সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়, কল্যাণী: সবুজের মায়াঘেরা কল্যাণী শহরে সিএবি ক্রিকেট অ্যাকাডেমি গ্রাউন্ড! ইডেনে বিশ্বকাপ চলছে। তাই ব্যস্ত পৃথিবীর কোলাহল থেকে দূরের এই মাঠই এখন মহম্মদ সামিদের ঠিকানা। রবিবার রনজি ট্রফির সেমি-ফাইনালে জম্মু ও কাশ্মীরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামবে লক্ষ্মীরতন শুক্লা-ব্রিগেড। হোম অ্যাডভান্টেজ কাজে লাগিয়ে ফাইনালের টিকিট ছিনিয়ে নেওয়াই লক্ষ্য অভিমন্যু ঈশ্বরণদের। তবে জম্মু ও কাশ্মীরও চ্যালেঞ্জ জানাতে তৈরি। চোয়ালচাপা লড়াইয়ের গল্প লিখে প্রথমবার রনজির শেষ চারে পৌঁছেছে তারা। ইতিহাস গড়ার সুযোগ হাতাছাড়া করতে নারাজ পরশ ডোগরারা। তাই সতর্ক বাংলা শিবির।
জম্মু ও কাশ্মীর যতই লড়াকু হোক, বাংলার ঘরের মাঠে লক্ষ্মীর দলকে হারানো মুখের কথা নয়। মহম্মদ সামি, আকাশদীপ, সুরজ সিন্ধু জয়সওয়াল ও মুকেশ কুমারকে নিয়ে গড়া পেস আক্রমণ এখন দেশের সেরা। প্রত্যেকেই দারুণ ছন্দে। কল্যাণীর পিচে হাল্কা ঘাসও রয়েছে। পেস সহায়ক উইকেটে নিশ্চিতভাবে আগুন ঝরাতে মুখিয়ে আছেন সামিরা। শনিবার চূড়ান্ত মহড়ায় তাঁদের শরীরী ভাষাই তা বলে দিচ্ছিল। শুরুতে পিচ দেখে আসার পর বেশ কিছুক্ষণ নেটে বল করলেন সামি। বাকি সময় হাসিঠাট্টা করেই কাটালেন তারকা পেসার। আকাশদীপ অবশ্য বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংও করলেন কিছুক্ষণ। বাংলার ব্যাটিংও যথেষ্ট শক্তিশালী। অভিমন্যু, সুমন্ত গুপ্তদের বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাল। সুদীপ চ্যাটার্জি, অনুষ্টুপ মজুমদারের মতো অভিজ্ঞরাও আছেন। গত ম্যাচে ২৯৯ রানের অনবদ্য ইনিংস উপহার দিয়েছিলেন সুদীপ ঘরামি। হাবিব গান্ধীও নিয়মিত রান পাচ্ছেন। কোয়ার্টার ফাইনালের দলই অপরিবর্তিত থাকছে। প্র্যাকটিসের পর শনিবার লক্ষ্মীরতন শুক্লা বলছিলেন, ‘এই পর্যায়ে ক্রিকেটীয় স্কিলের পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তাও দেখাতে হবে।’
পক্ষান্তরে, জম্মু ও কাশ্মীর এবার আক্ষরিক অর্থেই আন্ডারডগ। কোয়ার্টার ফাইনালে মধ্যপ্রদেশের মতো দলকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে ফুটছে তারা। কল্যাণীর পেস সহায়ক উইকেটে বাংলার পথের কাঁটা হয়ে উঠতে পারেন পেসার আকিব নবি। বিষাক্ত স্যুইংয়ে এখনও পর্যন্ত ৮ ম্যাচে তিনি ৪৬টি উইকেট নিয়েছেন। বাঁহাতি স্পিনার আবিদ মুস্তাকও ছন্দে আছেন। পাশাপাশি ব্যাটিংয়েও যথেষ্ট গভীরতা রয়েছে।
কল্যাণী স্টেডিয়ামে খেলা শুরু সকাল ৯টায়।