Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অনুপ্রবেশ ও পাচার রুখতে সীমান্তের বাসিন্দাদের সচেতন করছে বিএসএফ

অনুপ্রবেশ ও পাচার রুখতে সীমান্তের বাসিন্দাদের সচেতন করছে বিএসএফ
  • ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, করিমপুর: সীমান্তে অনুপ্রবেশ এবং পাচার সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করছে বিএসএফ বা সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তারা কখনও শিকারপুর এলাকায় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করছেন, আবার কখনও হোগলবেড়িয়ায় বিবেকানন্দের জন্মদিন পালন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে জনগণকে জানাচ্ছেন। গ্রামে বা সীমান্তের মাঠে সন্দেহজনক কাউকে দেখলেই বিএসএফকে জানাতে বলা হচ্ছে, যাতে বাংলাদেশ থেকে কেউ ভারতে অনুপ্রবেশ করতে বা পাচারকারীরা যাতে পাচারের সুযোগ নিতে না পারে। এব্যাপারে বিশেষ করে দু’দেশের মধ্যে কাঁটাতারহীন কিছু এলাকায় অনেক বেশি সতর্ক জওয়ানরা। জানা গিয়েছে, নদীয়ায় প্রায় ২১৬ কিলোমিটার সীমান্তের প্রায় সাড়ে ২০ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত এই জেলার সীমান্তবর্তী ধানতলা ও হাঁসখালি দুই থানা এলাকা থেকেই প্রায় পঞ্চাশটি অনুপ্রবেশের মামলা হয়েছে এবং প্রায় ২৫০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। তাছাড়াও বাংলাদেশে পাচারের আগে শুধুমাত্র করিমপুর, হোগলবেড়িয়া ও মুরুটিয়া সীমান্তে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বোতল সিরাপের বোতল উদ্ধারের পাশাপাশি কয়েকজন পাচারকারীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুরুটিয়া থানার শিকারপুরে এবং হোগলবেড়িয়া থানার কাছারিপাড়া থেকে মুর্শিদাবাদ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ উদ্বিগ্ন। 
Advertisement
তারাপুরের আলাহিম মণ্ডল বলেন, এখানে কাঁটাতারের বেড়া নেই। বাংলাদেশ লাগোয়া পদ্মানদীর চরে বহু ভারতীয় জমিতে চাষ করা হয়। তবে সীমান্ত পাহারায় সুবিধার জন্য কলাগাছ বা পাটের মতো উঁচু ফসল চাষ করা নিষিদ্ধ সীমান্তের জমিতে। কারণ উঁচু ফসলের আড়ালে পাচার বা অনুপ্রবেশ করলে তা চোখে পড়বে না বিএসএফ বা সাধারণ মানুষের। কিন্তু এখন চরের মাঠে যেভাবে সরিষা গাছ বড় হয়েছে, সেখানে দিনের বেলায় মানুষ হাঁটাচলা করলে মাথা দেখা যায় না। বাংলাদেশের ওপারের দুষ্কৃতীরা প্রায় দিনই এদেশের জমিতে এসে জমির ফসল কেটে নিয়ে যায়। আমাদের কিছুই করার থাকে না। কাছারিপাড়ার বাসিন্দা শঙ্কর মণ্ডল বলেন, হোগলবাড়িয়া সীমান্তের নিউ উদয়ক্যাম্প থেকে বাউশমারি ক্যাম্প পর্যন্ত নদীয়ার প্রায় পাঁচ কিমি কাঁটাতারের বেড়া নেই। ১৯৯৮ সালে পদ্মার ভাঙনে কাঁটাতারের বেশিরভাগ অংশই পদ্মা গর্ভে চলে গিয়েছে। যে সমস্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া রয়েছে সেখানে বিএসএফের সহযোগিতা কিংবা গাফিলতি ছাড়া কোনওভাবেই অনুপ্রবেশ সম্ভব নয়। কিন্তু কাঁটাতারের বেড়াহীন এলাকায় অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে। এলাকার মহিলা-পুরুষ সবাইকে বিএসএফ আধিকারিক ও জওয়ানরা বোঝাচ্ছেন যে, সীমান্তবর্তী মাঠে কিংবা গ্রামে অচেনা কাউকে দেখলেই বিএসএফকে জানাতে।  সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর এক আধিকারিক বলেন, শুধু এখন নয়, বিএসএফ সব সময় সীমান্তে অনুপ্রবেশ, চোরাচালান রুখতে কড়া নজরদারি চালায়। তবে বাংলাদেশে অশান্ত পরিস্থিতির জেরে সীমান্তে এলাকায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। জওয়ানদের সব সময়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষদের বিভিন্নভাবে সচেতন করা হচ্ছে।  
সম্পর্কিত সংবাদ