Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬

অপারেশন সিন্দুর: স্মৃতিতে ডুব সিমারি-উরির

পাহাড়ের কোল ঘেঁষা নিরিবিলি গ্রাম সিমারি। পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে ছোট্ট নদী। তার একদিকে ভারত ভূখণ্ড। অন্যদিকে, পাক অধিকৃত কাশ্মীর। ঠিক যেন দেওয়াল তুলে দিয়েছে দুই অঞ্চলের জন্য।

অপারেশন সিন্দুর: স্মৃতিতে ডুব সিমারি-উরির
  • ৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০

ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: পাহাড়ের কোল ঘেঁষা নিরিবিলি গ্রাম সিমারি। পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে ছোট্ট নদী। তার একদিকে ভারত ভূখণ্ড। অন্যদিকে, পাক অধিকৃত কাশ্মীর। ঠিক যেন দেওয়াল তুলে দিয়েছে দুই অঞ্চলের জন্য। এক বছর আগে আপাত শান্ত সিমারির ঘুম উড়েছিল গোলাগুলির শব্দে। স্থানীয়রা ঠাঁই নিয়েছিলেন বাঙ্কারে। অপারেশন সিন্দুরের বর্ষপূর্তিতে সেই স্মৃতিতেই ডুব দিয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্ত লাগোয়া শেষ বসতি। সিমারির বাসিন্দা গুলাম কাদরির কথায়, আমরা যুদ্ধের কথা শুধু শুনিনি, অনুভবও করেছি। গোলাগুলি চলেছে। আকাশ দিয়ে ড্রোনও উড়তে দেখেছি। কয়েকদিনের জন্য কমিউনিটি বাঙ্কারেই ঠাঁই হয়েছিল।
শ্রীনগর থেকে ১৮০ কিলোমিটার দূরে তাংধর সেক্টর। শামসাহবাড়ি পাহাড়ের কোলে বেড়ে উঠেছে সিমারি। সবমিলিয়ে বাড়ি সংখ্যা ৮০। আধুনিক নির্মাণ সামগ্রীর পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী কাদা ও বাঁশ দিয়ে তৈরি আবাসগুলি। সাকুল্যে গ্রামবাসীর সংখ্যা শ’পাঁচেক। নদীর গর্জন না থাকলে সীমান্তের বেড়া ডিঙিয়ে দু’প্রান্তের বাসিন্দারা গলা ছেড়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে পারেন। ভারত সীমান্তের শেষ এই গ্রামই গত ৬ মে মধ্যরাতে উঠে এসেছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অপারেশন সিন্দুরের গ্রাউন্ড জিরো হিসাবে। পাহাড়ি নিস্তব্ধতা ভেঙে গর্জে উঠেছিল একের পর এক কামান। পহেলগাঁও হামলার বদলা নিতে। মাঝে এক বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু, স্থানীয়দের মনেঅনুরণিত হচ্ছে যুদ্ধের সেই দিনগুলি।
অপারেশন সিন্দুরের সময় উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল নিরন্ত্রণ রেখা লাগোয়া উরির সালামাদাবাদ, গিঞ্জল, চারোথি সহ একাধিক গ্রামেও। সেখানকার বাসিন্দাদের মনেও সেই রাতগুলির স্মৃতি এখনও তাজা। সালামাবাদে আবদুল রশিদের কথায়, ‘বেশ কয়েক রাত বিদ্যুৎ ছিল না। রাতভর তীব্র শব্দে খুব ভয় লাগত। দু’চোখ এক করতে পারতাম না। এখনও শিশুরা জোরে আওয়াজ শুনলেই আঁতকে ওঠে।’ গোলাগুলি শুরু হতেই গ্রামের বাসিন্দাদের বারামুলা ও শ্রীনগরের সুরক্ষিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতেই ধীরে ধীরে তারা ফিরে এসেছেন। কিন্তু, যুদ্ধের প্রভাব ভালোমতোই রয়ে গিয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর জেলাগুলিতে আশঙ্কার ছায়া রয়েই গিয়েছে।  পরিকাঠামো দুর্বল থাকায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন পুঞ্চ, কুপওয়ারা, রাজৌরির বাসিন্দারা। এরইমধ্যে পাকিস্তানের এক নেতার চাঞ্চল্যকর বক্তব্য সামনে এসেছে। কোনো রাখঢাক না করেই তাঁর দাবি, মাসুদ আজহার ও হাফিজ সইদের মতো জঙ্গিদের হয়ে লড়াই করেছে সেনা। দীর্ঘদিন ধরে ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদতের অভিযোগ উঠেছে। এই অবস্থায় শাহির সিয়ালভি নামে ওই পাক নেতার বক্তব্য সেদেশের ভূমিকা আরও একবার বেআব্রু হয়ে গেল। সম্প্রতি রাওয়ালপিন্ডিতে লস্কর-ই-তোইবা আয়োজিত অনুষ্ঠানে পাকিস্তান নাজরিয়াতি পার্টির মুখপাত্র শাহির জানিয়েছেন, অপারেশন সিন্দুরে নিহত জঙ্গিদেরর শেষকৃত্যে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে পালন করেছিল পাক সেনা।

Advertisement

 

সম্পর্কিত সংবাদ