Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হাওড়া স্টেশনের উল্টোদিকে বাসস্ট্যান্ডে উন্মুক্ত শৌচালয়, প্রস্রাবে ভাসছে রাস্তা

হাওড়া স্টেশন থেকে বেরিয়ে বাস ধরতে আসছেন শ’য়ে শ’য়ে যাত্রী। বাসস্ট্যান্ডের সামনেই লাগানো রয়েছে ক্লিন সিটির বোর্ড।

হাওড়া স্টেশনের উল্টোদিকে বাসস্ট্যান্ডে  উন্মুক্ত শৌচালয়, প্রস্রাবে ভাসছে রাস্তা
  • ১৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া স্টেশন থেকে বেরিয়ে বাস ধরতে আসছেন শ’য়ে শ’য়ে যাত্রী। বাসস্ট্যান্ডের সামনেই লাগানো রয়েছে ক্লিন সিটির বোর্ড। অথচ সেখানে ঢোকার মুখে যেন বমি বেরিয়ে আসার উপক্রম হয় যাত্রীদের। উন্মুক্ত শৌচালয় থেকে বেরনো দুর্গন্ধে রীতিমতো বিষাক্ত হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। শৌচালয়ের কোনও নিকাশি না থাকায় রাস্তার পাশেই জমছে প্রস্রাব। পাশেই চলছে একের পর এক খাবারের হোটেল। ভয়াবহ এই ছবিটি হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন কলকাতা বাসস্ট্যান্ডের। শৌচালয়গুলি সাফ-সুতরো না হওয়ায় গোটা এলাকা হয়ে উঠেছে সংক্রমণের আঁতুড়ঘর। 

Advertisement

হাওড়া স্টেশন থেকে বেরিয়ে কলকাতার বিভিন্ন রুটের বাস ধরতে সাধারণ মানুষকে আসতে হয় স্টেশনের উল্টোদিকে থাকা বাসস্ট্যান্ডে। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত বাসস্ট্যান্ডে হাজার হাজার নিত্যযাত্রীর ভিড় লেগে থাকে। বাসস্ট্যান্ডে ঢোকার মুখে রয়েছে দু’টি উন্মুক্ত শৌচালয়। অভিযোগ, মাসে একদিনও শৌচালয়গুলি পরিষ্কার করা হয় না। ভোর থেকে রাত একের পর এক মানুষকে এই শৌচালয় ব্যবহার করতে দেখা যায়। শৌচালয় দু’টিতে নির্দিষ্ট কোনও নিকাশিনালা নেই। ফলে সেখান থেকে প্রস্রাব গড়িয়ে সরাসরি রাস্তার পাশে থাকা নর্দমায় এসে জমছে। আবার ওই নর্দমার মুখের দু’পাশ বন্ধ থাকায় প্রস্রাব জমতে জমতে রীতিমতো ‘থকথকে জেলি’র মতো চেহারা নিয়েছে। এদিকে, গরম বাড়ায় গোটা এলাকার পরিবেশ যেন বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। উন্মুক্ত শৌচালয় দু’টির পাশেই দেদার চলছে ভাত-রুটির হোটেল, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ছোট ছোট খাবারের স্টল। রীতিমতো অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে হচ্ছে রান্নাবান্না। সেখানেই খাওয়া দাওয়া করছেন সাধারণ মানুষ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘শৌচালয়গুলি পরিষ্কার না হওয়ায় রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ছে। কিন্তু অভিযোগ জানিয়েও কোনও লাভ হয় না।’
অনেক সময় বাসস্ট্যান্ডে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। দুর্গন্ধের চোটে নাকের রুমাল চাপা দিয়েও নিস্তার পাচ্ছেন না যাত্রীরা। এদিন তাঁদের অনেকেই বলেন, ‘কোনও জায়গা যে এতটা নোংরা হতে পারে, এখানে না এলে বিশ্বাস করা কঠিন। কোনও সভ্য দেশে এই ধরনের উন্মুক্ত শৌচালয় থাকতে পারে না। এলাকাটি সংক্রমণের আঁতুড়ঘর হয়ে উঠেছে।’ বিষয়টি নিয়ে হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘ওই জায়গাটি পরিষ্কারের দায়িত্ব কার, তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ হাওড়া জেলা আইএনটিটিইউসির সভাপতি অরবিন্দ দাস বলেন, ‘কেএমডিএ-র উচিত শৌচালয়গুলি পরিষ্কার করা। কিন্তু তারা তা করে না। আমরা সেই দপ্তরকে বিষয়টি জানাব।’ নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ