গিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও। কিন্তু কমিশনের বক্তব্য, বৈঠকে প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে যে শর্ত ছিল, রমেশ সহ অনেকের ক্ষেত্রেই তা সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না। ফলে তাঁদের বৈঠকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। রমেশের পাল্টা অভিযোগ, শুরুতে রাজি না হলেও ইন্ডিয়া শিবিরের চাপে শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলগুলির প্রতিনিধিদের বক্তব্য শুনতে বাধ্য হয়েছে কমিশন। তবে কমিশন একতরফাভাবে স্থির করে, দল পিছু মাত্র দু’জন করে প্রতিনিধি থাকতে পারবেন। তাই আমাকে প্রায় দু’ঘণ্টা ওয়েটিং রুমেই কাটাতে হয়।
বৈঠকে কমিশনের তরফে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি, এই অভিযোগ তুলে প্রতিবাদে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধী শিবির। বিহারের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রাজেশ কুমার বলেন, বৈঠকে কমিশনের তরফে মূলত এসআইআর প্রক্রিয়া কীভাবে চলছে, তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের তরফে যে উদ্বেগগুলি প্রকাশ করা হয়, তা নিয়ে উপযুক্ত প্রতিক্রিয়া মেলেনি। আমরা কমিশনকে জানাই, দক্ষিণ বিহারের অসংখ্য মানুষকে কর্মসূত্রে অন্য রাজ্যে যেতে হয়। উত্তর অংশে বিশাল এলাকা এই সময় বন্যার কবলে পড়ে। ফলে জনজীবন ব্যাহত হয়। এই অবস্থায় গরীব মানুষ কীভাবে কমিশনের তলব করা নথি নিয়ে হাজির হবেন? মনে হচ্ছে, ২০ শতাংশ মানুষ যাতে ভোট দিতে না পারেন, কমিশনে সেই চেষ্টাই করে চলেছে।   

সম্পর্কিত সংবাদ