Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লালগড়ে কংসাবতীর তীরে রমরমিয়ে চলছে আফিম চাষ, অভিযান পুলিশের

লালগড়ে কংসাবতীর তীরে লুকিয়ে চলছে আফিম চাষ। পুলিশের নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনি কারবার চলছিল বলে অভিযোগ।

লালগড়ে কংসাবতীর তীরে রমরমিয়ে চলছে আফিম চাষ, অভিযান পুলিশের
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০২
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: লালগড়ে কংসাবতীর তীরে লুকিয়ে চলছে আফিম চাষ। পুলিশের নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বেআইনি কারবার চলছিল বলে অভিযোগ। আফিম চাষে কারা জড়িত সেই কারবারিদের সন্ধান পাওয়া যায়নি। পুলিশ ও আবগারি দপ্তর অভিযান চালিয়ে আফিম গাছ নষ্ট করছে।  ঝাড়গ্রামের আবগারি দপ্তরের আধিকারিক তন্ময় গুহ বলেন, জেলার যেসব এলাকায় পোস্ত চাষ হচ্ছে সেখানে অভিযান চালানো হচ্ছে। নেতাই গ্ৰামের নদী তীরবর্তী এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। বেআইনি আফিমের চাষ রুখতে সবরকম পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

Advertisement

বিনপুর-১ ব্লকের মাগুরা, ভুসা, ভেটলি, বাতাবনি এলাকায় গাঁজা সহ নানা মাদকদ্রব্যের রমরমা কারবার চলছে। স্থানীয় গুমটির দোকানে মিলছে নেশার দ্রব্য। তরুণ থেকে বৃদ্ধরা এসব দোকানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছে। ‘জঙ্গল পাতা’ বা ‘পাউডার’ বললেই দোকানি পুড়িয়ার প্যাকেট দিয়ে দিচ্ছে! পার্শ্ববর্তী রাজ্য ও বাইরে থেকে ওই এলাকায় এতদিন মাদকদ্রব্য আমদানি করা হচ্ছিল। লালগড়ের কংসাবতী নদী তীরের বিস্তীর্ণ এলাকাকে বেছে নেওয়া হয়েছে আফিম চাষের জন্য। ব্যক্তিগত জমিতে আফিম চাষ না হওয়ায় কে বা কারা এই চাষ করছে তাও ধরা যাচ্ছে না। 
রবিবার লালগড় থানার পুলিশ নেতাই গ্ৰামের নদী তীরের এলাকায় অভিযান চালায়। দ্রুত জমিতে লাগানো আফিম গাছ নষ্ট করে দেওয়া হয়। বেআইনি এই কারবারে অবশ্য কেউ গ্ৰেপ্তার হয়নি। নদী তীরবর্তী এলাকায় পোস্ত চাষ কারা করছে তা নিয়ে স্থানীয়দের  কেউ মুখ খুলতে চাননি। জেলার আবগারি দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, নয়াগ্ৰাম, ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আফিমের চাষ হচ্ছিল। গত বছর লাগাতার অভিযান চালানো হয়। একাধিক ব্যক্তিকে গ্ৰেপ্তার করা হয়েছে। সেই কারণে আফিম চাষের জায়গা বদল হয়ে থাকতে পারে। 
আফিম ফলের উপরের অংশের বাদামি রঞ্জকই হল ক্রুড মরফিন। যা প্রসেসিং করে ব্রাউন ও হোয়াইট সুগার তৈরি হয়। জঙ্গলমহলের এই জেলায় এখনও পর্যন্ত আফিম ফলের প্রসেসিং হওয়ার কোনও প্রমাণ মেলেনি। লালগড় থানার পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে গতকাল দিনভর অভিযান চলে। বিনপুরের হাড়দার এক বাসিন্দা বলেন, ব্লকের বিনপুর মোড়, হাড়দা মোড় থেকে বাতবনি মোড়ের গুমটিগুলিতে গাঁজা, হেরোইন বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এলাকার যুবক ও বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে নেশার আসক্তি বেড়ে চলেছে। কিন্তু স্থানীয় স্তরেই এখন নেশার কাঁচামাল উৎপাদন শুরু হয়েছে। 
লালগড় গ্ৰাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুনীল মুর্মু বলেন, স্থানীয় চাষিরা ব্যক্তিগত জমিতে পোস্ত চাষ করে থাকেন। খাওয়ার জন্য তা ব্যবহৃত হয়। নদীর তীরে কারা পোস্ত চাষ করছে তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। এদিকে, লালগড় থানার তরফে জানানো হয়, পুলিশ ও জেলার আবগারি দপ্তর গতকাল যৌথ অভিযান চালিয়ে আফিম গাছগুলি নষ্ট করেছে। কেউ গ্ৰেপ্তার হয়নি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ