


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বিপ বিপ শব্দে জ্বলে উঠেছিল শপিং মলের এগজিট গেটের আলো! কিন্তু, সেই সময় ওই গেট দিয়ে যাঁরা বেরচ্ছিলেন, তাঁদের হাতে কোনও শপিং ব্যাগ ছিল না। তাহলে কি পকেটে কিছু রয়েছে? এই ভেবে একজনকে পাকড়াও করতেই অন্যজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। যিনি ধরা পড়েছেন, তাঁর পকেট সার্চ করতে গিয়ে চোখ কপালে নিরাপত্তারক্ষীদের! নতুন জিনস পরেই পালাচ্ছিলেন ওই ‘ক্রেতা’। তার পরনের প্যান্ট খুলতেই দেখা যায়, ভিতরে আরও একটি নতুন প্যান্ট। তার নীচে আরও একটি নতুন জিনস। এভাবে বিভিন্ন সাইজের চারটি প্যান্ট পরেই পিঠটান দেওয়ার মতলবে ছিলেন তিনি। এমনই অভিনব কায়দায় চুরির ঘটনা ঘটেছে সল্টলেকের একটি শপিং মলে। রোহিতকুমার রায় ও আনমল যাদব নামের দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিস।
সল্টলেক শহরের সেক্টর ৩ এলাকায় রয়েছে ওই শপিং মল। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি মলের অডিটে বিক্রিবাটা ও স্টকের মধ্যে বেশ কিছু গরমিল ধরা পড়ে। দেখা যায়, ১ লক্ষ ৪২ হাজার ৩৫৬ টাকার জিনসের প্যান্ট চুরি গিয়েছে। সবক’টি পুরুষদের। এই ঘটনায় কর্তৃপক্ষ নজরদারি বাড়িয়ে দেয়। সন্দেহভাজন কেউ মলে ঢুকে চুরি করছে কি না, সেদিকে প্রখর দৃষ্টি রাখা হয়। তা করতে গিয়েই আসে সাফল্য। গত শনিবার সকাল ১১টা নাগাদ নিরাপত্তারক্ষীরা লক্ষ্য করেন, দুই যুবক মলের ভিতরে ইতস্তত ঘোরাঘুরি করছেন। তাঁদের গতিবিধি সন্দেহজনক। এক সময়ে তাঁদের এগজিট গেট দিয়ে বেরতে দেখা যায়। তখনই বিপ বিপ শব্দে জ্বলে ওঠে একজিট গেটের আলো। এই আওয়াজ সাধারণত পাওয়া যায় জামাকাপড়ে লাগানো ম্যাগনেটিক ট্যাগ থেকে। ফলে ওই দু’জন যে জিনিস চুরি করে পালাচ্ছিলেন, সেব্যাপারে নিশ্চিত হন নিরাপত্তা কর্মীরা। কিন্তু তাঁদের হাতে কোনও ব্যাগ বা প্যাকেট না থাকায় প্রথমে ধরা যাচ্ছিল না। পরে প্যান্টের গায়ে সেই ট্যাগের দেখা মেলে।
তাঁদের আটক করতে গেল আনমল দৌড়ে পালিয়ে যায়। ধরা পড়েন রোহিত। তাঁর পরনে একটার উপর একটা— চারটি জিনস। একেবারে নীচে ৩০, তার উপর ৩২, তার উপরে আবার ৩৪ এবং শেষে ৩৬ সাইজের প্যান্ট। এই ঘটনায় মলের পক্ষ থেকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিস প্রথমে রোহিতকে গ্রেপ্তার করে। তারপর তাঁকে জেরা করে আনমলকেও গ্রেপ্তার করে। দু’জনের বাড়ি বিহারে। থাকেন শিয়ালদহ এলাকায়। কর্তৃপক্ষ পুলিসকে জানিয়েছে, ধৃতরা এর আগেও মলে এসে এভাবে চুরি করেছে বলে জানিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
প্রসঙ্গত, বেশ কয়েকমাস আগেও সল্টলেকের একটি শপিং মল থেকে অভিনব কায়দায় জিনিসপত্র হাতানোর ঘটনা ঘটেছিল। দামি পোশাকের ট্যাগ বদলে তাতে সস্তার ট্যাগ লাগিয়ে প্রচুর শপিং করেছিলেন কয়েকজন পড়ুয়া। কর্তৃপক্ষের নজরে আসায় ‘চুরি বিদ্যা’ সফল হয়নি। সেই পড়ুয়াদেরও যেতে হয়েছিল শ্রীঘরে!