নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: মাঝে কয়েকমাস থমকে থাকলেও ফের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী আলু, পেঁয়াজ, আদা, রসুন, কাঁচা লংকা সহ সবজির দাম। স্বাভাবিকভাবেই জুলাইয়ের মাস পয়লায় থলে হাতে বাজারে গিয়ে রীতিমতো হাত পুড়ছে ক্রেতাদের। রায়গঞ্জের বাজারে পেঁয়াজ বিকোচ্ছে ৪০ টাকা প্রতি কেজি। যেখানে গতমাসের প্রথমেও প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম ২০ থেকে ২৫ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করেছে। কয়েকদিন আগেও ৩০ টাকা প্রতি কেজি ছুঁয়ে যায় পেঁয়াজের দাম। সেখান থেকে দিন দুই আগে আচমকা একলাফে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গিয়ে চল্লিশ ছুঁয়েছে। যেভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে, তাতে ক্রেতাদের আশঙ্কা, কয়েকদিনের মধ্যে পেঁয়াজ হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলবে।
শুধু পেঁয়াজ নয়, আলুর দামও বেড়েছে। গত মাসেও আলুর দাম ছিল কেজিপ্রতি ১০ টাকা। বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জের মোহনবাটি, দেবীনগর সহ একাধিক বাজারে সেই আলু বিক্রি হয়েছে ১৫ টাকা কেজি দরে। গত জুন মাসে আড়াইশো গ্রাম আদার দাম ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ছিল। এখন ওই পরিমাণ আদা গ্রাহকদের কিনতে হচ্ছে ৫০ টাকায়। বাজারে গুঞ্জন, নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম শীঘ্রই আরও উর্ধ্বমুখী হবে।
মোহনবাটি বাজারের সবজি ব্যবসায়ী প্রদীপ দাস বলেন, আলু পেঁয়াজ সহ শাকসবজির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে কিছু বলতে পারব না। তবে আমার অনুমান, বর্ষাকালে চাহিদার থেকে জোগান কমে যাওয়াতেই সবজির দাম বেড়েছে। রায়গঞ্জের উকিলপাড়ার বাসিন্দা পিঙ্কি দাস এদিন মোহনবাটি বাজারে যান সবজি কিনতে। সেখানে পেঁয়াজের দাম শুনে অবাক তিনি।
তাঁর প্রতিক্রিয়া, পেঁয়াজের দাম অনেক বেশি মনে হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও পেঁয়াজের দাম ছিল ২৫ টাকা। কিন্তু এদিন দোকানদার বলে, এক কেজি পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা। একইভাবে আলু, আদা, রসুন এবং কাঁচালংকার দামও বাড়ছে।
দাম বৃদ্ধি নিয়ে জেলা কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে খবর, বর্ষার সময় কিছু সবজির জোগান কম থাকে। বৃষ্টির জন্য পেঁয়াজের জোগানও কম থাকে। এছাড়াও পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তেমন কিছু করার থাকে না। কারণ, পেঁয়াজ এখন নাসিক থেকে আসছে। তবে এখন আলুর দাম সেভাবে বাড়েনি।