


সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব। আর প্রথম দিনেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে পদচ্যূত করার প্রস্তাব পেশ হতে চলেছে। শুক্রবার একথা জানিয়ে দিয়েছে লোকসভা সচিবালয়। লোকসভার বুলেটিনে তা প্রকাশ হয়েছে। কংগ্রেসের তিন সাংসদ মহম্মদ জাভেদ, কে সুরেশ এবং মল্লু রবি এই প্রস্তাব পেশ করবেন। তারপর তা গৃহীত হবে কি না, তা নিয়ে হবে ভোটাভুটি। সেক্ষেত্রে বিরোধীদের জয়ের সম্ভাবনা কম। ফলে পদচ্যূত করার প্রস্তাব পেশ করেও স্পিকার ওম বিড়লাকে সরানো কঠিন বলেই ওয়াকিবহাল মহলের মত। ওম বিড়লার বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগ, তিনি নিরপেক্ষ নন। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে সভায় বলতে দেন না। কংগ্রেসের মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধে অহেতুক অভিযোগ করেছেন। জনস্বার্থের বিষয় উত্থাপন করার জন্য বিরোধী সাংসদদের পুরো অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর নামে বিজেপি সাংসদ আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করলেও তার তিরস্কার না করার মতো ইস্যু সামনে রেখেই এই প্রস্তাব পেশ হবে।
উল্লেখ্য, ওম বিড়লাকে স্পিকারের পদ থেকে সরানোর জন্য গত ১০ ফেব্রুয়ারি লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেল উৎপল কুমার সিংয়ের হাতে বিরোধী ১১৭ জন সাংসদ সই করে একটি চিঠি দিয়েছিলেন। ন’ পাতার চিঠিতে চারটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে স্পিকারকে পদচ্যূত করার প্রক্রিয়া শুরু অনুরোধ করেছিলেন বিরোধীরা। ‘মোশন ফর রিম্যুভালে’র প্রস্তাবের সেই চিঠিই গৃহীত হয়েছে। সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতেই আগামী সোমবার আনা হবে প্রস্তাব। তবে ওই চিঠিতে তৃণমূলের কোনো সাংসদ সই করেননি।
এই প্রথম নয়। সংবিধানের ৯৪ (সি) অনুচ্ছেদ সামনে রেখে এর আগে তিনবার লোকসভার স্পিকারকে পদচ্যূত করার উদ্যোগ হয়েছিল। আনা হয়েছিল মোশন। ১৯৫৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর তৎকালীন স্পিকার গণেশ বাসুদেব মভলঙ্করের বিরুদ্ধে। সই করেছিলেন ২১ জন। ১৯৬৬ সালের ২৪ নভেম্বর সর্দার হুকুম সিং। সই করেছিলেন ২৩ জন। তৃতীয়বার ১৯৮৭ সালের ১৫ এপ্রিল বলরাম জাখরের বিরুদ্ধে। কিন্তু কোনোবারই তা সফল হয়নি। হেরে যায় বিরোধীরা।