Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬

বিজেপির স্বার্থে একতরফা নাম বাদ এসআইআর উত্তাপ: দিল্লিতে কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা

‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় লড়াইতে এঁটে উঠতে পারবে না বিজেপি। সেটা বুঝতে পেরেই নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে একতরফাভাবে ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে।

বিজেপির স্বার্থে একতরফা নাম বাদ এসআইআর উত্তাপ: দিল্লিতে কমিশনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মমতা
  • ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:০২

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় লড়াইতে এঁটে উঠতে পারবে না বিজেপি। সেটা বুঝতে পেরেই নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে একতরফাভাবে ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। সেটাও আবার বেছে বেছে তৃণমূলের জেতা আসনগুলিতেই।’ মঙ্গলবার দিল্লিতে বসে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আরও বললেন, ‘বাংলাকে টার্গেট করেছে ওরা। নাহলে ১২ রাজ্যে যখন এসআইআর (স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন) হচ্ছে, তখন শুধুমাত্র বাংলাতেই কেন ৮১ হাজার মাইক্রো অবর্জাভার? কেন ভোটের মাত্র দু’মাস আগে ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণ? বিজেপি কী মনে করে, কেউ কিছুই বোঝে না!’

Advertisement

পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর পর্বে ভোগান্তির শিকার হওয়া পরিবারগুলির একাংশকে দিল্লিতে হাজির করেছে তৃণমূল। তাঁদের মধ্যে ৯০ জনকে নিয়ে এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন দলের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁদের পাশে বসিয়ে বাংলায় তৃণমূলের জেতা আসনে নাম বাদ দেওয়ার ফিরিস্তি পেশ করেন নেত্রী। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর নির্বাচনি আসন ভবানীপুরে ৪০ হাজার লোকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। কলকাতা বন্দর বিধানসভা কেন্দ্রে সেই সংখ্যাটা ৭০ হাজার। এই প্রেক্ষিতেই মমতার অভিযোগ, ‘যেখানেই তৃণমূল জিতেছে, সেখানে গড়ে ৪০ হাজার থেকে এক লক্ষ লোকের নাম বাদ দিয়েছে। অথচ বিজেপির জেতা আসনে সেই সংখ্যাটা গড়ে ২ থেকে ১১ হাজার। এটা কেন? কেনই বা প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ যাবে? নাম-পদবির বানানে সামান্য হেরফেরের মতো খুঁত বের করে নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। কমিশনকে দিয়ে তৃণমূলকে বিপদে ফেলাই আসলে বিজেপির টার্গেট।’ এরপরেই তাঁর গলায় প্রত্যয়ের সুর। বললেন, ‘তবে যত চেষ্টাই করো, বাংলায় বিজেপি জিতবে না। জিতবে তৃণমূলই। গতবারের চেয়ে অধিক আসন নিয়ে। এটা আমার চ্যালেঞ্জ। বিজেপিকে বলছি, গণতান্ত্রিকভাবে লড়ুন। কমিশনকে দিয়ে ষড়যন্ত্র করবেন না।’ একইসঙ্গে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভোটে জিতে ফের দিল্লি আসব। আপনাদের মিষ্টি খাওয়াব।’

গত দু’-তিন মাস ধরে প্রকৃত ভোটারদের হেনস্তা, দেড়শোর বেশি মানুষের প্রাণহানি নিয়ে এদিনও গর্জে উঠেছেন মমতা। সাফ জানিয়েছেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এফআইআর হওয়া উচিত! কেন মৃত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেবে না কমিশন? সোমবার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিনও তাঁর ক্ষোভ কমেনি। সুর চড়িয়ে বলেছেন, ‘আপনার ভুলের দায় কে নেবে? কেন আপনার শাস্তি হবে না? জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর জন্য প্রয়োজনে সংসদে ‘মোশন ফর রিমুভাল’ আনা হোক। রিমুভালের জন্য প্রয়োজনীয় সাংসদ সংখ্যা আমাদের কাছে নেই ঠিকই। তবে সংসদের রেকর্ডে তো বিষয়টি লিপিবদ্ধ হবে।’ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেকও প্রশ্ন তুললেন, ‘কমিশনের এ কী ব্যবহার! ১০ কোটি মানুষের সমর্থনে জিতে আসা তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী ছ’টি চিঠি লিখেছেন জ্ঞানেশ কুমারকে। উত্তর দেওয়া তো দূর, একটিরও প্রাপ্তিস্বীকার করেননি।’

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা। গত ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকায় বাদ গিয়েছে ৫৮ লক্ষ নাম। লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির নামে আরও প্রায় দেড় কোটি মানুষকে নোটিস পাঠানো হয়েছে। তৃণমূলনেত্রীর অভিযোগ, এসব বিজেপির স্বার্থরক্ষার জন্যই। তবে তিনিও জানিয়ে দিয়েছেন, চূড়ান্ত তালিকায় একজনও প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ গেলে ছেড়ে কথা বলবে না তৃণমূল। এক ইঞ্চি জমিও বাংলায় বিজেপিকে ছাড়া হবে না!

সম্পর্কিত সংবাদ