প্রীতেশ বসু, কলকাতা: এক মাসের বেশি সময় ধরে রাজ্যে লাগু রয়েছে নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি। তবে ভোট ঘোষণার আগে দরপত্র ডেকে ওয়ার্ক অর্ডার জারি হয়ে গিয়েছিল যেসব রাস্তার কাজের, সেই কাজ চালিয়ে নিয়ে যেতে কোনো বাধা ছিল না। কিন্তু এই এক মাসে গ্রামবাংলায় লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৪০ শতাংশ রাস্তার কাজ করা গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। ১৫ হাজার কিলোমিটারের বেশি রাস্তা তৈরির টার্গেট থাকলেও, নির্মাণ হয়েছে মাত্র ৬ হাজার কিলোমিটার রাস্তা। কেন এই অবস্থা? ভোট ঘোষণা হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের বদলি করে নির্বাচন কমিশন। নবনিযুক্ত আধিকারিকদের ক্ষেত্রে এসআইআর এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য কাজকর্ম সামলে এলাকার উন্নয়নে নজর দেওয়া যথেষ্ট কঠিন হয়ে পড়ে বলেই মত প্রশাসনিক মহলের। এই ‘গণবদলি’র কারণেই উন্নয়নের কাজ ধাক্কা খেয়েছে বলে মনে করছেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, এই ‘গণবদলি’র বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একাধিক নির্বাচনি জনসভা থেকে তিনি ‘উন্নয়নের কাজ ধাক্কা খাচ্ছে’ বলে সরব হয়েছেন। এ বিষয়ে পঞ্চায়েতমন্ত্রী তথা দুর্গাপুর পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘ওরা (নির্বাচন কমিশন) শুধু যে ভোট নিয়ে তুঘলকি কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, তা নয়। সেই সঙ্গে উন্নয়নের কাজ একেবারে থামিয়ে দিয়েছে। কারণ, প্রকল্প রূপায়ণের জন্য নজরদারি একটি বড়ো ব্যাপার। গুচ্ছ গুচ্ছ বদলির জন্য সেটা সম্ভব হয়নি।’
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটের আগেই ‘রাস্তাশ্রী-পথশ্রী ৪’ প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল। ভোট ঘোষণার আগেই এই প্রকল্পের অধীনে অধিকাংশ রাস্তা তৈরির কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছিল। ওয়ার্ক অর্ডারও ইস্যু হয়ে যায়। ভোট ঘোষণার আগেই অনেক জায়গায় কাজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। তবে আশঙ্কা ছিল কাজ শেষ হওয়া নিয়ে। কারণ, নির্বাচনের কাজে যুক্ত হয়ে পড়েন জেলায় নিযুক্ত অধিকাংশ আধিকারিক। তবে রাজ্যস্তর থেকে নজরদারির ফলে অন্তত ৪০ শতাংশ কাজ এগনো সম্ভব হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
প্রশাসনিক মহলের বক্তব্য, ভোট ঘোষণার আগে ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে থাকলে কাজ চালানোর ক্ষেত্রে কোনো বাধা থাকে না। এটা স্বাভাবিক একটা ব্যাপার। তবে কাজের গতি শ্লথ হয়ে যায়। না হলে এই সময়কালে অন্তত ১০ থেকে ১২ হাজার কিলোমিটার রাস্তা তৈরি সম্পূর্ণ করে ফেলা যেত। রাজ্যের আধিকারিকদের কী কী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে? প্রশাসনিক মহলের একটি বড়ো অংশের দাবি, একজন আধিকারিক এলাকা এবং সেখানকার কাজ বুঝে ওঠার আগেই অনেক সময় বদলির অর্ডার হয়েছে। আবার এসআইআর এবং ভোটের কাজের জন্য জেলায় নিযুক্ত আধিকারিকদের প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি যাচাই করা কার্যত সম্ভব হয়নি। তাঁদের এ বিষয়ে চাপ দেওয়া ‘অমানবিক’ পদক্ষেপ হত। এই চাপের মধ্যেও তাঁদের কাজ সত্যিই প্রশংসাযোগ্য বলেও মন্তব্য অভিজ্ঞ আমলাদের। তবে ভোটের এবং তার আগেপরে দু’-তিন দিন ছাড়া কর্মচারী পেতে কোনো সমস্যা হয়নি বলেই জেলাস্তর থেকে জানা গিয়েছে।