নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: জেলার বন্যা পরিস্থিতি কবলিত এলাকার মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে ক্লাসের উদ্যোগ। মঙ্গলবার থেকে পাঁচটি স্কুলের ৭৫০ জন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর জন্য অনলাইনে পঠনপাঠন ব্যবস্থা চালু করেছে জেলা প্রশাসন। আজ, বুধবার থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে ক্লাস চালু হবে বলে জেলা প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। এছাড়াও বহু স্কুল ডুবে যাওয়ায় ত্রাণ শিবিরে যাতে পঠনপাঠন চালানো যায়, তারও চেষ্টা চলছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
মালদহের জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর বলেন, প্লাবিত এলাকা থেকে মানুষজনকে উদ্ধার, তাঁদের নিরাপদ আশ্রয়ে রাখা,পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার কাজ যেমন আমরা চালিয়ে যাচ্ছি, তেমনই ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনাও যাতে চালু রাখা যায়, তার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেকারণেই অনলাইনে ক্লাস কিংবা ফ্লাড শেল্টারে পঠনপাঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা) সপ্তর্ষি নাগ বলেন, জেলায় বন্যা কবলিত এলাকায় পাঁচটি স্কুল রয়েছে। ওই স্কুলগুলিতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৫০। এদিন থেকে তাদের অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছে। প্রতিদিন দু’ঘণ্টা করে পড়ানো হবে।
অনলাইনে ক্লাস করতে যাদের মোবাইল নেটওয়ার্ক সহ অন্যান্য সমস্যা হবে, খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিন থেকে মানিকচকের মথুরাপুর মডেল হাইস্কুলে ত্রাণ শিবিরেও ক্লাস শুরু হয়েছে।
গঙ্গা ভাঙন ও প্লাবনের জেরে সোমবার পর্যন্ত মালদহ জেলায় ৫৫টি স্কুলে পঠনপাঠন ব্যাহত হওয়ার খবর ছিল। জল ক্রমেই বাড়তে থাকায় এদিন আরও অনেক স্কুলে ক্লাস সাসপেন্ড করতে হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, প্লাবনের জেরে বর্তমানে জেলায় ৮২টি স্কুলে ব্যাহত হচ্ছে পঠনপাঠন।
এরমধ্যে জলমগ্ন পরিস্থিতির কারণে যেসব হাইস্কুলে একেবারেই ক্লাস করানো যাচ্ছে না, সেগুলি রতুয়ার উদয়পুর হাইস্কুল, ভূতনির চণ্ডীপুর হাইস্কুল, উত্তর চণ্ডীপুর হাইস্কুল, আমতলা নন্দীটোলা হাইস্কুল ও রতুয়ার কাটাহা দিয়ারা হাইস্কুল। সামনেই উচ্চ মাধ্যমিকের সেমেস্টারের পরীক্ষা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক্লাস না হলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে পড়ুয়ারা। একথা মাথায় রেখেই অনলাইনে তাদের ক্লাস করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা।
এদিকে, বন্যা কবলিত এলাকায় অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের পাশাপাশি শিশু ও প্রবীণ নাগরিকদের উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে বলে এদিন জানিয়েছেন জেলাশাসক।
পাশাপাশি ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। সাপে কাটার হাত থেকে রক্ষা পেতে সতর্ক থাকার জন্য প্রচার চালানো হচ্ছে।