নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘাড়ের উপর খাঁড়া এখনও ঝুলছে কলকাতা নাইট রাইডার্সের। তবে কোটলায় দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে জয়ের সুবাদে জিইয়ে রয়েছে প্লে-অফের আশা। দমবন্ধ করা গুমোট আপাতত উধাও। ৯ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে রবিবার ইডেনে নামবে অজিঙ্কা রাহানের দল। রাজস্থান রয়্যালসকে হারালে প্রথম চার দলে থাকার সম্ভাবনা কিছুটা বাড়বে। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী থেকে কলকাতা ফেরার সময় সেই তাগিদই সঙ্গী হল নাইটদের।
অক্ষর প্যাটেলদের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার ১৪ রানে জয়ের প্রধান কারিগর ক্যারিবিয়ান মিস্ট্রি স্পিনার সুনীল নারিন। পরপর তিন উইকেট নিয়ে মোক্ষম আঘাত হানেন তিনি। সেই ধাক্কা আর সামলে উঠতে পারেনি দিল্লি। ব্যাট হাতেও ওপেনিংয়ে নজর কাড়েন নারিন। তাঁর ছন্দে ফেরা নাইট সমর্থকদের ভরসা জোগাচ্ছে। স্বয়ং নারিন অবশ্য কখনওই আস্থা হারাননি নিজের উপর। ২.১ ওভারে ২১ রান দেওয়ার পরও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘নিজের উপর বিশ্বাস ছিল। জানতাম, উইকেট নেওয়ার দক্ষতা রয়েছে। কোনও কোনও ম্যাচে বোলিংয়ের সময় শুরুটা ভালো হয়, পরের দিকে রান বেরিয়ে যায়। আবার কোনও ম্যাচে পরের দিকে সেরাটা আসে। আমার কাছে অবশ্য প্রতিটা উইকেটই গুরুত্বপূর্ণ। যত বেশি উইকেট পাব, ততটাই সুবিধা হবে দলের।’
নারিনকে প্রশংসায় ভরিয়ে নাইট ক্যাপ্টেন অজিঙ্কা রাহানে বলেছেন, ‘১৪তম ওভারে নারিন দুই উইকেট নিতেই ম্যাচ ঘুরে যায়। পরের ওভারে আরও একটা উইকেট নিয়েছিল ও। নারিন হল কলকাতার চ্যাম্পিয়ন বোলার। ও সত্যিকারের ম্যাচ-উইনার। নারিন ও বরুণ চক্রবর্তীকে একসঙ্গে পাওয়া একজন ক্যাপ্টেনের কাছে দারুণ তৃপ্তির বিষয়। নারিন নেটে প্রচণ্ড পরিশ্রম করে। আগে আসে, টানা বল করে যায়। তারপর ব্যাটিংয়ে মন দেয়।’
অধিনায়ক রাহানের আঙুলের চোট নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন বেগুনি জার্সির সমর্থকরা। দিল্লির ইনিংসের শেষদিকে সেজন্যই ফিল্ডিং করতে পারেননি তিনি। নেতৃত্ব দেন নারিন। বেশ কয়েকটা সেলাই হয়েছে রাহানের আঙুলে। তা সত্ত্বেও রবিবার খেলতে মরিয়া রাহানে। তিনি বলেন, ‘উদ্বেগের কিছু নেই। পরের ম্যাচে খেলতে অসুবিধা হবে না।’ উল্লেখ্য, কলকাতার হয়ে সর্বাধিক ২৯৭ রান এসেছে রাহানের ব্যাটেই। তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৪৯.২৪। তাই তিন নম্বরে রাহানের উপস্থিতি রীতিমতো জরুরি।
এদিকে, কোটলায় ম্যাচের শেষে নাইটদের রিঙ্কু সিংকে দিল্লির কুলদীপ যাদব চড় মেরেছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। দু’দলের ক্রিকেটাররা যখন আড্ডা দিচ্ছিলেন তখনই এমন ঘটনা ঘটে। ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে যে মজার ছলে রিঙ্কুকে চড় মারেন কুলদীপ। দু’জনেই ঘরোয়া ক্রিকেটে উত্তরপ্রদেশের হয়ে খেলেন। তবে হঠাৎ চড় খেয়ে রিঙ্কু কিছুটা ঘাবড়ে যান। এই ভিডিওর স্ক্রিনশটই ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নাইট কর্তৃপক্ষ অবশ্য আসরে নামে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও পোস্ট করে কেকেআর। তাতে রিঙ্কু ও কুলদীপের মধ্যে গভীর বন্ধুত্বের ছবি ফুটে ওঠে। ক্যাপশনেও সেটা তুলে ধরা হয়। বোঝা যায়, রিঙ্কুকে কুলদীপের চড় মারা নিছকই মজার ছলে বলে তুলে ধরতে চাইছে নাইটরা।